জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে একদিকে যেমন আদিত্য ও পল্লবীর সম্পর্ক আরও একটু কাছাকাছি এসেছে, অন্যদিকে ঝিনুককে ঘিরে সম্রাটের অস্বাভাবিক আচরণ নতুন করে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। সম্রাটের সন্দেহ যেন দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। শুধু ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েই সে থেমে থাকেনি, এবার ঝিনুকের প্রতিটি কথা শোনার জন্য ঘরে মাইক্রোফোনও লাগিয়ে দিয়েছে। ঝিনুক কার সঙ্গে কথা বলছে, ফোনে কী বলছে, এমনকি সম্রাট বাড়িতে না থাকলেও সে কী করছে, সবকিছুই এখন তার নজরদারির মধ্যে। নিজের বাড়িতেই যেন বন্দি হয়ে পড়েছে ঝিনুক, ব্যক্তিগত পরিসর বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
অন্যদিকে কমলাদের বাড়িতে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। পল্লবীর নতুন চাকরি পাওয়ার আনন্দে মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রসাদ নিয়ে হাজির হয় আদিত্য। কমলা, পল্লবী এবং বাড়ির সবার সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি পুজোর ফুলটিও যত্ন করে পল্লবীর মাথায় ছুঁইয়ে দেয় সে। কথায় কথায় যখন কমলা জানান, গাড়ি না থাকায় পল্লবীর পক্ষে প্রতিদিন ঝিনুকের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন আদিত্য নিজেই পল্লবীকে অফিসে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে। আদিত্যের এই ব্যবহার স্পষ্ট করে দেয়, পল্লবীর পাশে থাকার সুযোগ সে কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চাইছে না।
অফিসে যাওয়ার পথে দু’জনের মধ্যে আরও একটি মজার মুহূর্ত তৈরি হয়। গাড়ির পিছনের সিটে বসেছিল পল্লবী, আর সামনে বসে গাড়ি চালাচ্ছিল আদিত্য। সেই দৃশ্য দেখে এক ট্রাফিক পুলিশ ভুল করে পল্লবীকেই গাড়ির মালিক এবং আদিত্যকে ড্রাইভার ভেবে বসেন। পরিস্থিতি সামলাতে পল্লবী সামনের সিটে এসে বসতেই আদিত্যর মুখে ফুটে ওঠে চওড়া হাসি। শুধু তাই নয়, আনন্দে গাড়ি থামিয়ে নেমে গিয়ে ওই ট্রাফিক পুলিশকেই জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানায় সে। আদিত্যর এই সরল ও শিশুসুলভ আচরণ দেখে পল্লবীও হেসে ফেলতে বাধ্য হয়। পরে গাড়িতে যেতে যেতে আদিত্য জানায়, সে পল্লবীর ভালো থাকার জন্য মানত করেছে।
সেই সময় সে বলে, প্রার্থনা বা মানত শুধু মেয়েরাই করবে এমন কোনও নিয়ম নেই, ছেলেরাও প্রিয় মানুষের সুখ ও সাফল্যের জন্য সমানভাবে প্রার্থনা করতে পারে। আদিত্যর এই ভাবনা পল্লবীকেও স্পর্শ করে। এদিকে অফিসে গিয়ে বড় ধাক্কা খায় শ্রীনিবাস। হঠাৎ করেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী মাসেই তার চাকরির চুক্তি শেষ করে দেওয়া হবে। অথচ এখনও পাঁচ মাস চাকরি বাকি ছিল। কারণ জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ শুধু জানায়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এই ঘটনায় শ্রীনিবাস স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। অন্যদিকে অফিসের কাজ শেষ হওয়ার পর পল্লবীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তার অফিসের স্যার।
আরও পড়ুনঃ অরিজিৎ বাদ! ঈশানের কণ্ঠে নতুন দাদাগিরির থিম সং, দেবকে ঘিরে তৈরি হল নতুন জয়গান, কেমন লাগলো আপনাদের?
পল্লবী কী করবে বুঝে উঠতে না উঠতেই সেখানে গাড়ি নিয়ে হাজির হয় আদিত্য। তাকে দেখেই পল্লবীর স্যারের মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়, যা পরবর্তী পর্বের জন্য নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে এই পর্বে একসঙ্গে একাধিক গল্প এগিয়েছে। ঝিনুকের উপর সম্রাটের অতিরিক্ত নজরদারি ভবিষ্যতে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আবার আদিত্য ও পল্লবীর সম্পর্কও ধীরে ধীরে আরও গভীর হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রীনিবাসের চাকরি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং পল্লবীর অফিসকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতি গল্পে আরও টানটান উত্তেজনা যোগ করেছে।
