জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘টাকা নিয়ে নিজের নীতি বিক্রি করিনি’, বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে সায়ক-শমীকের কনটেন্ট বিতর্কের মাঝেই বি’স্ফো’রক অরিত্র

নির্বাচনী প্রচারে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের টাকা দেওয়া নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিজেপির নির্বাচনী খরচের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর জানা গিয়েছে, সায়ক চক্রবর্তীকে আড়াই লাখ টাকা এবং শমীক অধিকারীকে ১৩ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সেই বিতর্কের মাঝেই এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা তথা কালারিস্ট অরিত্র দত্ত বণিক। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য কখনও বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেননি।

অরিত্রর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হওয়ার সময় তাঁকেও নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাঁর দাবি, শাসকদলের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার সময় তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর পরিবারকে রাতের অন্ধকারে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও পোস্টে জানিয়েছেন তিনি। সেই সময় বিজেপির তরফে তাঁকে সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অরিত্রর। তবে তিনি সেই সাহায্য গ্রহণ করেননি। তাঁর কথায়, যে সময় তিনি নিজের অবস্থান থেকে কথা বলতে শুরু করেছিলেন, তখন কোনও রাজনৈতিক দলের কথা মাথায় রেখে তিনি পথে নামেননি।

এই প্রসঙ্গেই নিজের আর্থিক অবস্থান নিয়েও সাফাই দিয়েছেন অরিত্র। তাঁর দাবি, বিজেপির ফান্ড থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে একটি টাকাও ঢোকেনি। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানিয়েছেন, খুঁজে দেখলেও তাঁর নাম কোনও টাকা পাওয়ার তালিকায় পাওয়া যাবে না। অরিত্র আরও দাবি করেছেন, জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে ‘অন্যায্য সুবিধা’ নেননি। নিজের পছন্দ বা নীতির বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র টাকার জন্য কোনও কাজও করেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা রাখতে চাননি অভিনেতা।

শুধু টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করাই নয়, সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অরিত্র। তাঁর দাবি, একাধিকবার রাজনীতিতে আসার সুযোগ বা প্রস্তাব এলেও উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়া সেই পথে হাঁটতে চাননি। নিজের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য কোনও পিআর বা মার্কেটিং এজেন্সির সাহায্যও নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অরিত্রর এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নথিতে সায়ক ও শমীকের নাম এবং তাঁদের প্রাপ্য অর্থের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে সায়ক চক্রবর্তী ও শমীক অধিকারীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে কেন্দ্র করে নেই। রাজনৈতিক প্রচার, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পারিশ্রমিক এবং তাঁদের প্রকাশ্য অবস্থানের মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সেই আবহেই অরিত্র দত্ত বণিক নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানালেন, টাকা বা কোনও সুবিধার বিনিময়ে নিজের নীতি বদলানোর পক্ষপাতী নন তিনি। তবে সায়ক বা শমীক যে নির্দিষ্ট কাজের জন্য টাকা নিয়েছেন, সেই কাজের প্রকৃতি বা তাঁদের ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে অরিত্রর বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি। আপাতত তাঁর এই বিস্ফোরক পোস্টই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page