জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“গতবার ছয়টা নিলেও এবার একটাও কেমো নিতে পারিনি মা…আইসিউতে চলে গিয়েছিল, ভাবিনি আর ফিরে আসবে, সারা শরীরে লাল…” ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়াতেই দুটো স্ত’নই বাদ, অপা’রেশনের ক্ষ’ত শুকোলেই শুরু হবে পরের ধাপ!” দ্বিতীয়বার ক্যা*ন্সারের বিরুদ্ধে এষা ভট্টাচার্য কঠিন লড়াইয়ের গল্প শোনালেন মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য! বর্তমানে কেমন আছেন অভিনেত্রী?

বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্য দ্বিতীয়বার স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। কিছুদিন আগেই তাঁর মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা একসময় এতটাই সংকটজনক হয়ে পড়েছিল যে তাঁকে আইসিইউতেও ভর্তি করতে হয়। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনুরাগীরা অভিনেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। এবার নতুন একটি ভিডিওতে প্রেরণা মায়ের অস্ত্রোপচার এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত আপডেট দিয়েছেন। তিনি জানান, চিকিৎসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাড়িতে থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন এষা ভট্টাচার্য।

ভিডিওতে প্রেরণা জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত তাঁর মায়ের দুটি স্তনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দিতে হয়েছে। প্রথমে যে স্তনে ক্যান্সার ধরা পড়েছিল, সেটি অপসারণ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঝুঁকি আর না থাকে, সেই কারণেই চিকিৎসকেরা দুটি স্তনই অপসারণের পরামর্শ দেন। প্রেরণার কথায়, তাঁর মা কোনও দ্বিধা না করেই সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন। পরিবারের কাছেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মায়ের সুস্থতা, তাই চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তকেই তাঁরা প্রাধান্য দেন।

তবে অস্ত্রোপচারের দিন পরিস্থিতি একেবারেই সহজ ছিল না। প্রেরণা জানান, অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পর আচমকাই তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সেই সময় চিকিৎসকেরাও কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান এবং অস্ত্রোপচার শুরু করা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং তৎপরতার ফলেই বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো গেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

অস্ত্রোপচারের পর এষা ভট্টাচার্যের শরীরে একটি নল লাগানো হয়েছে, যার মাধ্যমে শরীরের দূষিত রক্ত ও তরল বাইরে বেরিয়ে আসছে। প্রেরণা জানান, প্রতিদিন সেই নল থেকে কতটা রক্ত বের হচ্ছে তা নিয়ম করে মাপতে বলা হয়েছে তাঁকে। এই পরিমাপ দেখেই চিকিৎসকেরা বুঝতে পারছেন তাঁর মা কত দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং শরীর চিকিৎসায় কীভাবে সাড়া দিচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ম মেনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

প্রেরণা আরও জানান, অপারেশনের তিন দিনের মধ্যেই তাঁর মাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এষা ভট্টাচার্য বাড়িতেই রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক যন্ত্রণা যেমন রয়েছে, তেমনই মানসিকভাবেও এই সময়টা খুব কঠিন। তবুও পরিবারের প্রত্যেকে তাঁকে সাহস জোগাচ্ছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। অপারেশনের ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন প্রেরণা।

এই কঠিন সময়েও আশাবাদ হারাননি প্রেরণা ভট্টাচার্য। তাঁর বিশ্বাস, আগেরবারের মতো এবারও তাঁর মা সাহস, মানসিক শক্তি এবং পরিবারের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে জয়ী হবেন। চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে এবং চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অসংখ্য অনুরাগী সমাজমাধ্যমে এষা ভট্টাচার্যের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সকলেরই আশা, এই কঠিন লড়াই জিতে খুব শীঘ্রই তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবন এবং নিজের প্রিয় কাজের জগতে ফিরে আসবেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page