জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“কেমন ছোটলোক মানসিকতার একজন মানুষ!” “মুখে ভদ্রতা থাকলেই মানুষ ভদ্র হয় না, ব্যবহারটাই আসল পরিচয়!” রাজবীরের জন্মদিনে না যাওয়া নিয়ে দুর্নিবারকে তীব্র কটা’ক্ষ দর্শকদের, ‘হাজার অপমানের পরেও রাজবীর অন্যের জন্মদিনে আনন্দ করে, তাঁকে গুণ্ডা বলতে লজ্জা লাগে না?’

বিগ বস বাংলার ঘরে দুর্নিবার সাহাকে ঘিরে এমনই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে দর্শকদের একাংশের মধ্যে। সম্প্রতি রাজবীরের জন্মদিনকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে দাবি করছেন এক দর্শক। তাঁর অভিযোগ, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে রাজবীরের না যাওয়ার বিষয়টি দুর্নিবার যেভাবে বলেছেন, সেটি মোটেই ভালো লাগেনি। কারণ অন্য প্রতিযোগীদের জন্মদিনে রাজবীরকে নাচতে, হাসতে এবং আনন্দ করতে দেখা গেলেও দুর্নিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই আলাদা। এমনকী একাধিক অপমানের পরেও রাজবীরকে দুর্নিবারের গান শুনে আনন্দ করতে দেখা গিয়েছে বলেই দাবি ওই দর্শকের। তাই জন্মদিনে না যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরাকে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না।

ওই দর্শকের বক্তব্য, দুর্নিবারের আচরণে এমন একটা দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে যা তাঁর কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর। একদিকে একই বাড়িতে থেকে রাজবীরকে নিয়ে এত রাগ, বিদ্বেষ এবং পুরনো হিসেবের কথা সামনে আসছে, আবার অন্যদিকে বাইরে ভদ্রতার একটা আবরণ বজায় রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দুর্নিবার নাকি এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন যেন রাজবীরের জন্মদিনে না যাওয়াটাই আলাদা করে বলার মতো ঘটনা। অথচ অন্যদের জন্মদিনে রাজবীরের স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দর্শকের কথায়, হাজার অপমানের পরেও রাজবীর অন্যদের সঙ্গে হাসি, নাচ এবং আনন্দ বজায় রেখেছেন। ফলে দুর্নিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেন এতটা তিক্ততা, সেটিই এখন দর্শকের প্রশ্ন।

বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক পর্বগুলিতেও দুর্নিবার ও রাজবীরকে একই রাজনৈতিক টাস্কের বিপরীত শিবিরে দেখা গিয়েছে। লাক্সারি বাজেটের সেই খেলায় জিতু কমল এবং দুর্নিবার ছিলেন দুই দলের নেতা। দুর্নিবারের দলে ছিলেন ঝিলম, তনুশ্রী এবং অনুষ্কা, অন্যদিকে জিতুর দলে ছিলেন মনামী, নন্দিনী এবং রাজবীর। টাস্ক চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে রাজবীর দুর্নিবারের দলের পতাকা তুলে ফেলেন। সেই পতাকা নিয়ে অনুষ্কার সঙ্গে তাঁর টানাটানিও হয় এবং পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজবীরের সঙ্গে সৃজলার তুমুল বচসার ঘটনাও ওই টাস্কেই ঘটে।

এই টাস্কের পর থেকেই বিগ বসের বাড়িতে বিভিন্ন প্রতিযোগীর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নিবার এবং রাজবীরের মধ্যেও যে দূরত্ব রয়েছে, তা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে রাজবীরের জন্মদিনও ঘরে উদযাপিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিগ বসের তরফে কেক আসে এবং প্রতিযোগীরা মিলে সেই জন্মদিন পালন করেন। বাইরে থেকেও রাজবীরকে নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা চলছে। এমনকী নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং নন্দিনীর মা-ও রাজবীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতেই দুর্নিবারকে নিয়ে ওই দর্শকের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, ‘সত্যি বলছি, এই ধরনের মানুষগুলোকেই চিনতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।’ এরপরই তিনি দুর্নিবারের আচরণকে ‘ভদ্রতার মুখোশ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এমনকী দুর্নিবারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘কিছু মানুষকে দেখে সত্যিই মনে হয়, শয়তান সবসময় ভয়ংকর চেহারায় আসে না, কখনও কখনও সে ভদ্রতার মুখোশ পরেও আসে।’ শেষ পর্যন্ত দুর্নিবারের চাউনি নিয়েও কটাক্ষ করে ওই দর্শক লিখেছেন, ‘চাউনি টাই কেমন চোরের মতো।’ তবে এগুলি সম্পূর্ণই এক দর্শকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া এবং দুর্নিবারের চরিত্র সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিগ বসের ঘরে সম্পর্কের সমীকরণ যেভাবে প্রতিদিন বদলাচ্ছে, তাতে রাজবীর ও দুর্নিবারের এই দূরত্ব আগামী দিনে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর দর্শকদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page