‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে এবার আবেগ আর চমক, দুইয়েরই সাক্ষী থাকলেন দর্শক। একদিকে জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত কলের বিদায়ে মন খারাপ প্রতিযোগীদের, অন্যদিকে বিশেষ ক্ষমতা পেয়ে খেলার ময়দানে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন সোনামণি সাহা। ফিনালের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রতিযোগীদের মধ্যে টিকে থাকার লড়াই। আর তারই মাঝে সোনামণির এই প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
রবিবারের পর্বে অনিরাপদ অবস্থানে ছিলেন সোনামণি সাহা, তনুশ্রী রায় দাস এবং ভরত কল। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ভোটের ভিত্তিতে শো থেকে বিদায় নিতে হয় ভরতকে। তাঁর চলে যাওয়ার খবরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ঘরের অন্যান্য প্রতিযোগীরা। নন্দিনী দত্তকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। মন খারাপ হয় দুর্নিবার সাহা এবং সৃজলা গুহেরও। ঘরের মধ্যে এতদিন যাঁকে অভিভাবকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে, তাঁর বিদায় মেনে নেওয়া সহজ ছিল না কারও পক্ষেই।
অন্যদিকে, শো থেকে বেরিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভরত কল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে সমর্থন করা এবং ভোট দেওয়ার জন্য অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর এই যাত্রা যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। এদিকে ভরতের স্ত্রী জয়শ্রীও স্বামীর বিদায়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, দর্শকদের চোখে ভরতই এই প্রতিযোগিতার প্রকৃত বিজয়ী। স্বামীর জন্য বাইরে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
তবে ভরতের বিদায়ের আবহেই সোনামণির জন্য অপেক্ষা করছিল বড় চমক। ‘দাদার দরবার’-এ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সোনামণি সাহা, মনামী ঘোষ এবং সৃজলা গুহকে সেরা পারফর্মার হিসেবে বেছে নেন। এরপর তাঁদের মধ্যে সেরার সেরা হিসেবে নির্বাচিত হন সোনামণি। পুরস্কার হিসেবে তাঁর হাতে ওঠে বিশেষ ‘স্টার’, যার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা।
আরও পড়ুনঃ ‘এখনকার বিজয়া শুধুই শুকনো আদিখ্যেতা, আন্তরিকতা নেই!’ ৯৪ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে কেন এমন আক্ষেপ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায়ের?
এই স্টারের দৌলতেই আগামী এক সপ্তাহের জন্য ইমিউনিটি পেয়েছেন সোনামণি। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে তাঁকে নমিনেট করা যাবে না। ফিনালের দৌড়ে এই সুবিধা তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই বাড়তি সুরক্ষা কাজে লাগিয়ে সোনামণি কতটা এগোতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। আগামী পর্বগুলিতে প্রতিযোগীদের কৌশল এবং পারফরম্যান্সের উপরেই নির্ভর করবে খেলার পরবর্তী মোড়।
