বাংলা সিনেমায় পরিচালক হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে হওয়ায় তাঁকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বরাবরই বেশি। আগামী ২৪ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের বাংলা ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’। এর আগে বিদেশে পড়াশোনা, থিয়েটার, লেখালিখি এবং বড় ক্যানভাসের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। প্রথমে এই ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখলেও পরে প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতার উৎসাহেই পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন উজান। শুরু থেকেই তিনি জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের পরিচয় নয়, নিজের কাজ দিয়েই দর্শকের বিশ্বাস অর্জন করতে চান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উজানকে প্রশ্ন করা হয়, গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য হওয়াটা তিনি কতটা বিশেষ সুবিধা বলে মনে করেন। উত্তরে একেবারে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের ছেলে হওয়াটা আমার কাছে শুধুমাত্র গেটপাস, বাকিটা বলবে আমার ছবি।” তাঁর কথায়, পরিচিত পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে হয়তো প্রথম সুযোগ বা মানুষের নজর পাওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু একজন পরিচালক হিসেবে শেষ পর্যন্ত মূল্যায়ন হবে তাঁর কাজ দিয়েই। তাই দর্শকের রায়কেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরপর উজানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘কাতুকুতু বুড়ো’ নাম শুনলেই তো হাস্যরসাত্মক ছবির কথা মনে আসে।
তাহলে এমন একটি নামের আড়ালে কীভাবে তিনি সামাজিক বার্তা তুলে ধরবেন? এই প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, “সুকুমার রায়ের বেশিরভাগ ছড়া, বিশেষ করে ‘আবোল তাবোল’-এর কিছু ছড়া ছোট বাচ্চাদের হাস্যরসাত্মকভাবে শেখানো হলেও তার ভেতরের অর্থ অত্যন্ত গভীর। কিভাবে হাসির থালে সমাজের অন্ধকার দিক তুলে ধরা যায়, তিনি দেখিয়েছিলেন। ঠিক যেভাবে শেক্সপিয়ার তাঁর ‘কমেডি অফ এররস’-এ করে দেখিয়েছিলেন, তেমন ভাবনা নিয়েই আমার এই ভাঙাচোরা সুপারম্যানের ভাবনা।” তাঁর মতে, হাসির আড়ালেও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব।
উজান আরও আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি ইচ্ছে করেই বাবা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পরিচালনার কোনও বিশেষ টিপস নেননি। কারণ, শুরু থেকেই নিজের ভাষা এবং নিজস্ব ভাবনার জায়গা তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি। যদিও বাবা-মা দু’জনেই তাঁর কাজ দেখে মতামত দিয়েছেন এবং সবসময় পাশে থেকেছেন। বিদেশে পড়াশোনার সময় থেকেই গল্প লেখা এবং ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই আজ তাঁর প্রথম বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিতে কাজে লেগেছে বলে মনে করেন পরিচালক।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি প্রকাশে কাটল জট! খুব শীঘ্রই ফিরছে সাপ্তাহিক রেটিং তালিকা, বদলাবে টিভি চ্যানেলের প্রতিযোগিতা? জেনে নিন, কী কী বদল আসতে চলেছে নিয়মে?
প্রথম ছবি মুক্তির আগেই উজানের এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে। একদিকে যেমন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে পারিবারিক পরিচয় তাঁর কাছে শুধু একটি সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, অন্যদিকে ‘কাতুকুতু বুড়ো’-র নামের আড়ালে যে গভীর সামাজিক ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে, তাও তুলে ধরেছেন। এখন দেখার, দর্শকের সামনে মুক্তির পর তাঁর এই নতুন ভাবনা এবং পরিচালনা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়। কারণ, উজানের নিজের কথাতেই, শেষ পর্যন্ত সব উত্তর দেবে তাঁর ছবিই।
