গা ছমছম! ফেরেন আ’ত্মারা! দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো, বাড়ির ছাদে একা বসতে ভয় পান সুদীপা! কী এমন ঘটে অভিনেত্রীর বাড়িতে? জানলে শিহরিত হবেন

দুর্গাপুজো শেষ হলেই বাঙালির মনে শুরু হয় কালীপুজোর অপেক্ষা। তবে এই দুই পুজোর মাঝের সময়টা অভিনেত্রী-সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের কাছে বেশ অন্য রকম। কারণ, এই সময়েই নাকি তাঁদের বাড়িতে ঘটে এমন কিছু ঘটনা, যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে বাড়ির ছাদে একা বসতে ভয় পান সুদীপা। এমনকি ছাদে গেলেও নাকি শরীর ভারী হয়ে আসে তাঁর। সম্প্রতি নিজের বাড়ির পুজো এবং বেশ কিছু অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে তাঁদের পরিবার।

গত ষোলো বছর ধরে সুদীপাদের বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর রীতিতে রয়েছে বেশ কিছু বিশেষত্ব। ষষ্ঠীর দিন বৈষ্ণব মতে পুজো শুরু হয়। সপ্তমীর দিন শিবের আগমনের পর পুজো হয় শৈব মতে। অন্য দিকে, সন্ধিপুজোর পর থেকে দশমী পর্যন্ত চলে তন্ত্রমতে পুজো। সুদীপার কথায়, তন্ত্রমতে পুজো শুরু হওয়ার পর থেকেই যেন বদলে যায় দেবীর মুখের অভিব্যক্তি। সেই সময় থেকেই বাড়ির পরিবেশেও আসে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো পর্যন্ত তাঁদের বাড়ির ছাদে একা বসতে পারেন না কেউ। এই সময়টা পরিবারের প্রত্যেকের কাছেই বেশ অস্বস্তিকর।

সুদীপা জানিয়েছেন, তাঁদের পারিবারিক বিশ্বাস অনুযায়ী, তন্ত্রমতে পুজো শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন আত্মা মুক্তির আশায় দেবীর চরণে এসে আশ্রয় নেন। সেই কারণেই ওই সময় থেকে বাড়ির কেউ আর প্রতিমাকে স্পর্শ করেন না। এমনকি দেবীর চারপাশ শিকল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, যাতে অন্য কেউ সেখানে যেতে না পারেন। শুধুমাত্র পুজোর দায়িত্বে থাকা পুরোহিত এবং তাঁর সহকারীই প্রতিমাকে স্পর্শ করতে পারেন। সুদীপার ব্যাখ্যা, দেবীর চরণে আশ্রয় নেওয়া আত্মাদের যাতে কোনওভাবে বিরক্ত করা না হয়, সেই কারণেই এই নিয়ম মেনে চলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা এই রীতি পালন করে আসছেন।

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভূতচতুর্দশীকে ঘিরে। সুদীপার দাবি, দুর্গাপুজোর পর থেকে ভূতচতুর্দশী পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নাকি পূর্বপুরুষদের উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন। এই সময় বাড়ির ছাদে একা বসতে গেলেই শরীর ভারী হয়ে আসে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এমন অভিজ্ঞতা একবার নয়, বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে বলেই দাবি তাঁর। কালীপুজোর আগের দিন তাঁদের বাড়িতে বিশেষ নিয়মে চোদ্দো প্রদীপ জ্বালানো হয়। পরিবারের বিশ্বাস, এই প্রদীপের মাধ্যমে চোদ্দো পুরুষের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেই সঙ্গে মেনে চলা হয় আরও একটি বিশেষ রীতি।

কালীপুজোর আগের দিন পুরোহিত এসে নিয়ম মেনে চোদ্দো প্রদীপ দেন। এরপর ধুনো জাতীয় কিছু জ্বালিয়ে গোটা ছাদ প্রদক্ষিণ করা হয়। সুদীপার কথায়, এই আচারের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের বলা হয়, পরের বছর আবার যখন মা আসবেন, তখন যেন তাঁরাও ফিরে আসেন। সব মিলিয়ে সুদীপাদের বাড়ির দুর্গাপুজো শুধুমাত্র পারিবারিক উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহুদিনের বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং কিছু রহস্যময় অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনেই কৌতূহল বাড়ছে অভিনেত্রীর অনুরাগীদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page