কয়েক মাস আগের সেই কঠিন সময়ের কথা ফের মনে করলেন অঙ্কুশ হাজরা। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চের খুদে রোদ্দুর চট্টোপাধ্যায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে কার্যত ছুটে গিয়েছিলেন অভিনেতা। মাত্র পাঁচ বছরের শিশুটি ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেই সময় রোদ্দুরকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে অঙ্কুশেরও মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ছোট্ট ছেলেটিকে এমন অবস্থায় দেখে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি।
রোদ্দুরকে ঘিরে অঙ্কুশের আলাদা একটা টান তৈরি হয়েছিল ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চ থেকেই। অনুষ্ঠানের মঞ্চে খুদে রোদ্দুরের দুষ্টুমি, নাচ আর হাসি দর্শকদের পাশাপাশি অঙ্কুশেরও মন জয় করেছিল। তাই আচমকা তার গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে চুপ করে থাকতে পারেননি অভিনেতা। প্রথমে ফোন ও ভিডিও কলে রোদ্দুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। তখনই রোদ্দুর নাকি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, অঙ্কুশ আঙ্কেল কবে আসবেন।
রোদ্দুরের সেই কথাই অঙ্কুশকে আরও আবেগপ্রবণ করে দিয়েছিল। অভিনেতা জানিয়েছেন, খবরটি শোনার পর আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। হাসপাতালে গিয়ে যখন দেখেন, যে শিশুটি কিছুদিন আগেও মঞ্চে হাসতে হাসতে ছুটে বেড়াত, সেই রোদ্দুরই এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছে, তখন দৃশ্যটা তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টের ছিল। তবে অঙ্কুশকে সামনে পেয়ে রোদ্দুরের মুখে হাসি ফুটেছিল, আর সেটাই অভিনেতার কাছে ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
রোদ্দুরের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তার পরিবারের তরফ থেকেও সাহায্যের আবেদন করা হয়েছিল। ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে ছোট্ট শিশুটির দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সেই কঠিন সময়ে বহু মানুষ নিজের মতো করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অঙ্কুশও নিজের জায়গা থেকে রোদ্দুরের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তাঁর এই উদ্যোগ অনুরাগীদেরও আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।
একসময় যে রোদ্দুর ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চে প্রাণচাঞ্চল্য ছড়াত, তার অসুস্থতার স্মৃতি এখনও অঙ্কুশের মনে স্পষ্ট। কাজের সূত্রে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলেও কিছু মানুষ যে অল্প সময়েই খুব কাছের হয়ে ওঠেন, রোদ্দুর যেন তারই উদাহরণ। খুদের সঙ্গে অঙ্কুশের সেই সম্পর্কই হয়তো তাঁকে এতটা নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই রোদ্দুরের অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সেই মুহূর্ত আজও অভিনেতার মনে আলাদা জায়গা করে রয়েছে।
