জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্প যত এগোচ্ছে, ততই সম্রাট ও ঝিনুকের সম্পর্কের অস্বস্তিকর দিকটি সামনে আসছে। আগের পর্বে পার্টিতে ঝিনুকের গলায় নিজের পছন্দের গান শুনে সম্রাটের পুরনো আবেগ যেন ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এরপর মাঝরাতে ঘুমন্ত ঝিনুককে জাগিয়ে সেই গান বারবার গাওয়াতে থাকে সে। গলা ব্যথা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সম্রাটের জেদের কাছে ঝিনুককে একের পর এক গান গেয়ে যেতে হয়। সম্রাটের এই আচরণে তার ভালোবাসার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতাটাও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আগামী পর্বে ঝিনুকের পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে চলেছে। কারও সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে রীতিমতো ক্ষেপে যায় সে। নিজের রাগ সামলাতে না পেরে ফোনসহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলতে শুরু করে ঝিনুক। দূরে অফিসে বসে সিসিটিভির মাধ্যমে তার এই আচরণ দেখতে পায় সম্রাট। ঝিনুককে এভাবে উত্তেজিত অবস্থায় দেখে একদিকে তার মধ্যে এক ধরনের সন্তুষ্টি তৈরি হলেও, একইসঙ্গে তার রাগও বাড়তে থাকে। কারণ সম্রাটের চাওয়া, ঝিনুক যেন তাকে ছাড়া বাড়ির বাইরে না যায় এবং নিজের ইচ্ছেমতো কোনও সিদ্ধান্তও না নেয়।
তবে সম্রাটের এই নিয়ন্ত্রণ আর সহ্য করতে রাজি নয় ঝিনুক। দিনের পর দিন বন্দি জীবনের মতো পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে থাকতে এবার সে নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়। সম্রাটের বাড়িতে থেকে তার এই মানসিক চাপ আর অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে ঝিনুক জানিয়ে দেয়, সে আর এই বাড়িতে থাকবে না। শুধু কিছুদিনের জন্য নয়, এই বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে চিরতরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিতে দেখা যাবে তাকে। ফলে ঝিনুক সত্যিই সম্রাটের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারবে কি না, সেটাই এখন গল্পের বড় প্রশ্ন।
এদিকে ‘কমলা নিবাস’-এর অন্য গল্পেও চলছে নতুন সম্পর্কের পরিকল্পনা। সুপর্ণা আদির জন্য বর্তমান বিধায়কের মেয়ের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে এগিয়ে যায়। আদির মা-ও মেয়েটিকে দেখে পছন্দ করে ফেলেন। এমনকি পরিকল্পনা করে মন্দিরে আদির সঙ্গে সেই মেয়েটির দেখাও করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে ফিরে আদির বাবাকে জানানো হয় যে আদির জন্য মেয়ে পছন্দ করা হয়েছে। হঠাৎ বিয়ের কথা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে যায় আদি। তার অজান্তেই যে এতদূর পর্যন্ত পরিকল্পনা এগিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পেরে এবার সে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাও দেখার।
আরও পড়ুনঃ মা ছিন্ন’মস্তা রূপে ন’গ্ন নাচ, ভিউস বাড়ানো, ভাইরাল হওয়াই মূল লক্ষ্য? হিন্দু দেবদেবীই কেন? আনন্দী সাহার নাচের ভিডিয়ো ঘিরে ক্ষু’ব্ধ নেটপাড়া
অন্যদিকে মিঠির স্কুলে ভর্তি হওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে পল্লবীর পরিবারেও অস্বস্তি তৈরি হবে। পল্লবীর বড় দিদি মিঠির পড়াশোনার খরচ নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করে। ভালো স্কুলে পড়ার খরচ কে বহন করবে, শ্রীনিবাস বাবু নাকি অন্য কেউ, এই প্রশ্ন তুলে মিঠিকে খোঁচা দিতে থাকে সে। কথাগুলো শুনে পল্লবী যথেষ্ট কষ্ট পায়। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রীনিবাস বাবুও নিজের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। কিছুদিন পর অফিস ছেড়ে দিতে হবে, এই ভাবনাই তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে। ফলে ঝিনুক-সম্রাটের টানাপোড়েন, আদির অজান্তে বিয়ের পরিকল্পনা এবং মিঠির পড়াশোনা নিয়ে পরিবারের কটাক্ষ, সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর আগামী পর্বে একসঙ্গে একাধিক গল্প নতুন মোড় নিতে চলেছে।
