রবীন্দ্রসঙ্গীত শুধু গান নয়, শোভন চক্রবর্তীর কাছে তা জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ভালোবাসা। ছোট বয়স থেকেই গান শেখা শুরু তাঁর। পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত ভবনেও পড়াশোনা করেন। একসময় গান শেখানোই ছিল তাঁর আয়ের অন্যতম পথ। কিন্তু করোনা অতিমারির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। একের পর এক ছাত্রছাত্রী কমতে থাকায় বন্ধ হয়ে যায় তাঁর গানের ক্লাস। সংসার চালানোর জন্য শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীর কাজ বেছে নিতে হয় তাঁকে।
নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালন করলেও গান থেকে দূরে সরে যাননি শোভন। কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যেই রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন তিনি। এমনই একটি ভিডিয়োয় তাঁকে ‘শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে’ গানটি গাইতে দেখা যায়। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি পরিচিত হয়ে ওঠেন শোভন। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ১৫ দিন আগে সেক্টর ফাইভের একটি অফিসে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরিটি হারান তিনি।
শোভনের দাবি, তাঁর গান গাওয়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর অফিস কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডেকে পাঠায়। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, এইভাবে গান গাইতে গাইতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করা সম্ভব নয়। তাঁকে নাকি গান নিয়েই এগিয়ে যেতে বলা হয়। চাকরি চলে যাওয়ার পর ফের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন চল্লিশ ছুঁইছুঁই শোভন। অথচ এর আগে গান শেখানো এবং পড়ানোর মাধ্যমে কোনওরকমে সংসার চালিয়ে নিতেন তিনি। অভাবের কারণে গান ও পড়াশোনার নানা সুযোগ ছাড়তে হলেও নিজের গানের প্রতি ভালোবাসা কখনও হারাননি।
বর্তমানে বেহালার সখের বাজারে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে থাকেন শোভন। চাকরি হারানোর পর কিছু গানের টিউশন পাচ্ছেন এবং অনলাইনেও কয়েকটি ক্লাস নিচ্ছেন। তবে সেই আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে গান শেখানোর প্রস্তাব এলেও দূরত্বের কারণে সব জায়গায় যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ যাদবপুর থেকে ফোন করছেন, কেউ আবার দমদম থেকে। আবার অনেক পড়ুয়া অনলাইনে গান শিখতেও আগ্রহী নন। ফলে নতুন করে কাজ খুঁজছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “ছোট হয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে থা’প্পড় দেখানো হচ্ছে ধারাবাহিকে, এটা মেনে নেওয়া যায় না!” “গল্পের প্রয়োজনে সবকিছু দেখানো যায় না, দর্শকদের কথাও ভাবতে হবে!” বিনোদনের নামে মা’রধর থেকে ধ*র্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়, অতিরিক্ত ঘনি’ষ্ঠ দৃশ্য, বাংলা ধারাবাহিকের উপস্থাপনা নিয়ে দর্শকদের একাংশের ক্ষোভ তুঙ্গে!
অর্থসাহায্য নয়, নিজের গান শেখানোর দক্ষতা দিয়েই ফের উপার্জনের সুযোগ চান শোভন। তাঁর আবেদন, কেউ যদি রবীন্দ্রসঙ্গীত বা গান শিখতে চান, তাহলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। গান শেখানোর মাধ্যমেই নিজের সংসার চালাতে চান তিনি। একসময় যে গান ছিল তাঁর রুজির পথ, সেই গানই আবার তাঁকে নতুন করে দাঁড়ানোর সুযোগ দেবে, এমনই আশা শোভনের। ভাইরাল ভিডিয়োর পর পরিচিতি পেলেও এখন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি স্থায়ী কাজের সুযোগ।
