বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ উদয় প্রতাপ সিংহ (Uday Pratap Singh)। আজ, ১৩ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। জন্মদিনে তাই ফিরে দেখা যাক অভিনেতার সেই পথচলা, যে পথে একসময় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেই দর্শকের নজরে এসেছিলেন তিনি, আর পরবর্তীতে হয়ে উঠেছেন ধারাবাহিকের নায়ক। অভিনয় জগতে তাঁর শুরুটা হয়েছিল ২০১৫ সালে ‘তুমি এলে তাই’ ধারাবাহিকের হাত ধরে। এরপর একের পর এক মেগায় ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কখনও নেতিবাচক চরিত্র, কখনও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, আবার কখনও এমন কোনও চরিত্র, যা গল্পের মূল নায়ক না হলেও দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয়ের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়।
তবে উদয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় মোড় আসে ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে রাতুল চরিত্রের হাত ধরে। মূল নায়ক-নায়িকার বাইরে থেকেও রাতুলকে নিজের অভিনয়গুণে আলাদা করে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দর্শকদের নজর কাড়ে। এরপর ‘নিম ফুলের মধু’ ধারাবাহিকেও চয়নের চরিত্রে তাঁকে দেখা যায়। এই ধারাবাহিকগুলিতে তাঁর চরিত্রগুলি মুখ্য নায়ক ছিল না, কিন্তু উদয়ের অভিনয় তাঁকে ধীরে ধীরে পরিচিত মুখ থেকে জনপ্রিয় অভিনেতায় পরিণত করে। এমনকি ‘নিম ফুলের মধু’-তে তাঁর চরিত্রকে প্রত্যাশামতো গুরুত্ব না দেওয়ায় অভিনেতার আক্ষেপের কথাও প্রকাশ্যে এসেছিল। অর্থাৎ নায়ক হওয়ার আগেই একাধিক পার্শ্বচরিত্রের মাধ্যমে নিজের জায়গাটা তৈরি করে নিয়েছিলেন উদয়।
এরপর আসে সেই সুযোগ, যার অপেক্ষায় ছিলেন উদয়। ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকে প্রথমবার মুখ্য নায়কের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। রায়ান চরিত্রে অভিনয় করে পারুলের সঙ্গে তাঁর জুটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের পছন্দের হয়ে ওঠে। এই চরিত্রের জন্য নিজেকেও যথেষ্ট বদলেছিলেন অভিনেতা। পর্দায় ২৩ বছরের কলেজপড়ুয়ার চরিত্র বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে মাত্র এক মাসে প্রায় ১০ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন তিনি। শুধু চেহারায় পরিবর্তন নয়, এতদিনের পার্শ্বচরিত্র থেকে একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্রে এসে অভিনয়ের দায়িত্বও অনেকটাই বেড়ে যায়। আর সেই পরীক্ষাতেই সফল হন উদয়। ‘পরিণীতা’র মাধ্যমে প্রায় সাত বছর পর ফের মুখ্য চরিত্রে ফিরে এসে তিনি বুঝিয়ে দেন, দীর্ঘদিন পার্শ্বচরিত্রে থাকা মানেই নায়ক হওয়ার যোগ্যতা নেই, এমনটা একেবারেই নয়।
‘পরিণীতা’র রায়ান হয়ে উদয়ের জনপ্রিয়তা যে শুধু ধারাবাহিকের দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার প্রমাণও মিলেছে পুরস্কারের মঞ্চে। ২০২৫ সালের TV9 Bangla ‘ঘরের বায়োস্কোপ’ অ্যাওয়ার্ডে বিচারকদের বিচারে টেলি ধারাবাহিকের সেরা নায়ক নির্বাচিত হন তিনি। রায়ান চরিত্রে তাঁর অভিনয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ। কলেজপড়ুয়া থেকে বাড়ির মা-কাকিমা, বিভিন্ন বয়সের দর্শকের কাছেই তাঁর পর্দার উপস্থিতি জনপ্রিয় হয়েছে বলে সেই সময়ের প্রতিবেদনে উঠে আসে। অর্থাৎ যে অভিনেতাকে একটা সময় মূল গল্পের বাইরে থাকা চরিত্রে দেখা যেত, তিনিই পরবর্তীতে ধারাবাহিকের গল্পের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।
আরও পড়ুনঃ এ কেমন স্বভাব চরিত্র? প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হতে না হতেই দ্বিতীয় বিয়ে! বিগ বসের ঘরে সৃজলার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনি’ষ্ঠতা, আবার মান ভাঙাতে গাইছেন গানও! শো থেকে বেরোলে দাম্পত্য টিকবে তো দুর্নিবারের?
উদয় প্রতাপ সিংহের এই সফর তাই বাংলা টেলিভিশনে ধৈর্য এবং নিজের কাজ দিয়ে জায়গা করে নেওয়ার এক পরিচিত উদাহরণ। নায়ক হওয়ার সুযোগ হয়তো তাঁর কাছে পরে এসেছে, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছিলেন অনেক আগেই। ‘মিঠাই’-এর রাতুল থেকে ‘নিম ফুলের মধু’-র চয়ন, আর সেখান থেকে ‘পরিণীতা’র রায়ান, প্রতিটি চরিত্রই তাঁর অভিনয়জীবনের আলাদা ধাপ হয়ে রয়েছে। আজ জন্মদিনে সেই পথচলার দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়, শুধু মুখ্য চরিত্র পেলেই জনপ্রিয় হওয়া যায় না, পার্শ্বচরিত্রকেও নিজের অভিনয়ে স্মরণীয় করে তুলতে হয়। উদয় সেই জায়গাতেই ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। জন্মদিনে অভিনেতার জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা, আগামী দিনে আরও নতুন চরিত্রে তাঁকে দেখার অপেক্ষায় দর্শকরাও।
