জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ? উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শাড়ি ঘিরে তুমুল বিতর্কের পরেও ‘কুছ পরোয়া নেহি’? ফের উত্তম-সুচিত্রার প্রিন্টের শাড়ি পড়ে অনুষ্ঠানে হাজির অভিনেত্রী! মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে ঋতুপর্ণার অভিনব শাড়ির বাহার নিয়ে অব্যাহত নেটপাড়ার কটাক্ষ!

মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ ঘিরে কলকাতা জুড়ে যখন আবেগ আর নস্ট্যালজিয়ার পরিবেশ, তখনই অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের বিশেষ শাড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা পরেছিলেন বিশেষভাবে তৈরি একটি শাড়ি। ঘিয়ে রঙের সেই শাড়িতে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের ‘সপ্তপদী’ ছবির জনপ্রিয় দৃশ্য, এমনকী আঁচলে ছিল ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’-এর স্মরণীয় মুহূর্ত। মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। অনুষ্ঠানে তাঁর এই সাজ নজর কেড়েছিল দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎ-সহ একাধিক তারকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর শাড়ির প্রশংসা করেছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের তীব্র কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে ঋতুপর্ণাকে। মহানায়ককে স্মরণ করার জন্য তাঁর শাড়িতে উত্তম-সুচিত্রার ছবি ব্যবহার করাটাই অনেকের পছন্দ হয়নি। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, শাড়ির আঁচল যেভাবে বারবার পায়ের কাছে চলে আসছে, সেখানে সেই আঁচলে থাকা উত্তম কুমারের ছবি কার্যত পায়ের কাছে চলে যাচ্ছে কি না। এক নেটিজেনের বক্তব্য, “ঋতুপর্ণা যেটা করেছে সবার কাছে ভালো লাগলো, আমার কাছে ভালো লাগেনি।” এরপরই তাঁর প্রশ্ন, “ওই যে আঁচলটা বারবার পায় লাগছে তার মানে উত্তম কুমারকে অসম্মান করা হচ্ছে, যখন বসবে পাছার তাল উত্তম কুমার থাকবে, এটা কি ভালো লাগে? কারণ আমার তো লাগে না।” অর্থাৎ শ্রদ্ধা জানানোর এই অভিনব ভাবনাকেই উল্টে অসম্মানের চোখে দেখছেন নেটপাড়ার একাংশ।

বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে মহানায়ক উত্তম কুমারেরই একটি পুরনো গানের কথা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই প্রসঙ্গ টেনে কেউ লিখেছেন, “পাছাপেড়ে শাড়ি হয়ে দুলবো তোমার কোমরে, তোমরা যে যা বলো আমারে!” উত্তম কুমারের ‘মৌচাক’ ছবির সেই জনপ্রিয় গানের প্রসঙ্গ টেনে ঋতুপর্ণার শাড়ি নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। কেউ আবার সরাসরি লিখছেন, “বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ”, অর্থাৎ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এমন একটি পোশাক বেছে নেওয়াকে তাঁরা মোটেই সমর্থন করছেন না। যদিও অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, মহানায়কের সিনেমা, গান ও স্মরণীয় মুহূর্তকে শাড়ির মাধ্যমে তুলে ধরার মধ্যে অসম্মানের কোনও প্রশ্নই নেই। বরং এত বড় একটি উপলক্ষে তাঁকে নিজের মতো করে শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। ফলে একই শাড়ি কারও চোখে আবেগের প্রকাশ, আবার কারও চোখে তা হয়ে উঠেছে বিতর্কের কারণ।

এই বিতর্কের মাঝেই ঋতুপর্ণার পাশে দাঁড়িয়ে ট্রোলারদের জবাব দিয়েছেন অভিরূপ। তাঁর দাবি, এই শাড়ি কোনও সাধারণ ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ছিল না, মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এমনকী উত্তম কুমারের পরিবারের অনুমতি ও সম্মতি নিয়েই অভিনেত্রী এই শাড়ি পরেছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে বাংলা-সহ একাধিক ভাষার ছবিতে কাজ করা ঋতুপর্ণাকে শুধুমাত্র একটি শাড়ি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাধ্যমে বিচার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে প্রচারের আলোয় থাকার জন্যই অভিনেত্রী এমন করেছেন, এই অভিযোগও তিনি মানতে নারাজ। অন্যদিকে ঋতুপর্ণা নিজেও ট্রোলিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। নেতিবাচক মন্তব্য প্রসঙ্গে তাঁর সাফ বক্তব্য, “পাগলের কথায় কান দিই না!”

ফলে মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঋতুপর্ণার এই শাড়িই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চার অন্যতম বিষয়। একই পোশাককে ঘিরে যেমন কেউ দেখছেন উত্তম-সুচিত্রার স্মৃতি ধরে রাখার সুন্দর প্রয়াস, তেমনই অন্য একাংশের প্রশ্ন, মহানায়কের ছবি যদি পায়ের কাছে চলে আসে, তাহলে সেটিকে কি সত্যিই শ্রদ্ধার্ঘ্য বলা যায়? ‘সপ্তপদী’র সেই অমর দৃশ্য থেকে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, সবটাই শাড়ির নকশায় তুলে ধরেছিলেন ঋতুপর্ণা, কিন্তু সেই ভাবনাই এখন প্রশংসার পাশাপাশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটি শ্রদ্ধা, নাকি শ্রদ্ধার নামে ভুল ভাবনা, সেই প্রশ্নেই সরগরম নেটপাড়া। আর ঋতুপর্ণার অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট, সমালোচনা থাকলেও মহানায়ককে নিজের মতো করে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসছেন না।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page