এক বছর কেটে গিয়েছে। তবু অসমের জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গর্গকে হারানোর শোক যেন এখনও একই রকম। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয় শিল্পীর। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল অসম-সহ গোটা দেশ। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফের সামনে এসেছে তাঁর গান, তাঁর সৃষ্টিশীলতা এবং অসমের সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানের কথা। একইসঙ্গে স্বামীকে হারানোর সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী গরিমা গর্গ। জ়ুবিনকে ঘিরে অনুরাগীদের ভালোবাসা এবং তাঁর নিজের অনুভূতিও উঠে এসেছে সেই কথায়।
জ়ুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অসমে তিন দিন ধরে পালিত হচ্ছে ‘জ়ুবিন দিবস’। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে গান, প্রার্থনা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গরিমার কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করার বিষয় নয়। বরং তাঁর কথায়, মানুষ জ়ুবিনের জীবন, তাঁর কাজ এবং তাঁর ভাবনাকে উদ্যাপন করছেন। শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ যেভাবে একত্রিত হয়েছেন, তাতেই গরিমা যেন তাঁর স্বামীর উপস্থিতি অনুভব করছেন। জ়ুবিনকে ভালোবাসার জায়গায় মানুষের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বামীকে হারানোর পর জ়ুবিনের অনুরাগীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা তাঁকে কীভাবে শক্তি দিয়েছে, সেই কথাও জানিয়েছেন গরিমা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুরাগীরা তাঁকে নিজেদের পরিবারের একজনের মতো করে নিয়েছেন। জ়ুবিনের গান, তাঁর দর্শন এবং সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তাঁকে এখনও নিজেদের জীবনের অংশ করে রেখেছেন অসংখ্য মানুষ। তাই শিল্পী শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর তৈরি করা জগৎ এবং তাঁর ভাবনা অনুরাগীদের মধ্যে বেঁচে রয়েছে। জ়ুবিনের জনপ্রিয়তার গভীরতা যে তাঁর মৃত্যুর পরেও একইভাবে রয়েছে, প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজনেই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
তবে স্বামীকে হারানোর সেই ঘটনার পরেও গরিমার মনে কিছু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। সিঙ্গাপুরে জ়ুবিনের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে আরও স্পষ্টতা চেয়েছেন তিনি। সিঙ্গাপুর পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী করোনারের অনুসন্ধানে জ়ুবিনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে কোনও ষড়যন্ত্র বা অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জানা যায়, একটি ইয়টে থাকার সময় সাঁতার কাটতে জলে নেমেছিলেন জ়ুবিন। সেই সময় তাঁর গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না। পরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ দুই নায়িকার ধুন্ধু’মার! ‘গেমের জন্য এক রা’তও বেড শে’য়ার করব না’, রাজবীর-নন্দিনীর অশান্তির মাঝেই নন্দিনীকে কটা’ক্ষ করে বি’স্ফো’রক মন্তব্য সৃজলার
জ়ুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই অসমজুড়ে একদিকে যেমন রয়েছে গভীর শোক, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করার আবেগ। গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন অনুরাগীরা। গরিমার কাছেও এই সময়টা শুধু হারানোর কষ্টের নয়, বরং জ়ুবিনের রেখে যাওয়া কাজ এবং তাঁর ভাবনাকে নতুন করে মনে করার সময়। শিল্পী আজ আর তাঁদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর গান এখনও মানুষের মনে একইভাবে জায়গা করে রয়েছে। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজনজুড়ে সেই ভালোবাসারই ছবি ধরা পড়ছে।
