জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ঝিনুকের উপর সম্রাটের বাড়তে থাকা রা’গ এবার পার করল সব সীমা! ওদিকে শান্তনের পকেটে মিলল জু’য়ার টিকিট! শ্রীনিবাসের গোপন পরিচয়ও ফাঁস, এরপর কি বাড়ি থেকে ঘাড় ধা’ক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে তাঁদের? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের টানটান পর্বে কী হতে চলেছে?

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (kamala Nibas) গল্পে একদিকে যেমন সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে, তেমনই একের পর এক চরিত্রের জীবনে নতুন সমস্যা সামনে আসছে। সম্রাট ও ঝিনুকের সম্পর্কেও সেই অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঝিনুককে খুশি করার জন্য সম্রাট বেশ কিছু উপহার দিয়েছিল। সেগুলি পেয়ে ঝিনুক আনন্দিত হলেও, স্ত্রীর সেই খুশি সম্রাটকে তেমন স্বস্তি দিতে পারেনি। বরং তাঁর মনে হয়, ঝিনুক যেন উপহারের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট, তাঁর প্রতি নয়। এই ভাবনা থেকেই নিজের রাগ সামলাতে না পেরে ঝিনুকের প্রিয় সেই উপহারগুলিতেই আগুন ধরিয়ে দেয় সম্রাট। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

এরপর ঝিনুককে শান্ত করার বদলে সম্রাটের আচরণে আরও একবার তাঁর দখলদার মনোভাব সামনে আসে। পরদিন ঝিনুকের ক্লান্তি কমানোর জন্য নিজের হাতে তাঁর মাথায় মালিশ করে দিচ্ছিল সম্রাট। সেই সময় ঝিনুক বাইরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্লারে যাওয়ার ইচ্ছের কথা জানায়। কিন্তু স্ত্রীর এই সাধারণ ইচ্ছাতেও হঠাৎ রেগে যায় সম্রাট। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঝিনুকের বাইরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। এমনকী তাঁকে বাড়িতেই রাজকন্যার মতো রাখার জন্য প্রয়োজনে বাড়ির মধ্যে পার্লার তৈরি করে দেওয়ার কথাও বলে। সম্রাটের এই রাগ এবং কড়া ব্যবহারে ভয় পেয়ে যায় ঝিনুক। নিজের ইচ্ছের কথা আর বাড়িয়ে না বলে চুপ করে যায় সে।

এদিকে কমলা সামনে উঠে এসেছে একেবারে অন্য ধরনের সমস্যা। শান্তনুর পকেট থেকে জুয়ার টিকিট খুঁজে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর আদরের ছোট ছেলে এমন একটি কাজে জড়িয়ে পড়েছে, যা তিনি কখনও ভাবেননি। শান্তনুর এই গোপন অভ্যাসের কথা জানতে পেরে কমলা দেবী চিন্তায় পড়ে যান। শুধু সন্দেহেই থেমে না থেকে সত্যিটা বোঝার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। অন্যদিকে বহুদিনের অপেক্ষার পর পল্লবী অবশেষে আদির সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে আদির আনন্দের যেন শেষ নেই। পল্লবীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর সেই হাত আর না ধোয়ার কথা বলা থেকে শুরু করে হাতটি ভবিষ্যতে জাদুঘরে রেখে দেওয়ার মতো ছেলেমানুষি কথাবার্তায় তার উচ্ছ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁদের এই বন্ধুত্ব যে ধীরে ধীরে আরও গভীর কোনও সম্পর্কে গড়াতে পারে, তার ইঙ্গিতও মিলছে।

তবে সব চরিত্রের ভাগ্যে এমন আনন্দের মুহূর্ত নেই। সমর অনেক পরিশ্রম করে অঞ্জনার বাড়ি থেকে যে খামগুলি নিয়ে এসেছিল, সেগুলি খুলতেই তার সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। খামের ভিতরে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্যের বদলে পাওয়া যায় সাধারণ কিছু কাগজ। ফলে এতটা ঝুঁকি নিয়ে খামগুলি আনার পরও সমরের হাতে কার্যত কিছুই আসে না। অন্যদিকে শ্রীনিবাসের সমস্যাও ক্রমশ বাড়ছে। অটো চালানোর সময় পরিচিত মানুষদের সামনে পড়ে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি স্ত্রীর বৌদির চোখে পড়ে যান। ফলে তাঁর গোপন অটোচালকের পরিচয় আর বেশিদিন চাপা থাকার সম্ভাবনা নেই।

আগামী পর্বে শ্রীনিবাসের জন্য আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। নিজের শালার সামনেই তাঁর অটো চালানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। এরপর তাঁকে অপমান ও কটাক্ষের মুখে পড়তে হবে এবং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছবে যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে শান্তনুকে নিয়েও কমলা দেবীর সন্দেহ আর শুধু সন্দেহ থাকবে না। ছোট ছেলের জুয়া খেলার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর সরাসরি তার কাছে কৈফিয়ত চাইবেন তিনি। ফলে একদিকে শ্রীনিবাসের গোপন পরিচয় ফাঁস হওয়া, অন্যদিকে শান্তনুর জুয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা দুই ঘটনাতেই ‘কমলা নিবাস’-এর আগামী পর্বে পরিবারে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে চলেছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page