জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’-এর (kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে একসঙ্গে একাধিক চরিত্রের জীবনে নতুন জটিলতা তৈরি হতে দেখা গেল। সম্রাটের আচরণ নিয়ে যেমন বাড়ির সদস্যদের মধ্যে নতুন করে চিন্তা বাড়ছে, তেমনই শান্তনুর ব্যবসায়িক বিপর্যয়ও পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। অন্যদিকে পল্লবীর সঙ্গে দেখা করার আগে আদিত্যর পরিকল্পনাতেও তৈরি হয়েছে অপ্রত্যাশিত সমস্যা। ফলে একাধিক গল্পের সূত্রকে সামনে রেখেই এগিয়েছে ধারাবাহিকের পর্ব।
সম্রাটের মানসিক সমস্যার প্রভাব তার স্বাভাবিক জীবনযাপনেও স্পষ্ট। ঘরের কোনও জিনিস সামান্য এদিক-ওদিক থাকলেই সে তা সহ্য করতে পারে না। রাজু এবং ঠাকুমার উপস্থিতিতে ঘর কিছুটা অগোছালো হয়ে যাওয়ার পরও তার প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ উগ্র। পরিস্থিতি সামলানোর বদলে সম্রাট নিজেই আচমকা ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করে দেয়। তার এই আচরণ দেখে ঝিনুকও বুঝতে পারে, বিষয়টি আর পাঁচটা সাধারণ রাগের মতো নয়।
সম্রাটকে শান্ত করতে ঝিনুক দ্রুত এগিয়ে আসে। সে নিজেই ঘরের সমস্ত কিছু গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলে তাকে থামানোর চেষ্টা করে। ঝিনুকের এমন আচরণ দেখে কমলার মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। কারণ বাপের বাড়িতে ঝিনুককে যে স্বাধীনচেতা ও নিজের মতো করে চলা মেয়ে হিসেবে দেখা গিয়েছিল, এখন শ্বশুরবাড়িতে তাকে একেবারেই অন্যরকম মনে হচ্ছে। কমলার ভাবনা, ঝিনুক কি সত্যিই সংসারের প্রতি এতটা মনোযোগী হয়ে উঠেছে, নাকি সম্রাটের আচরণ এবং তার মানসিক সমস্যার প্রভাবেই ঝিনুক নিজের স্বাভাবিক স্বভাব বদলাতে বাধ্য হচ্ছে?
এদিকে ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতির পর শান্তনুর সমস্যাও ক্রমশ বাড়ছে। বাজারে দেনা হয়ে যাওয়ায় পাওনাদারদের চাপ সামলাতে পারছে না সে। এমনকি একদল লোক প্রকাশ্যেই শান্তনুকে হুমকি দেয় এবং টাকা না মেটালে তার স্ত্রী প্রীতিকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। বিপদের মুখে পড়ে শান্তনু তাদের কাছে সময় চেয়ে অনুরোধ করতে থাকে। ফলে ব্যবসার ক্ষতির প্রভাব যে এবার তার ব্যক্তিগত জীবনেও এসে পড়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার জীবনের সবচেয়ে ধারাবাহিক শিক্ষক তুমি…’ শিক্ষক দিবসে হাজার বাঁশের ছবি দিয়ে কাকে শুভেচ্ছা ঋতাভরীর?
অন্যদিকে পল্লবীর সামনে নিজের ভাবমূর্তি আরও ভালো করার চেষ্টায় নতুন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে আদিত্য। তার হয়ে প্রশংসা করার জন্য পাঠানো লোকজন বিষয়টি সামলাতে গিয়ে উল্টে এমন কিছু বলে ফেলে, যাতে পুরো ব্যাপারটাই আদিত্যের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বন্ধুদের কাছ থেকে সেই কথা জানতে পেরে সে নিজেই বুঝতে পারে না কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে। এর মধ্যেই পল্লবীর ফোন আসে এবং সে আদিত্যকে দ্রুত দেখা করতে বলে। ফলে পরবর্তী পর্বে পল্লবীর সঙ্গে আদিত্যর এই সাক্ষাৎ কী নতুন পরিস্থিতি তৈরি করে, আর সম্রাট-ঝিনুকের সম্পর্কের টানাপোড়েনই বা কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।
