জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বাচ্চা খেতে না চাইলে এই ভিডিও দেখান, তাড়াতাড়ি খেয়ে নেবে”, “এভাবে সাজলেই ঋতুপর্ণ ঘোষ হওয়া যায় না!” “নিজের শিল্পীসত্ত্বা বজায় রাখা উচিত, অনুপ্রেরণা নিন, নকল নয়!” লাল শাড়িতে সুজয় প্রসাদের ভাইরাল সাজ ঘিরে নেটপাড়ায় তুমুল কটা’ক্ষ!

ছোটপর্দার আসন্ন রিয়েলিটি শো ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’ ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় তৈরি এই রান্নাভিত্তিক বিনোদনের অনুষ্ঠানে থাকছেন টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ। তালিকায় রয়েছেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ও। অঙ্কুশ হাজরা এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে রয়েছেন। রূপাঞ্জনা মিত্র এবং সুজয় প্রসাদকে এই অনুষ্ঠানে জুটি হিসেবেও দেখা যাবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড ওপেনিং ঘিরে তারকাদের সাজ এবং উপস্থিতি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সুজয় প্রসাদের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তাঁকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সেই অনুষ্ঠানে সুজয় প্রসাদের পোশাকও নজর কেড়েছে দর্শকদের একাংশের। কালো রঙের একটি টি শার্টের উপর তিনি পরেছিলেন লাল রঙের শাড়ি। শাড়িটি তিনি একেবারে আটপৌরে ধরনে পরেছিলেন, শাড়ির মধ্যে ছিল হলুদ রঙের কাজ। এর সঙ্গে গলায় ছিল রূপোলি রঙের গয়না এবং মুখে ছিল তেমন সাজ। এই বিশেষ সাজে অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া সুজয় প্রসাদের সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও পরে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি সামনে আসতেই তাঁর পোশাক, সাজ এবং উপস্থিতির ধরন নিয়ে নানান ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেন নেটাগরিকদের একাংশ।

সুজয় প্রসাদের সেই সাজ নিয়ে সমাজ মাধ্যমে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই এসেছে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও। একজন দর্শক তাঁর সাজকে নিয়ে রসিকতা করে লেখেন, বাড়ির কোনও বাচ্চা খেতে না চাইলে তাকে এই ভিডিও দেখিয়ে দিতে, সে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেবে। ওই মন্তব্যের মাধ্যমে আসলে সুজয়ের সাজকে শিশুকে ভয় দেখানোর মতো বিষয় হিসেবে তুলে ধরে কটা’ক্ষ করা হয়েছে। অর্থাৎ পোশাক এবং সামগ্রিক উপস্থিতি নিয়ে সেই দর্শক সরাসরি ব্যঙ্গ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এমন মন্তব্যের পর ভিডিওটি ঘিরে হাসি-ঠাট্টার পরিমাণও বেড়েছে। তবে শুধু পোশাক নিয়ে রসিকতাই নয়, সুজয় প্রসাদের সাজের মধ্যে অন্য এক পরিচিত শিল্পীর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। সেই সূত্রেই সামনে এসেছে পরিচালক ও অভিনেতা ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রসঙ্গ।

আর এক নেটাগরিকের মন্তব্যে সরাসরি ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে সুজয় প্রসাদের এই সাজের তুলনা টেনেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, শুধু একই ধরনের পোশাক পরলেই ঋতুপর্ণ ঘোষ হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। কারও কাজ বা ব্যক্তিত্ব দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া স্বাভাবিক হলেও তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করাকে ওই দর্শক সমর্থন করেননি। বরং নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং নিজস্ব শিল্পীসত্তা বজায় রাখার কথাই সেই মন্তব্যে উঠে এসেছে। অর্থাৎ সুজয়ের সাজকে ঘিরে সমালোচনার পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে এই মন্তব্য নেটাগরিকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবেই সামনে এসেছে। সুজয় প্রসাদ নিজে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যগুলির বিষয়ে কী ভাবছেন, তা এখনও জানা যায়নি।

সুজয় প্রসাদের এই সাজের প্রসঙ্গটি অবশ্য এমন একটি সময় সামনে এসেছে, যখন তাঁর নতুন কাজ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে, ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’ অনুষ্ঠানে রান্নার পাশাপাশি তারকাদের ব্যক্তিগত গল্প, মজার মুহূর্ত এবং নানান ধরনের চ্যালেঞ্জও থাকবে বলে জানা গিয়েছে। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দর্শক দেড় ঘণ্টা কিছুটা চাপমুক্ত সময় কাটাতে পারেন। সুজয় প্রসাদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছেন কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ, দর্শনা বণিক, প্রেরণা দাস, ঊষসী রায়, সুষ্মিত মুখোপাধ্যায়, সায়ন ঘোষ, অন্বেষা হাজরা এবং ইমন চক্রবর্তী। এছাড়াও থাকছেন সৌমিতৃষা কুণ্ডু এবং অন্যান্য পরিচিত মুখ। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে অনুষ্ঠানে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজ। ফলে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রতিযোগীদের সাজ, উপস্থিতি এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এখন সুজয় প্রসাদের লাল শাড়ির সাজ এবং ভাইরাল সাক্ষাৎকারের ভিডিওকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নিয়েই সমাজ মাধ্যমে নানা মত দেখা যাচ্ছে। কেউ সরাসরি তাঁর পোশাক নিয়ে মজা করেছেন, আবার কেউ সেই সাজের মধ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রভাব খুঁজে সমালোচনা করেছেন। একদিকে যেমন তাঁর নিজস্ব সাজের স্বাধীনতা নিয়ে কথা উঠছে, অন্যদিকে শিল্পীর স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। তবে একই সঙ্গে মনে রাখা দরকার, এগুলি সমাজ মাধ্যমে দর্শকদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত সুজয় প্রসাদের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যগুলির জবাব সামনে আসেনি। অন্যদিকে আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ‘ ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের কথা রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠান শুরু হলে সুজয় প্রসাদের এই নতুন অবতার দর্শকদের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেদিকেই নজর থাকবে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page