টলিউডের পরিচিত খলনায়িকা মানসী সেনগুপ্ত এবার পা রাখলেন রাজনীতির ময়দানে। বুধবার ভারতীয় জনতা মজদুর সেল বা বিজেএমসিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডিসট্রিক্ট ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার নতুন ভূমিকাতেও দেখা যাবে মানসীকে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন সরকারের সমালোচনা করে পরিচিতি তৈরি করতে চান না। বরং নিজের কাজের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পরিচিত হতে চান তিনি।
বিজেএমসিতে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খোলেন মানসী। তিনি বলেন, “আমি রুলিং পার্টির সঙ্গে সেভাবে কখনোই যুক্ত ছিলাম না।” তাঁর দাবি, কোনও মিটিং বা মিছিলে তিনি যেতেন না, কারণ তাঁর মতাদর্শ আলাদা ছিল। তবে অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। কিছু অনুষ্ঠানে গিয়ে পারিশ্রমিকও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মানসী। তবে সেই কারণে প্রাক্তন সরকারের কাজ বা ভুল নিয়ে কোনও বিতর্কে যেতে চান না তিনি। কার কী ভুল, কে কী খারাপ করেছে, তা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়িতে বিশ্বাসী নন বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
মানসীর কথায়, “মানুষের কীসে ভালো হবে সেটার দিকে লক্ষ রাখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমি সমালোচনার কারণে চর্চায় থাকতে চাই না। আমি আমার কাজ নিয়ে চর্চায় থাকতে চাই।” অর্থাৎ রাজনীতিতে এসেও বিতর্ক বা পরস্পরকে দোষারোপের পথে হাঁটতে চান না অভিনেত্রী। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বিজেএমসির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। মানসী বলেন, “ওঁরা আমায় নির্বাচিত করেছেন। আমি তার জন্য খুবই গ্রেটফুল।” এরপরই তিনি জানান, “আমার মাথা নত থাকবে তাঁদের কাছে সারাজীবন।” আগামী দিনে সংগঠনের তরফে যে ভাবে তাঁকে পথ দেখানো হবে, সেই পথেই চলবেন বলেও জানিয়েছেন মানসী।
অভিনেত্রীর রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ মানসীর নতুন ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ কটাক্ষও করেছেন। একজন লিখেছেন, “আশা করি রাজনীতিতেও তুমি দাপিয়ে বেড়াবে।” অন্য একজনের মন্তব্য, “সে কি! মানসীও এবার গেরুয়া দলে।” আবার আরেকজন লিখেছেন, “জলদি বুঝে গিয়েছে কোন দিকে গেলে সুবিধা পাবে।” তবে BJMC-কে নিয়ে একটি বিষয়ও স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারতীয় জনতা মজদুর সেল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সরাসরি কোনও সাংগঠনিক শাখা বা অনুমোদিত অঙ্গসংগঠন নয়, যদিও সংগঠনটি নিজেদের বিজেপি-সমর্থিত বলে দাবি করে।
আরও পড়ুনঃ শ্যামৌপ্তির সঙ্গে সাত মাসের বৈবাহিক সম্পর্ক ভাঙ্গ’নের মুখে! এবার অভিকার জন্মদিনে আদুরে বার্তা রণজয়ের
এদিকে রাজনীতিতে পা রাখার কিছুদিন আগেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খবরের শিরোনামে ছিলেন মানসী। মাসখানেক আগে নিজের বিবাহবিচ্ছেদের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিজের কাছেই রেখে মানুষ করছেন তিনি। এর আগেও তাঁর দাম্পত্য জীবনে সমস্যার কথা সামনে এসেছিল। তবে সেই সময় প্রথম সন্তান, অর্থাৎ মেয়ের কথা ভেবে দুজনে সম্পর্ক ঠিক করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এক পুত্রসন্তানেরও মা হন মানসী। স্বামীর সঙ্গে ছবি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একসময় ছেলের পিতৃপরিচয় নিয়েও তাঁকে ট্রোল করেছিলেন কিছু নেটিজেন, যদিও নেতিবাচক মন্তব্যকে কখনও গুরুত্ব দেননি তিনি এবং প্রয়োজনে কড়া জবাবও দিয়েছেন।
