দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্ত। কিন্তু কারও কারও জীবনে সেই উৎসবই ফিরিয়ে আনে হারিয়ে যাওয়া মানুষটির স্মৃতি। বিজয়া দশমীর দিন চারপাশে যখন সিঁদুরখেলা আর বিসর্জনের আবহ, তখন অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তীর মন জুড়ে শুধুই স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তীর স্মৃতি। ২০২২ সালে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। তারপর থেকে পুজোর আনন্দের মাঝেও বারবার ফিরে আসে একসঙ্গে কাটানো দিনগুলির কথা। বিশেষ করে লাল পাড় সাদা শাড়িতে সোনালির সিঁদুরখেলার দৃশ্য আজও আবেগপ্রবণ করে তোলে অভিনেতাকে।
সোনালি শুধু শঙ্করের স্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী। পুজোর দিনগুলিতে দু’জনে নিজেদের আবাসনের পুজোতেই সময় কাটাতেন। দশমীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করার পর সিঁদুরখেলায় মেতে উঠতেন সোনালি। তাঁর হাসিমুখ, সাজপোশাক আর উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার দৃশ্য আজও স্পষ্ট শঙ্করের স্মৃতিতে। সেই দিনগুলির কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানিয়েছেন, সোনালির সিঁদুরখেলার মুখটা মনে পড়লেই তাঁর চোখে জল চলে আসে।
সোনালির ব্যক্তিত্বের আরও নানা দিকের কথাও উঠে এসেছে শঙ্করের স্মৃতিচারণে। সোনার গয়নার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল না তাঁর স্ত্রীর। বরং ইমিটেশনের গয়না পরতেই বেশি পছন্দ করতেন তিনি। তবে শাড়ির প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। লম্বা চুল আর প্রাণখোলা হাসিতে সোনালি সহজেই সকলের নজর কাড়তেন। স্ত্রীকে স্মরণ করতে গিয়ে শঙ্কর জানিয়েছেন, সোনালির হাতের রান্নাও ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে সর্ষে দিয়ে ইলিশ ভাপা এবং তাঁর তৈরি ‘সাদা মাটন’ বন্ধুদেরও খুব প্রিয় ছিল।
দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার স্মৃতিও আজও ভোলেননি অভিনেতা। কাজের ব্যস্ততা না থাকলে দু’জনে বেরিয়ে পড়তেন দীঘা, পুরী কিংবা দার্জিলিঙের উদ্দেশে। সংসার ও মেয়েকে বড় করে তোলার জন্য সোনালি নিজের অভিনয়জীবন থেকেও অনেকটা সরে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন শঙ্কর। স্ত্রীর সেই ত্যাগের কথা আজও মনে পড়ে তাঁর। অন্যদিকে, মেয়ে কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও উৎসবের সময় বাবার কাছে আসার চেষ্টা করেন। এ বছর অবশ্য যাত্রার কাজে কাঁথিতে রয়েছেন শঙ্কর। কাজে ব্যস্ত থাকায় একাকিত্ব কিছুটা কমলেও সোনালির অভাব যে পূরণ হওয়ার নয়, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ “এভাবে তেড়ে যাওয়ার পরও শুধু সতর্ক কেন?” “দুর্নিবারের ডিরেক্ট এভিকশন হওয়া উচিত!” খেলায় হার-জিত থাকবেই, তাই বলে মা’রতে যাবে? রাজবীরের সঙ্গে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হতেই ক্ষো’ভে ফুঁসছেন দর্শকরা, বিগ বসের নিয়ম নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন?
স্ত্রীকে হারানোর পর ধীরে ধীরে একা থাকার অভ্যাস তৈরি হয়েছে শঙ্করের। তবু উৎসবের দিনগুলিতে সেই শূন্যতা আরও বেশি করে অনুভব করেন তিনি। অভিনেতার কথায়, জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কাউকে না কাউকে আগে চলে যেতেই হয়, কিন্তু সোনালি তাঁকে খুব তাড়াতাড়ি একা করে দিয়ে গিয়েছেন। বিজয়ার দিনে তাই অন্যদের মতো আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি তাঁর মনে ভিড় করে আসে পুরনো স্মৃতি। পাশে নেই সোনালি, নেই তাঁর সেই চেনা হাসি। রয়ে গিয়েছে একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত, যা আজও শঙ্করের জীবনের অমূল্য সম্পদ।
