বিগ বস বাংলার ঘরে প্রতিযোগীদের নিয়ে দর্শকদের মধ্যে চর্চা চলছেই। তবে এ বার শুধু প্রতিযোগীদের ঝগড়া, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা টাস্কের লড়াই নয়, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শোয়ের প্রতিযোগী বাছাই নিয়েও। বাংলা বিনোদন জগতে কি শুধুই টেলিভিশনের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রয়েছেন? যাত্রাশিল্পী, নাট্যকর্মী, চিত্রশিল্পী, ফ্যাশন জগতের মানুষ কিংবা মেকআপ আর্টিস্টরা কি বাংলার শিল্পের অংশ নন? তাঁদেরও তো নিজস্ব কাজের জগৎ রয়েছে, রয়েছে পরিচিতি এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। তা হলে বিগ বস বাংলার মতো একটি জনপ্রিয় মঞ্চে তাঁদের দেখা যাচ্ছে না কেন? দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিযোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির মুখগুলিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে শোয়ের বৈচিত্র্য নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বিভিন্ন পেশার মানুষকে একই ছাদের তলায় এনে তাঁদের জীবন, কাজ এবং ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার সুযোগ কি ছিল না এই অনুষ্ঠানে?
এই বিতর্কের মধ্যেই উঠে আসছে রাজবীর এবং তনুশ্রীর প্রসঙ্গ। দর্শকদের একাংশের মতে, এই দুই প্রতিযোগীকে বাদ দিলে বিগ বস বাংলার ঘরে বাংলা সিরিয়ালের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ছে। অথচ বাংলার বিনোদন জগৎ শুধু ধারাবাহিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যাত্রা, মঞ্চনাটক, স্বাধীনভাবে ছবি আঁকা, ফ্যাশন ডিজাইন কিংবা মেকআপের মতো পেশার সঙ্গেও বহু মানুষ যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের জীবনযাত্রা, কাজের ধরন এবং অভিজ্ঞতা টেলিভিশনের তারকাদের থেকে অনেকটাই আলাদা। সেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা দর্শকদের সামনে তুলে ধরলে শোয়ের আকর্ষণ আরও বাড়তে পারত বলে মনে করছেন অনেকে। শুধু পরিচিত মুখের উপর নির্ভর না করে নতুন ধরনের প্রতিযোগীদের সুযোগ দিলে দর্শকেরাও অন্য রকম অভিজ্ঞতা পেতেন। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাংলার এত বড় শিল্পজগতের মধ্যে থেকে প্রতিযোগী বাছাই করতে গিয়ে নির্মাতারা কি নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছেন?
অন্য দিকে, শোয়ের মধ্যে আউটসাইডারদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়েও দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত গণ্ডির বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদের বারবার কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রতিযোগীদের মধ্যে মতবিরোধ বা ঝগড়া হওয়া রিয়্যালিটি শোয়ের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই বিরোধের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিযোগীকে একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। দর্শকদের একাংশের দাবি, প্রতিযোগীদের বিচার হওয়া উচিত তাঁদের ব্যবহার, খেলার দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্বের ভিত্তিতে। তাঁরা কোন ইন্ডাস্ট্রি থেকে এসেছেন, কার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় রয়েছে কিংবা আগে থেকে কতটা জনপ্রিয়, সেই বিষয়গুলি যেন তাঁদের প্রতি আচরণ নির্ধারণ না করে। যদিও প্রতিযোগীদের মধ্যে যে কোনও বিরোধের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, তবু আউটসাইডারদের ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন শোয়ের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। সৌরভ এবং রণিতাকে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কৌতূহল, এই দুজনকেই কেন বেছে নেওয়া হল? বাংলার অন্যান্য ক্ষেত্র থেকেও তো নতুন মুখ আনা সম্ভব ছিল। এমন কাউকে নিয়ে আসা যেত, যিনি অভিনয়ের বাইরের কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত, অথচ নিজের কাজের জগতে যথেষ্ট পরিচিত। তাতে প্রতিযোগীদের মধ্যে নতুন ধরনের সমীকরণ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দর্শকেরাও বাংলার শিল্পের অন্য দিকগুলি সম্পর্কে জানতে পারতেন। ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রির অন্যতম উদ্দেশ্য হল শোয়ের গতিতে পরিবর্তন আনা এবং প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি করা। সেই জায়গায় একই ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখদের বারবার সুযোগ দেওয়ার বদলে ভিন্ন পেশার মানুষকে বেছে নেওয়া যেত কি না, সেই প্রশ্নই তুলছেন অনেকে। তবে সৌরভ ও রণিতাকে বেছে নেওয়ার পিছনে নির্মাতাদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় তাঁদের সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ দর্শকের ভোট পাচ্ছে না বুঝেই ‘ঘরের মেয়ে’ সোনামণিকে বাঁচানোর নিত্যনতুন ফন্দি? স্টার জলসার সিদ্ধান্তে ক্ষু’ব্ধ বিগ বসের দর্শকরা, নেটপাড়ায় উঠছে ‘ট্রফিটা আজকেই দিয়ে দিন’ দাবি!
সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার প্রতিযোগী বাছাইয়ের ধরন নিয়ে নেপোটিজমের অভিযোগ তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, এই শো কি শুধুই বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখদের জন্য, নাকি বাংলার বিভিন্ন পেশার প্রতিভাবান মানুষও এখানে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন? যাত্রা, নাটক, চিত্রকলা, ফ্যাশন এবং মেকআপের মতো পেশার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সুযোগ দেওয়া হলে বাংলার বিনোদন জগতের আরও বড় ছবি সামনে আসতে পারত। একই সঙ্গে আউটসাইডারদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। এমনকী দর্শকদের একাংশের মনে প্রশ্ন জাগছে, প্রতিযোগীদের মধ্যে থেকেই কি কাউকে বিজয়ী করার ছক তৈরি করা হচ্ছে? ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্যই কি এই বাছাই, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও পরিকল্পনা? এই অভিযোগগুলির সত্যতা অবশ্য প্রমাণিত নয়। তবে প্রতিযোগী নির্বাচন এবং শোয়ের ভিতরে তৈরি হওয়া সমীকরণ নিয়ে দর্শকদের প্রশ্ন যে বাড়ছে, তা নিয়ে আলোচনা থামছে না।
