নির্বাচনী প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পারিশ্রমিক দেওয়া নিয়ে বিতর্কের মাঝেই এবার আলোচনায় অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সুকান্ত কুণ্ডু। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিজেপির নির্বাচনী খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম ও তাঁদের পাওয়া অর্থের অঙ্ক সামনে এসেছে। সেই তালিকাতেই সুকান্তের নাম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি রকরা হচ্ছে, তাঁর ক্ষেত্রে অর্থপ্রদানের নাম হিসেবে কখনও বাবার, কখনও মায়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সুকান্ত নিজে সরাসরি টাকা নিয়েছেন কি না, নাকি পরিবারের সদস্যদের নামে সেই অর্থ দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সুকান্ত কুণ্ডুকে নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের খরচের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ্যে এসেছে। সেই হিসাবেই একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে দেওয়া অর্থের তথ্য রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সায়ক চক্রবর্তী এবং শমীক অধিকারীর মতো নাম ইতিমধ্যেই এই তালিকা ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে আড়াই লাখ ও ১৩ লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এবার সেই বিতর্কের সূত্রেই সুকান্ত কুণ্ডুর নাম সামনে আসায় বিষয়টি আরও চর্চায় এসেছে।
তবে সুকান্তের ক্ষেত্রে বিতর্কের জায়গাটি কিছুটা আলাদা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর নিজের নামের পরিবর্তে তাঁর বাবা এবং মায়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্থাৎ, টাকা যদি কোনও প্রচারমূলক কাজের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কোন কাজের বিনিময়ে এবং কার কাছে গিয়েছে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। শুধু কারও পরিবারের সদস্যের নামে অর্থের উল্লেখ থাকা থেকেই সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান বা তিনি নিজে কোনও টাকা নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই এই মুহূর্তে প্রকাশিত নথির তথ্য এবং সেই তথ্যকে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
এর আগে ভোটের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলি ক্রমশ ডিজিটাল মাধ্যমকে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে ইউটিউবার, অভিনেতা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। নির্বাচনী খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর সেই প্রচারের পিছনে কতটা অর্থ খরচ হয়েছে, কারা সেই অর্থ পেয়েছেন এবং কী ধরনের কনটেন্ট তৈরির জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। সুকান্ত কুণ্ডুকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কও সেই বৃহত্তর আলোচনারই অংশ।
আরও পড়ুনঃ ছোট পর্দা থেকে দুর্নিবার উত্থান! পিছু হটেছেন সৌমিতৃষা, শ্বেতারা! ইধিকার ঝুলিতে কি এবার টলিউডের আরও এক সুপারস্টারের ছবি?
সব মিলিয়ে, সুকান্ত কুণ্ডুকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, বরং নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত অর্থপ্রদানের হিসাব নিয়ে। বাবা-মায়ের নামে টাকা দেখানোর যে তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট কী, সেই অর্থ কোন কাজের জন্য দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী এসব বিষয়ই স্পষ্ট হওয়া বাকি। নির্বাচন কমিশনের নথিতে থাকা তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সামনে এলেই বিতর্কের ছবিটা আরও পরিষ্কার হতে পারে। আপাতত সুকান্তের নামকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্যই সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদন মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
