“এভাবে তেড়ে যাওয়ার পরও শুধু সতর্ক কেন?” “দুর্নিবারের ডিরেক্ট এভিকশন হওয়া উচিত!” খেলায় হার-জিত থাকবেই, তাই বলে মা’রতে যাবে? রাজবীরের সঙ্গে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হতেই ক্ষো’ভে ফুঁসছেন দর্শকরা, বিগ বসের নিয়ম নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন?

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে ফের প্রকাশ্যে এল উত্তেজনার ছবি। এবার মুখোমুখি রাজবীর দে এবং দুর্নিবার সাহা। দুর্নিবারের সঞ্চিত কয়েন নির্দিষ্ট জায়গায় না থাকাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ঝামেলা। প্রোমোতে দেখা যায়, তাঁর জমিয়ে রাখা কয়েনগুলি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কেউ সেগুলি সরিয়ে দিয়েছে বলে মনে হওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দুর্নিবার। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাজবীরের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ক্রমে সেই বচসাই এমন জায়গায় পৌঁছয় যে পরিস্থিতি হাতাহাতির দিকে চলে যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার শুরুতে রাজবীর দুর্নিবারকে বলেন, সকালে আরও আগে ওঠা উচিত ছিল তাঁর। কয়েনগুলি কোথায় ছিল এবং কেন সেগুলি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়েই দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকে। একসময় দুর্নিবার রেগে গিয়ে রাজবীরকে ‘শাট আপ’ বলতে শোনা যায়। পাল্টা রাজবীর বলেন, ‘প্যান্টস ডাউন’। এরপরই দুর্নিবার রাজবীরের দিকে তেড়ে যান বলে প্রোমোতে দেখা যায়। রাজবীরও পাল্টা মারতে উদ্যত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা দুজনকে আটকানোর চেষ্টা করেন। ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আগে অন্য প্রতিযোগীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়।

দুজনকে থামাতে এগিয়ে আসেন একাধিক প্রতিযোগী। সৃজলা এবং রণিতা দুর্নিবারকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে জিতু, নন্দিনী এবং সৌরভ রাজবীরকে ধরে রাখেন। অর্থাৎ কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গোটা বিষয়টি দুই পক্ষের ঝামেলায় পরিণত হয়। এর আগেও দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে ‘বিগ বস’ দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দীপেন্দু বিশ্বাসের এভিকশনের পর তিনি বাড়ির সদস্যদের ‘কুকুর’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই ভাষা নিয়ে দাদার দরবারে সৌরভ গাঙ্গুলি তাঁকে প্রকাশ্যেই সতর্ক করেছিলেন। ফলে নতুন করে রাজবীরের সঙ্গে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে।

এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের একাংশের দাবি, এমন আচরণের জন্য দুর্নিবারের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। অনেকেই মনে করছেন, শুধু সতর্ক করা নয়, তাঁকে সরাসরি এভিকশন দেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে রাজবীরের দিকে তেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তাঁরা। দর্শকদের একাংশের মতে, খেলার উত্তেজনা থাকতেই পারে, কিন্তু তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছনো মেনে নেওয়া যায় না। এর আগেও দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি তাঁকে ভাষা সংযত রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দীপেন্দুর চলে যাওয়ার ঘটনায় অন্য সদস্যদের দায়ী করার সময়ও তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই এবার রাজবীরের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পুরনো বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের একটি অংশের দাবি, নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে দুর্নিবারের জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

প্রসঙ্গত, ৩০ অগস্ট থেকে সৌরভ গাঙ্গুলির সঞ্চালনায় শুরু হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’। শোয়ে এখন রাজবীর দে, দুর্নিবার সাহা, ভরত কল, নিরঞ্জন মণ্ডল, সৃজলা গুহ, নন্দিনী দত্ত, তনুশ্রী রায় দাস, মনামী ঘোষ, সোনামণি সাহা সহ একাধিক প্রতিযোগী রয়েছেন। অনিন্দ্য সেনগুপ্তের পর ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে রাজবীরের প্রবেশ হয়। এরপর দ্বিতীয় ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে আসেন জিতু কামাল। ইতিমধ্যেই জয়িতা চ্যাটার্জি, অ্যালেক্সজান্দ্রা টেলর, সায়ক চক্রবর্তী, সোহিনী পাল, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং অনুষ্কা ঘোষের মতো প্রতিযোগীরা বিভিন্ন পর্যায়ে শো থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঝিলমও গেম থেকে সরে যান। পুজোর সপ্তাহে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে সৌরভ দাস এবং রণিতা দাসও ঘরে প্রবেশ করেছেন। এখন রাজবীর ও দুর্নিবারের এই ঝামেলার পর ‘বিগ বস’ কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর দর্শকদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page