হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। এরই মধ্যে ঋতিকা গিরির সঙ্গে হিরণের বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিজয়া দশমীতে সিঁথিভর্তি সিঁদুর পরে দুর্গাপ্রতিমা বরণ করতে হাজির হন অনিন্দিতা। লাল পেড়ে সাদা শাড়ি আর সাবেকি সাজে তাঁকে দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এত কিছুর পরেও কেন সিঁদুর পরছেন তিনি?
দশমীর দিন আরবানার আবাসনে প্রতিমা বরণের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন অনিন্দিতা। প্রতি বছরের মতো এবারও বাঙালির চিরাচরিত রীতিতে মেতে উঠেছিলেন তিনি। তবে তাঁর সাজের একটি বিশেষ দিকই নজর কেড়েছিল সকলের। সিঁথিভর্তি লাল সিঁদুর। হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর যখন তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন অনিন্দিতার এই সাজ ঘিরে শুরু হয় নতুন জল্পনা। নেটমাধ্যমেও অনেকে জানতে চান, বিচ্ছেদের মামলা চলাকালীন কেন তিনি সিঁদুর পরছেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের ভাবনার কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অনিন্দিতা। তাঁর কাছে সিঁদুর শুধুমাত্র বৈবাহিক পরিচয়ের প্রতীক নয়। লাল রং তাঁর কাছে শক্তির প্রতীক। বিজয়ার সিঁদুর খেলাকে তিনি দেখেন নারীদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপলক্ষ হিসেবে। তাঁর কথায়, এক নারী যখন অন্য নারীর গালে সিঁদুর পরিয়ে দেন, তখন যেন বার্তা দেন, বিপদে-আপদে তাঁরা একে অপরের পাশে থাকবেন। নারীদের এই পারস্পরিক সমর্থনকেই বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
তবে কি কারও নামেই এখনও সিঁদুর পরেন হিরণের স্ত্রী? এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন অনিন্দিতা। তিনি জানিয়েছেন, কারও নামে নয়, নিজের ভালো লাগা থেকেই সিঁদুর পরেন। তাঁকে দেখতে ভালো লাগে বলেই এই সাজ বেছে নেন তিনি। নিজের জীবনযাপন নিয়ে এখন আর অন্যের মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না বলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, সিঁদুর পরার সিদ্ধান্তকে তিনি নিজের পছন্দ এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই যুক্ত করছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘লাল পাড় সাদা শাড়িতে সিঁদুরখেলার মুখটা মনে পড়লেই চোখে জল আসে’, বিজয়ার আনন্দেও স্ত্রী সোনালির স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ শঙ্কর চক্রবর্তী
হিরণ ও অনিন্দিতার দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে হিরণের সঙ্গে ঋতিকা গিরির বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। বর্তমানে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চললেও অনিন্দিতা নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সিঁদুরের অর্থ তাঁর কাছে বদলে গিয়েছে। অন্যের ধারণা নয়, নিজের ভালো লাগা এবং শক্তিকেই প্রাধান্য দিতে চান তিনি। আর সেই বার্তাই যেন বিজয়ার সাজে তুলে ধরলেন হিরণ-পত্নী।
