জি বাংলার ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে শিরীনের জীবনে এসেছে একেবারে নতুন মোড়। যে শিরীন একসময় পারুল ও তার মায়ের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে, আজ সেই শিরীনই তাঁদের আপনজন হয়ে উঠেছে। এমনকি পারুলকে নিজের মেয়ে হিসেবে মেনে নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তার মা। অন্যদিকে শিরীনও পারুলের প্রতি নিজের মনের পরিবর্তন স্পষ্ট করে দিয়েছে। পারুলকে সে সরাসরি বলেছে, ‘আই লাভ ইউ’। একসময় যেখানে দুজনের মধ্যে ছিল তীব্র বিরোধ এবং ভুল বোঝাবুঝি, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ অন্য ছবি। শিরীনের এই বদলে যাওয়া সম্পর্কের সমীকরণই এখন ‘পরিণীতা’র গল্পে নতুন আবেগ তৈরি করেছে।
এর আগে শিরীনের জীবন কার্যত তছনছ হয়ে যায় নিজের জন্মদাত্রী মা সিঞ্জিনির চক্রান্তে। পুরোনো বিলাসবহুল জীবনে ফেরার লোভ দেখিয়ে সিঞ্জিনি শিরীনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। হাসপাতালে রোগীর ছদ্মবেশে লোক পাঠিয়ে শিরীনের স্যালাইনে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেওয়ার চক্রান্তও করা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে পারুল ও রায়ান সেই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। নিজের মায়ের এমন ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিরীন। অপরাধবোধে সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়। কিন্তু পারুল, রায়ান এবং তাদের বাবা সময়মতো সেখানে পৌঁছে শিরীনকে উদ্ধার করেন।
এই ঘটনার পর শিরীনের মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটাই এখন ধারাবাহিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অতীতে পারুল এবং তার মায়ের ক্ষতি করার জন্য শিরীন যে সমস্ত চেষ্টা করেছিল, সেই ভুলগুলোর উপলব্ধি তার মধ্যে তৈরি হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত কিছুর পরেও পারুলের পরিবার শিরীনকে দূরে সরিয়ে দেয়নি। বরং পারুলের মা তাকে নিজের মেয়ে বলে আপন করে নিয়েছেন। পুরোনো রাগ, অভিমান কিংবা প্রতিশোধের কথা না ভেবে তাঁরা শিরীনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই গ্রহণযোগ্যতাই শিরীনের জীবনে নতুন করে পরিবার এবং ভালোবাসার অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছে। ফলে যে সম্পর্ক একসময় ঘৃণা ও বিরোধে ভরা ছিল, সেটিই এখন ধীরে ধীরে ভালোবাসার সম্পর্কে বদলে যাচ্ছে।
এদিকে টগরের জীবনেও এসেছে সুখবর। পরিবারের সকলের চেষ্টায় টগর ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বসু বাড়িতে সবাই মিলে তাকে বল ছুঁড়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। অবশেষে নিজের শক্তিতে দাঁড়িয়ে টগর বলটি ধরে ফেলে। সেই মুহূর্তে আনন্দে ভরে ওঠে গোটা পরিবার। টগরের মুখে শোনা যায়, ‘আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি দিদি।’ অন্যদিকে সৌমিত্রও পারুলের নিঃস্বার্থ ভূমিকার প্রশংসা করে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘তোমার মতো মেয়ে যেন প্রত্যেক বাবার হয়।’
আরও পড়ুনঃ “চুপ থাকলেই কি ভালো?” “মুখ খুললেই নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হচ্ছে কেন?” শিল্পীদের নীরবতা নিয়ে এবার মুখ খুললেন টোটা রায়চৌধুরী! “মরার আগে মরব না” বলে স্পষ্ট করলেন রাজনীতিতে নিজের অবস্থান?
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন অবশ্য দেখা যাচ্ছে শিরীন, পারুল এবং রায়ানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। যে শিরীনকে একসময় পারুলের জীবনের কাঁটা হিসেবে দেখা হত, সেই শিরীনই এবার পারুল ও রায়ানের সম্পর্ককে এগিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পারুলের হাত রায়ানের হাতে তুলে দিয়ে শিরীন তাঁদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি রায়ানকে পারুলকে ‘আই লাভ ইউ’ বলার জন্যও উৎসাহিত করেছে সে। নিজের মায়ের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার পর পারুলের পরিবার যে ভাবে তাকে আপন করে নিয়েছে, তার প্রতিদান যেন এভাবেই দিতে চাইছে শিরীন। একসময় যে মানুষগুলোকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, আজ তাঁদেরই নিজের মানুষ হিসেবে মেনে নিয়েছে সে। তাই ‘পরিণীতা’র সাম্প্রতিক পর্বে শিরীনের এই পরিবর্তন এবং পারুলের মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসাই দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গা হয়ে উঠেছে।
