দর্শকের ভোট পাচ্ছে না বুঝেই ‘ঘরের মেয়ে’ সোনামণিকে বাঁচানোর নিত্যনতুন ফন্দি? স্টার জলসার সিদ্ধান্তে ক্ষু’ব্ধ বিগ বসের দর্শকরা, নেটপাড়ায় উঠছে ‘ট্রফিটা আজকেই দিয়ে দিন’ দাবি!

আগামী সপ্তাহে সোনামণি যে কোনও ভাবেই নমিনেশনে আসবেন না, এমনটাই মনে করছেন একাংশ দর্শক। তাঁদের দাবি, এর পিছনে রয়েছে সদ্য সামনে আসা একটি নতুন নিয়ম। সোনামণি ইতিমধ্যেই ইমিউনিটি পেয়েছেন বলে তাঁকে পরের সপ্তাহের নমিনেশন থেকে দূরে রাখা হতে পারে বলে ধারণা দর্শকদের। এই বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন বারবার সোনামণিকে বাঁচানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। একজন দর্শকের কথায়, তিনি ‘ফুল কনফার্ম’ যে আগামী সপ্তাহে সোনামণি কোনও ভাবেই নমিনেট হবেন না। কারণ হিসেবে তিনি ইমিউনিটি পাওয়ার বিষয়টিকেই সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, আজকের ঘটনায় আবিষ্কৃত একটি নতুন নিয়মই নাকি সেই সম্ভাবনার প্রমাণ। ফলে সোনামণির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে দর্শকদের আলোচনা।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সরাসরি চ্যানেলের দিকেও প্রশ্ন ছুড়েছেন ওই দর্শক। তাঁর অভিযোগ, সোনামণিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একের পর এক পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দর্শকের ভোট সোনামণির পক্ষে যাচ্ছে না বলেই হয়তো তাঁকে টিকিয়ে রাখার নতুন পথ খোঁজা হয়েছে। এমনকি পুরো কমেন্ট বক্সে সোনামণিকে শো থেকে বের করে দেওয়ার দাবি উঠছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, দর্শকের এই প্রতিক্রিয়া দেখার পরই কি সোনামণিকে সেভ করে রাখার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে? চ্যানেলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে এই প্রশ্নই এখন দর্শকদের একাংশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁদের অভিযোগ, অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে, সোনামণির ক্ষেত্রে কেন বারবার পরিস্থিতি আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ইমিউনিটি পাওয়ার বিষয়টিকে ঘিরে সন্দেহ আরও বাড়ছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাতে দেখা যাচ্ছে দর্শকদের।

একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ ওই দর্শক ব্যঙ্গ করে বলেছেন, সোনামণিকে যদি এতটাই বাঁচিয়ে রাখা হয়, তাহলে অন্যদের আর খেলানোর প্রয়োজন কী? তাঁর বক্তব্য, “বলছি বাকিদেরকে আর খেলাতে লাগবেনা সোনামণিকেই ট্রফিটা দিয়ে দিন।” তাঁর মতে, পরিস্থিতি দেখে ইতিমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে যে সোনামণি ছাড়া অন্য কেউ এই ট্রফি পাবেন না। তাই প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দর্শকের এই বক্তব্য আসলে চ্যানেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর তীব্র অসন্তোষকেই সামনে আনছে। বিশেষ করে নমিনেশন এবং ইমিউনিটি সংক্রান্ত নিয়মের ব্যবহার নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর দাবি, একের পর এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সোনামণিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। এ কারণেই শোয়ের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি মনে করছেন। সোনামণিকে ঘিরে এই বিতর্ক ক্রমেই আরও প্রকাশ্য হচ্ছে।

চ্যানেলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন ওই দর্শক। তাঁর প্রশ্ন, একটি চ্যানেল কতটা ‘biased’ হলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর অভিযোগ, শোটি ‘scripted’ নয় বলে দাবি করা হলেও একের পর এক ঘটনায় দর্শকদের মনে উল্টো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তিনি মনে করছেন, প্রতিযোগীদের জন্য নিয়ম এক হওয়া উচিত। কিন্তু সোনামণির ক্ষেত্রে বারবার আলাদা সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে বলেই তাঁর অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে দর্শকের ভোটের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যখন কমেন্ট বক্স জুড়ে সোনামণিকে সরানোর দাবি উঠছে, তখনই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার মতো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে চ্যানেলের সিদ্ধান্তকে তিনি কোনও ভাবেই স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখতে পারছেন না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এখন নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সবশেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই দর্শক চ্যানেলের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন, সোনামণিকে বাঁচানোর জন্য আর কত কিছু করা হবে। তাঁর বক্তব্য, যদি শেষ পর্যন্ত তাঁকেই ট্রফি দেওয়া হয়, তাহলে শুরু থেকেই তা করে দেওয়া হোক। তাহলে অন্য প্রতিযোগীদের নিয়ে এতদিন ধরে প্রতিযোগিতা চালানোর প্রয়োজন থাকছে না বলেই তাঁর মত। তিনি মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দর্শকরা অনেকটাই বুঝে গিয়েছেন যে ট্রফির দৌড়ে সোনামণিকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এই কারণেই তাঁর প্রশ্ন, “আর কত নিচে নামবেন আপনারা।” পাশাপাশি তিনি চ্যানেলকে সরাসরি বলেছেন, “এই বার থামুন।” ইমিউনিটি এবং নমিনেশন ঘিরে নতুন নিয়ম সামনে আসার পরেই এই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। তবে শেষ পর্যন্ত আগামী সপ্তাহে কী নিয়ম কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর দর্শকদের। সোনামণি সত্যিই নমিনেশন থেকে বাইরে থাকেন কি না, তা স্পষ্ট হলেই এই বিতর্কের আসল উত্তর মিলবে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page