দেবের ছবি ‘দেশু ৭’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকমহলে চর্চা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের জুটি ফিরতেই অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল প্রবল উন্মাদনা। কিন্তু ছবিকে ঘিরে সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, ছবির নেতিবাচক রিভিউ প্রকাশ করার জন্য কয়েকজন ইউটিউবারকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র সমালোচনার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার এই বিতর্কে দেবের অবস্থান ঘিরেই নতুন করে আলোচনা।
‘দেশু ৭’-এর ট্রেলার প্রকাশের আগেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন দেব। তাঁর অভিযোগ ছিল, কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও চলচ্চিত্র সমালোচককে টাকা দিয়ে ছবির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নেতিবাচক রিভিউ করানোর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, সেই রিভিউ নির্দিষ্ট চিত্রনাট্য মেনেও তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন অভিনেতা। তবে দেব স্পষ্ট করেছিলেন, দর্শক ও সমালোচকদের স্বাধীন মতামতকে তিনি সম্মান করেন। তাঁর আপত্তি ছিল অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগকে ঘিরে।
এরপর ১৬ অক্টোবর ছবিটি মুক্তি পেতেই বিতর্ক আরও বাড়ে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন ইউটিউবারকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রূপম নামে এক চলচ্চিত্র সমালোচক নিজের রিভিউয়ের ভিডিও সরিয়ে নেন। যদিও তাঁর দাবি, ছবির শুধু খারাপ দিক নয়, ভালো লাগার বিষয়গুলিও তিনি তুলে ধরেছিলেন। নিজের মতামত প্রকাশের জন্য এই ধরনের পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও ছবি ভালো লাগলে ভালো এবং খারাপ লাগলে খারাপ বলার স্বাধীনতা থাকা উচিত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউডের অন্দরেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। একাংশের মতে, পরিকল্পিতভাবে কোনও ছবির বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানো হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতেই পারে। অন্যদিকে, সমালোচকদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কারণ, কোনও ছবির সমালোচনা করা আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো এক বিষয় নয়। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করাই এখন বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আরও পড়ুনঃ ‘ইচ্ছে নদী’র পর ফের একসঙ্গে! ছোটপর্দায় ফিরছেন বিক্রম-শোলাঙ্কি? কতটা উৎসাহী দর্শকরা?
দেবের বক্তব্যের মূল সুরও ছিল সেই জায়গাতেই। অভিনেতা জানিয়েছিলেন, প্রত্যেক দর্শকের নিজস্ব মতামতকে তিনি সম্মান করেন। তবে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক রিভিউ করানোর চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে, আইনি নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক এখনও অব্যাহত। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ‘দেশু ৭’-এর সাফল্য ও দেব-শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি ছবির রিভিউ বিতর্কও এখন বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
