জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের গল্প মূলত দুই বোনকে ঘিরে হলেও সাম্প্রতিক পর্বের কিছু দৃশ্য দেখে দর্শকদের একাংশের মনে হচ্ছে, নিশার জীবনে স্বামী জিৎ-এর ভূমিকাটাও আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখানো দরকার। নিশাকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে উজি একা ছুটে যায়নি, তার সঙ্গে ঋষি এবং খেয়াও এসে হাজির হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে জিৎ-এর অনুপস্থিতিই দর্শকদের চোখে পড়েছে। কারণ নিশার রাজনৈতিক শত্রু কারা, কারা তার ক্ষতি করতে পারে এবং তাকে কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, তা জিৎ-এর থেকেই সবচেয়ে ভালো জানা। এমনকী সে নিয়মিত নিশাকে সাবধানও করে। তাই হঠাৎ বিপদে উজি পৌঁছে গেলেও জিৎ সেখানে থাকল না, এই বিষয়টি অনেকের কাছেই চরিত্রের ধারাবাহিকতার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায়নি।
দর্শকদের মতে, শুধু দুই বোনের সম্পর্ক দেখালেই গল্পের সবটা পূর্ণ হচ্ছে না। উজি-ঋষি এবং জিৎ-নিশার সম্পর্কের মধ্যেও এমন অনেক দিক রয়েছে, যেগুলি আরও ভালোভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। একে অপরকে বোঝা, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং সঙ্গী হিসেবে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব, এই বিষয়গুলিকে গল্পে আরও জায়গা দেওয়ার দাবি উঠছে। কারণ দুই বোনের বন্ধনের পাশাপাশি এই দুই সম্পর্কের যাত্রাও গল্পকে আরও পরিণত এবং ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে পারে।
তবে উজির নিজের সংসার হচ্ছে না বা নিশার জন্যই নাকি তার দাম্পত্যজীবন থমকে রয়েছে, এমন যুক্তিও অনেক দর্শকের কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। উজি এবং জিৎ দুজনেই সাইবার দফতরের আধিকারিক। ফলে কাজের প্রয়োজনে দুজনেরই আলাদা দায়িত্ব, আলাদা মামলা এবং নিজস্ব কর্তব্য থাকতেই পারে। তাই সবসময় একজন আরেকজনের পিছনে ঘুরবে বা প্রতিটি মুহূর্ত একসঙ্গে থাকবে, এমনটা বাস্তবসম্মত নয়। উজি নিজের কাজে ব্যস্ত থাকছে কিংবা জিৎ নিজের দায়িত্ব সামলাচ্ছে, তার অর্থ এই নয় যে তাদের সম্পর্কের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।
বরং এই দুই দিকের ভারসাম্যটাই দর্শকদের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক কীভাবে সামলে নেওয়া যায়, সেটাও চরিত্রগুলির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সেই কারণেই উজির মুখের একটি হাসিও দর্শকদের মনে এতটা দাগ কেটেছে। নিজের বোনকে এমন একজন মানুষের হাতে তুলে দিতে পেরেছে, যার কাছে সে নিরাপদ এবং যাকে ভরসা করা যায়, উজির সেই নিশ্চিন্ত হাসিতে যেন সেই স্বস্তিটাই ধরা পড়েছিল। ধারাবাহিকের এক বছর পূর্তির দিনে এই দৃশ্যটিকে অনেকেই অন্যতম সেরা মুহূর্ত বলছেন।
আরও পড়ুনঃ বিগ বসে বিছানা নিয়েই তুলকালাম! মনামীকে কা’ন ধরে সরির নির্দেশ! সায়ক-সৃজলাদের ‘চাঙ্গিমুঙ্গির দল’ বলে কটা’ক্ষ, ফের বিতর্ক বাঁধালেন রাজবীর
আর এরপর বোমা নিষ্ক্রিয় করার দৃশ্যে জিৎ-নিশার সম্পর্কের অন্য একটি দিকও দর্শকদের আবেগী করে তুলেছে। নিশার শরীরে থাকা বোমার তার এক এক করে কাটছিল জিৎ, আর সেই সময় নিশার সম্পূর্ণ ভরসা ছিল তার ওপর। বোমা নষ্ট করার পর জিৎ যখন নিশার হাত শক্ত করে ধরে, তখন অনেক দর্শকের কাছে সেই মুহূর্তের অর্থ ছিল খুব স্পষ্ট, বিপদের সময় সে নিশাকে একা ছেড়ে যাবে না। তাই দর্শকদের চাওয়া, দুই বোনের বন্ধনকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তেমনই উজি-ঋষি এবং জিৎ-নিশার সম্পর্কের বোঝাপড়া, আবেগ এবং অংশীদারিত্বকেও গল্পে আরও একটু জায়গা দেওয়া হোক। তাতেই জোয়ার ভাঁটার গল্প আরও বাস্তবসম্মত, পরিণত এবং ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।
