জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ভানুর মতো একজন বন্ধু সবার জীবনে থাকা দরকার!” “অন্যসব খলচরিত্রের মতো নায়কের ক্ষ’তি করে নায়িকাকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা নেই, বাস্তবকে মেনে নিয়ে নিশার পাশে আছে” ফের দর্শকদের মন জিতে নিল রৌনক খানের অভিনয়, ‘জোয়ার ভাঁটা’য় ভানুর বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রশংসায় ভরছে সমাজ মাধ্যম! আপনাদের কেমন লাগছে?

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’য় (Jowar Bhanta) গল্পের মোড় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে একাধিক চরিত্রের অবস্থানও। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভানু। শুরুতে নিশার ছায়াসঙ্গী হিসেবেই তাকে দেখানো হতো। নিশার প্রতিটি পরিকল্পনায় সে পাশে থাকত, আবার মনের গভীরে নিঃশব্দে তাকে ভালোও বাসত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিশা ও জিতের সম্পর্ক স্পষ্ট হওয়ার পর ভানুর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনই এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে নিশা, জিৎ এবং তাদের চারপাশের সংঘাত যত এগোচ্ছে, ততই ভানুর পরিণত আচরণ দর্শকদের আলাদা করে আকৃষ্ট করছে।

একসময় জিতকে নিয়ে ভানুর মনে প্রবল বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। নিশাকে ভালোবাসার কারণে সে জিতকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। সেই সময় এই আচরণ নিয়ে অনেক দর্শকই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নির্মাতারা ধীরে ধীরে চরিত্রটিকে অন্য পথে নিয়ে গিয়েছেন। প্রতিশোধ বা ষড়যন্ত্রের রাস্তা না বেছে ভানু বাস্তব পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছে। নিশার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে তার বন্ধু হিসেবেই পাশে থাকার পথ বেছে নিয়েছে। এই পরিবর্তনকে অনেকেই ধারাবাহিকের অন্যতম সফল চরিত্র বিকাশ বলে মনে করছেন। এমনকি পুরনো প্রেমের ত্রিভুজকে ঘিরে যে আশঙ্কা ছিল, সেটিকেও অন্যভাবে দেখানো হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে এই পরিবর্তন নিয়ে এক দর্শক লিখেছেন, “সবার জীবনে ভানুর মতো একজন বন্ধু থাকা দরকার। ভানুর চরিত্রের বিকাশটা খুব ভালো লাগল। শুরু থেকেই নিশার ছায়াসঙ্গী হিসেবে ভানুকে দেখানো হচ্ছিল। এরপর নিশার প্রতি একতরফা ভালোবাসা সবার মন জিতে নেয়। কিন্তু নিশা আর জিৎ একে অপরকে ভালোবাসে এটা জানার পর ভানুর জিতের প্রতি যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়, সেটাই দর্শকদের ভালো লাগছিল না। আর এখানেই নির্মাতারা ভানুর চরিত্রের মধ্যে সেই পরিবর্তনটা আনলেন, যেটা আমরা অনেকদিন ধরে চাইছিলাম। অন্যসব খলচরিত্রের মতো নায়কের ক্ষতি করে নায়িকাকে কেড়ে নেওয়ার পথে না গিয়ে বাস্তবকে মেনে নিয়ে নিশার বন্ধু হয়ে পাশে থাকাটাই ভানু চরিত্রের আসল মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। নিশ্চিতই জিৎ বসুর অন্য কোনও মতলব আছে থেকে আজ জিৎ যা করছে, সেটা ভালোবাসার জন্য করছে এই উপলব্ধিতে পৌঁছেছে ভানু।

ভানু সত্যিই মন জিতে নিয়েছে। এটাই নিখুঁত চরিত্র বিকাশ। রৌনক খান দা, তুমি ভানু চরিত্রে অসাধারণ করছ। তোমার আর শ্রুতি দাস দির বন্ধুত্ব যেন পর্দার বাইরে এবং পর্দার সামনেও এমনই থাকে।” দর্শকদের একাংশের মতে, ভানুকে যদি অন্য ধারাবাহিকের প্রচলিত প্রেমে ব্যর্থ চরিত্রের মতো দেখানো হতো, তাহলে হয়তো গল্পটা খুব সাধারণ হয়ে যেত। কিন্তু এখানে তাকে আরও পরিণত, সংযত এবং সম্পর্কের মূল্য বোঝে এমন একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নিজের অনুভূতিকে চাপা দিয়ে নিশার ভালো থাকাকেই গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বাস্তবসম্মত লেগেছে।

সেই কারণেই এখন ভানুর প্রতি সহানুভূতি নয়, বরং সম্মানও বেড়েছে দর্শকদের মধ্যে। সব মিলিয়ে ‘জোয়ার ভাঁটা’য় ভানুর চরিত্র এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেই মনে করছেন দর্শকরা। শুধু প্রেমে ব্যর্থ একজন যুবক নয়, বরং কঠিন বাস্তবকে মেনে নিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আগলে রাখার মানসিকতাই তাকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে রৌনক খানের অভিনয়েরও প্রশংসা করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, গল্পের এই পরিবর্তনের ফলে ভানু এখন ধারাবাহিকের অন্যতম প্রিয় চরিত্র হয়ে উঠেছে এবং আগামী দিনে তার যাত্রাপথ কীভাবে এগোয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page