জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিক যত এগোচ্ছে, ততই দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিচ্ছে দেবশঙ্কর হালদার (Debshankar Haldar) অভিনীত ‘শ্রীনিবাস’ চরিত্রটি। সাম্প্রতিক পর্বে তাঁর জীবনের কঠিন পরিস্থিতি, পরিবারের জন্য নিরন্তর লড়াই এবং নিজের সম্মান বিসর্জন দেওয়ার ঘটনাগুলি অনেক দর্শকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গ্যারেজে মিথ্যে অভিযোগের শিকার হওয়া, অপমান সহ্য করেও মাথা নত না করা এবং পরিবারের কথা ভেবে সবকিছু চেপে যাওয়ার দৃশ্য নিয়ে এখন সমাজ মাধ্যমে চলছে বিস্তর আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, এই চরিত্রটি শুধুমাত্র একটি ধারাবাহিকের চরিত্র নয়, বরং আমাদের চারপাশে থাকা হাজারো বাবার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
সাম্প্রতিক পর্বে দেখা যায়, শ্রীনিবাস কাজে বেরোনোর আগে যথারীতি পরিবারের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করেন। কমলার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে তিনি বেরিয়ে যান, কিন্তু তারপরই কর্মস্থলে তাঁকে চক্রান্তের শিকার হতে হয়। নতুন যন্ত্রাংশের বদলে পুরোনো যন্ত্রাংশ লাগানোর অভিযোগ তুলে তাঁকে অপমান করা হয়। অথচ তিনি নিজের সততার উপর ভরসা রেখেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। এরপর ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যার খবর পেয়ে গোটা পরিবার হাসপাতালে ছুটে যায়। এই ঘটনাগুলির পর থেকেই দর্শকদের আবেগ আরও গভীর হয়েছে এবং শ্রীনিবাস চরিত্রটিকে নিয়ে একের পর এক প্রশংসাসূচক মন্তব্য সামনে আসছে।
এর মধ্যেই এক দর্শকের মন্তব্য বিশেষভাবে ভাইরাল হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “শ্রীনিবাস বাবুর চরিত্রটা যেন আমাদের সবার বাবাদেরই প্রতিচ্ছবি। বাবারা এমনই হন। নিজের কষ্ট, নিজের চিন্তা কিংবা নিজের সম্মানের কথা না ভেবে, সারাজীবন সন্তানের আর পরিবারের জন্যই নিজেকে উজাড় করে দেন। নিজের পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। তাঁদের কাছে দায়িত্বই যেন সবকিছু। নিজের জন্য নতুন কিছু না কিনলেও, ছেলে-মেয়ের ছোট্ট চাহিদাটুকু পূরণ করার চেষ্টা করেন। হয়তো পায়ের জুতোটা একেবারে পুরোনো হয়ে গেছে, তবুও নতুন জুতো কেনার কথা ভাবেন না। সেই টাকাটাই সন্তানের টিউশন ফি, স্কুল ফি কিংবা পড়াশোনার খরচের জন্য তুলে রাখেন।
স্বার্থহীন চরিত্রের আরেক নাম বাবা, ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবা।” এই মন্তব্যে অসংখ্য মানুষ সহমত জানিয়েছেন এবং অনেকেই নিজেদের বাবার সঙ্গে শ্রীনিবাসের মিল খুঁজে পেয়েছেন। দর্শকদের মতে, শ্রীনিবাসের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সততা এবং পরিবারের প্রতি অগাধ দায়িত্ববোধ। নিজের কষ্ট বা অপমানকে তিনি কখনও পরিবারের সামনে বড় করে দেখান না। বরং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। এই কারণেই চরিত্রটি এত অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বর্তমান সময়ে এমন বাস্তবধর্মী বাবা চরিত্র খুব কম ধারাবাহিকেই দেখা যায়। তাই শ্রীনিবাসকে ঘিরে দর্শকদের আবেগ দিন দিন আরও বেড়ে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ জীবন ও মৃ’ত্যুর সন্ধিক্ষণে শ্রীনিবাস! সুপর্ণার অভিশাপে হারাবেন স্বামীকে, কমলার অশুভ আশঙ্কাই সত্যি হলো? হাসপাতালে পৌঁছেই ঝিনুককে নিয়ে আরও এক বি*স্ফোরক দৃশ্যের সাক্ষী সম্রাট! এবার কোন দিকে মোড় নেবে সবার জীবন? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের ধুন্ধুমার পর্ব!
‘কমলা নিবাস’-এর গল্পে এখন একদিকে যেমন শ্রীনিবাসের শারীরিক অবস্থার জন্য উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে তাঁর চরিত্র নিয়ে দর্শকদের ভালোবাসাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিনই তাঁর সততা, আত্মত্যাগ এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে নতুন নতুন পোস্ট দেখা যাচ্ছে। গল্পের পরবর্তী পর্বে তাঁর জীবনে কী পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শ্রীনিবাস শুধুমাত্র ধারাবাহিকের একজন চরিত্র নন, বহু দর্শকের কাছে তিনি একজন আদর্শ বাবা হিসেবেই নিজের পরিচয় তৈরি করে ফেলেছেন।
