মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যোগ দিতে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে নিজের মতামত জানালেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। তাঁর কথায়, দু’জনের কাজ করার ধরন আলাদা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের মতো করে কাজ করেছেন, আর শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসেবেও ভালো কাজ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত পাঁচ মাসে তাঁর কাজও জুনের কাছে ভালো বলে মনে হয়েছে। নিউজ এইট্টিন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনীতি থেকে শুরু করে এলাকার উন্নয়ন, পুজো এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
সোমবার মহিষাদলে আসেন জুন মালিয়া। এই এলাকার বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি মহিষাদল রাজপরিবারের সঙ্গেও তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই টানেই প্রাচীন রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন সাংসদ। শুভেন্দু অধিকারী মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হওয়ায় তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াকে এলাকার মানুষের কাছে গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন জুন। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর জগদ্ধাত্রী পুজোতেও যোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জুন জানান, আগে মানুষের নানা প্রয়োজন ও দাবির কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাতেন তিনি। এখন সেই একইভাবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও এলাকার মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে দাদা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন। সেই অনুযায়ী এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তাঁরা। রাজনীতিতে তাঁকে কখনও বহিরাগত বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন জুন। তাঁর কথায়, গত ছ’বছরে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। বিধানসভা ও সংসদে উপস্থিতির হার ১০০ শতাংশ বলেও দাবি করেন সাংসদ।
আরও পড়ুন: ‘আমার গোটা পৃথিবী’, মহাষ্টমীতে শুভশ্রীর পোস্টে কারা? রাজের প্রতিক্রিয়ায় চর্চা তুঙ্গে
মেদিনীপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জুন জানান, খড়গপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দর তৈরির বিষয়টি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নতুন সরকারের আমলে সেই কাজ এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর কাজের তুলনা প্রসঙ্গে জুনের বক্তব্য, দু’জনের কাজের ধরন আলাদা হওয়ায় সরাসরি তুলনা করা কঠিন। তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর কাজ তাঁর ভালো লেগেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও গত পাঁচ মাসে তাঁর কাজ নিয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেন জুন। শুভেন্দুর ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ডাকে এখনও সাড়া দেন মুখ্যমন্ত্রী, যা তাঁর ভালো লাগে।
চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে দুর্ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জুন মালিয়া। তাঁর মতে, পুজোর থিম, আলোর সাজ এবং মণ্ডপের আকর্ষণ তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। পুজোর আয়োজন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই জরুরি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও চলাচলের ব্যবস্থায় আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন সাংসদ।
