জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্প যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক নতুন রহস্য এবং পারিবারিক জটিলতা সামনে আসছে। সাম্প্রতিক পর্বে কমলার সন্দেহ আরও বাড়তে দেখা যায়। পর পর রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকায় সত্যিটা নিজের মতো করে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। সেই কারণেই শ্রীনিবাসের আগের অফিসে পৌঁছে যায় কমলা। সেখানে গিয়ে সে কী তথ্য জানতে পারে, তা নিয়ে গল্পে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পল্লবীর সঙ্গেও ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। মন্দিরে যাওয়ার সময় আচমকাই আদির ঠাকুমার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠাকুমার রাগ গিয়ে পড়ে পল্লবীর উপর এবং প্রকাশ্যে তাকে কটু কথা শুনতে হয়।
এদিকে সম্রাটের অফিসেও পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যবসায়িক কাজে সেখানে আসে রণ, আর ঠিক সেই সময় সম্রাটের সঙ্গে দেখা করতে অফিসে পৌঁছে যায় ঝিনুক। রণের সামনে ঝিনুক চলে এলে বড় বিপদ হতে পারে বুঝতে পেরে সম্রাট দ্রুত নিজের চেম্বার ছেড়ে ঝিনুকের কাছে চলে যায়। ফলে একেবারে কাছাকাছি এসেও রণ ও ঝিনুকের দেখা হয় না। পরে সম্রাট ঝিনুককে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বিশেষ করে, যে দরজার সিক্রেট পাসকোড সে জানত না, সেই কোড ব্যবহার করে ঝিনুক কীভাবে বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে এল, সেটাই জানতে চায় সম্রাট। কারণ ঝিনুককে আটকে রাখার সময় ইচ্ছা করেই এই পাসকোড তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে বাড়ির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। প্রীতি তার বাপের বাড়ির বিশেষ পুজোর অনুষ্ঠানে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে নিমন্ত্রণ করার কথা জানায়। কিন্তু আগের দিন আদির এনগেজমেন্টে কমলা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যে অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনা এখনও কারও মন থেকে মুছে যায়নি। তাই প্রীতির বাড়িতে যাওয়া নিয়ে পরিবারের অনেকেরই আপত্তি ছিল। তবে প্রীতি নিজের মাকে যেমন বোঝায়, তেমনই শাশুড়ি কমলাকেও বারবার অনুরোধ করে। সে জানায়, আগের দিনের ঘটনার জন্য তার মা যথেষ্ট অনুতপ্ত। বৌমার অনুরোধ এবং তাঁর মায়ের অনুশোচনার কথা শুনে শেষ পর্যন্ত কমলা পুজোয় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পুজোর অনুষ্ঠানে পৌঁছনোর পরও অবশ্য পল্লবীকে ঘিরে অস্বস্তি কাটে না। পুজোর আয়োজনে অংশ নেওয়ার সময় পল্লবী আদির মাকে আলপনা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু তার কথা শুনেই আপত্তি জানান আদির ঠাকুমা। পল্লবীর অতীতের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে নানা কটু কথা বলতে শুরু করেন তিনি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পল্লবীকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণও শুরু হয়। ফলে পুজোর আনন্দের পরিবেশের মধ্যেই ফের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় পরিবারের সামনে।
আরও পড়ুনঃ ‘দেশু ৭’ হিট হলেই দেবের পরের ছবিতে জিৎ! নায়িকা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ শুভশ্রীর, পরিচালনায় দেব?
একপর্যায়ে পল্লবীকে অপমান করতে করতে তার গায়ে হাত তোলার জন্যও এগিয়ে যান আদির ঠাকুমা। তবে ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এসে দাঁড়ায় আদি। পল্লবীর সঙ্গে যা হচ্ছে, তা মেনে নিতে সে একেবারেই রাজি নয়। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হলেও পল্লবীকে অপমান বা তার গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও নেই, এই অবস্থানই স্পষ্ট করে আদি। ফলে পুজোর অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া উত্তেজনা নতুন দিকে মোড় নেয়। একইসঙ্গে কমলার শ্রীনিবাসের পুরনো অফিসে যাওয়া, সম্রাটের হাতে ঝিনুকের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং পল্লবীকে নিয়ে আদির এই অবস্থান, সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর গল্পে একাধিক প্রশ্ন এখন একসঙ্গে সামনে এসেছে।
