বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক পর্বে লাক্সারি বাজেট টাস্ক ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পিরামিড তৈরির এই খেলায় প্রতিযোগীদের বল ছুড়ে একে অপরকে বাধা দিতে দেখা যায়। তবে জিতু কমলের খেলার ধরন নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পিরামিড ভাঙার বদলে তিনি প্রতিপক্ষদের চোখ, মুখ ও শরীর লক্ষ্য করে বল ছুড়েছেন। এই ঘটনায় সৃজলা গুহ, দুর্নিবার সাহা, মনামী ঘোষ এবং সোনামণি সাহা আঘাত পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে মনামীকে জিতু বারবার লক্ষ্য করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরেই নন্দিনী দত্তও জিতুর আচরণে বিরক্ত হয়ে রাজবীর দেকে সতর্ক করেন। রাজবীরকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জিতুর সঙ্গে বেশি মেলামেশা না করাই ভালো বলে তাঁর মনে হয়েছে।
নন্দিনীর এই মন্তব্যের পিছনে ছিল টাস্ক চলাকালীন জিতুর আচরণ। রাজবীরের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জিতুর ব্যবহার নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান। নন্দিনী বলেন, “জিতু মনে হয় খুব ঝাড় খাবে এবার। মেয়েদেরকে ওরকম করার জন্য। বেশি মেশা যাবে না ওর সঙ্গে। ওর চোখ মুখটাই কেমন শয়তান শয়তান।” এরপর মনামীকে আঘাত করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “পুরো কোমরে মেরেছে। বিশাল লেগেছে। টাস্কে এটা মানা যাবে না।” অর্থাৎ নন্দিনীর চোখে ঘটনাটি শুধুমাত্র সাধারণ টাস্কের অংশ ছিল না। জিতুর আক্রমণের ধরন নিয়েই তাঁর আপত্তি তৈরি হয়েছিল। এর আগেও জিতুকে নিয়ে নন্দিনী রাজবীরকে সতর্ক করেছিলেন। ফলে এবারও জিতুর আচরণ দেখে সেই পুরনো সন্দেহই আরও জোরালো হয়েছে বলে পর্বের ঘটনায় দেখা যায়।
এই ঘটনার পর দর্শকদের একাংশও জিতুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এক দর্শকের দীর্ঘ মন্তব্যে দাবি করা হয়েছে, শারীরিকভাবে আঘাত করার নিয়ম ভাঙার জন্য জিতুর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, “বিগ বসের রুল কোথায়? ফিজিক্যাল ভায়োলেশন রুলস ব্রেক করার জন্য জিতুর ইমিডিয়েট এভিকশন হওয়া উচিত!” ওই দর্শকের দাবি, মনামীকে জিতু অত্যন্ত জোরে আঘাত করেছেন এবং টাস্ক চলাকালীন নিরঞ্জন তাঁকে বরফ লাগাতে শুরু করেছিলেন। সৃজলাও নাকি জিতুর ছোড়া বলে আঘাত পেয়েছেন এবং তাঁর হাতে বলের দাগ বসে গিয়েছিল বলে ওই দর্শক মন্তব্য করেছেন। তাঁর আরও দাবি, এই আঘাত নাকি শুধুমাত্র টাস্কের স্বাভাবিক অংশ ছিল না। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার অভিযোগ তুলে জিতুর আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এই মন্তব্যটি দর্শকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া, ঘটনাটিকে ঘিরে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তা দেখানো হয়নি।
ওই দর্শক আরও প্রশ্ন তুলেছেন, বিগ বসের ঘরে শারীরিক আঘাতের নিয়ম ভাঙা হলে কেন জিতুর বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “টাস্ক খেলার নামে মেরে মেরে মনের ঝাল মেটানো যাবেনা!” এমনকি হিন্দি বিগ বসে এমন ঘটনায় সরাসরি প্রতিযোগীকে বের করে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। এর পাশাপাশি জিতুর প্রতি পক্ষপাত করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ওই দর্শক। তিনি লিখেছেন, “ফিজিক্যাল ভায়োলেশন রুল বারবার ব্রেক হয় তারপরেও অ্যাকশন নেওয়া হয় না – জিতুর এই উইকেই এভিকশন হওয়া উচিত!” অন্যদিকে মনামী আঘাত পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে জিতু সেটিকে ‘ভিকটিম কার্ড’ হিসেবে দেখেছেন বলেও ওই দর্শকের অভিযোগ। এই জায়গাতেই দর্শকের ক্ষোভ আরও বেড়েছে এবং জিতুর আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওগো মা, এসো মা…’ বাড়ি ফিরেই প্রথম পোস্ট ঝিলমের! বিগ বসের ঘর ছাড়ার পর শরীর কেমন আছে তাঁর? কী জানালেন তিনি? তাকে কি মিস করছেন বিগ বসের বাড়িতে?
এদিকে জিতুকে নিয়ে নন্দিনীর আপত্তি শুধু এই একটি টাস্কেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেও তিনি রাজবীরকে জিতুর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সেই সময় নন্দিনী মনে করেছিলেন, জিতুর সঙ্গে রাজবীরের ঘনিষ্ঠতার পিছনে অন্য কোনও খেলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এমনকি এক পর্যায়ে নন্দিনী রাজবীরকে জিতু ও তাঁর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার কথাও বলেছিলেন। রাজবীর অবশ্য দুজনের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে রাজি হননি এবং জিতুর সঙ্গ ত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে তাঁদের সেই ভুল বোঝাবুঝি মিটেও যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক লাক্সারি বাজেট টাস্কে জিতুর আচরণ দেখে নন্দিনীর পুরনো আপত্তি ফের সামনে এসেছে। এখন প্রশ্ন, এই ঘটনার পর জিতুর বিরুদ্ধে বিগ বস কর্তৃপক্ষ বা সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কোনও ব্যবস্থা নেবেন কি না, নাকি বিষয়টি টাস্কের অংশ হিসেবেই থেকে যাবে।
