‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে রবিবারের ‘দাদার দরবার’ পর্বে তৈরি হল এক আবেগঘন মুহূর্ত। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন, ঘর ছাড়তে হবে নন্দিনী দত্তকে। আর সেই খবর শুনেই নিজেকে সামলাতে পারলেন না রাজবীর দে। প্রিয় মানুষকে হারানোর আশঙ্কায় হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি। সৌরভের কাছে হাতজোড় করে নন্দিনীকে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আর্জিও জানান। রাজবীরের এই কান্না এবং নন্দিনীকে বিদায় জানানোর মুহূর্ত দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেক দর্শক। তবে তখনও রাজবীর জানতেন না, তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় চমক। নন্দিনী আসলে এলিমিনেট হননি, তাঁকে পাঠানো হয়েছে সিক্রেট রুমে। এই আবেগঘন দৃশ্য এবার ছুঁয়ে গেল অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকেও।
নন্দিনীকে বিদায় জানানোর সময় রাজবীরের সঙ্গে তাঁর শেষ মুহূর্তগুলি ছিল বেশ আবেগঘন। প্রথমে নন্দিনীকে একটি শুকনো গোলাপ উপহার দেন রাজবীর। এরপর নিজের জ্যাকেট দিয়ে দু’জনের মুখ আড়াল করে চুম্বন করেন তিনি। এই দৃশ্য নিয়েই ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ তাঁদের ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ পারিবারিক বিনোদনের অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ক্যামেরার সামনে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। তবে সমালোচকদের এই মনোভাবের সঙ্গে একেবারেই একমত নন শ্রীলেখা। বরং রাজবীরের আবেগ এবং নন্দিনীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন অভিনেত্রী।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শ্রীলেখা জানিয়েছেন, রাজবীর ও নন্দিনীর প্রেমের মুহূর্ত দেখতে গিয়ে তাঁর চোখেও জল এসেছে। তাঁর কথায়, প্রেমে বিশ্বাস করতে আমরা সবাই চাই। যাঁরা এতদিন এই জুটির সম্পর্কের বিরোধিতা করছিলেন, তাঁদের অনেকের চোখেও রাজবীরের কান্না দেখে জল এসেছে। শ্রীলেখার মতে, প্রেমের পূর্ণতা যে সবসময় বিয়েতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। দু’জন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসলেই সেই অনুভূতিকে সম্মান করা উচিত। তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখনই হিসেব করার প্রয়োজন নেই। বরং যে সময়টুকু তাঁরা একসঙ্গে রয়েছেন, সেই মুহূর্তগুলিকে নিজেদের মতো করে উপভোগ করার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
রাজবীরের জ্যাকেট দিয়ে মুখ আড়াল করে নন্দিনীকে চুমু খাওয়ার দৃশ্য নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘ফ্যামিলি শোতে এসব কী’ ধরনের সমালোচনার জবাবে শ্রীলেখার বক্তব্য, জ্যাকেট দিয়ে মুখটা আড়াল করে নিশ্চয়ই নন্দিনীকে চুমু খেয়েছে। বেশ করেছে! ওরা প্রেম করেছে, বেশ করেছে। ভালোবেসেছে, বেশ করেছে। তাঁর মতে, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কারও ক্ষতি না করে নিজেদের মতো করে ভালোবাসলে অন্যদের আপত্তির কারণ থাকা উচিত নয়। এই দৃশ্য দেখে নিজের প্রথম প্রেমের স্মৃতিও মনে পড়েছে অভিনেত্রীর। চারপাশে এত নেতিবাচকতার মধ্যে দু’জন মানুষের ভালোবাসার মুহূর্তকে অকারণে সমালোচনা করার কোনও মানে খুঁজে পান না তিনি।
আরও পড়ুনঃ “সামনে কাঁদলে নাকি রাজবীর আরও ভেঙে পড়ত, এটা স্রেফ অজুহাত!” “ভালোবাসা যদি সত্যিই হতো, তবে আড়ালে গিয়ে আগে তো চোখ ফেটে জল আসত!” রাজবীর যেখানে কান্নায় নিঃস্ব হতে বসল, নন্দিনীর সেখানে এক ফোঁটাও ইমোশন নেই? সিক্রেট রুমে ‘আমিই কুইন’ অহংকারে ফুঁসছেন দর্শকরা, রাজবীরের খাঁটি ভালোবাসার সাথে কি তবে শুধুই নাটক করে গেলেন অভিনেত্রী?
এমনকী বিগ বসের বাড়ির বাইরে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক টিকবে কি না, তা নিয়েও বিশেষ মাথাব্যথা নেই শ্রীলেখার। তাঁর বক্তব্য, হয়তো বাইরে বেরিয়ে তাঁদের সম্পর্ক থাকবে না, হয়তো কিছুদিন পর সব বদলে যাবে। কিন্তু যতদিন ভালোবাসা রয়েছে, ততদিন সেই মুহূর্তগুলো উপভোগ করার অধিকার দু’জনেরই আছে। তাই রাজবীর ও নন্দিনীকে তাঁর বার্তা, ভালো থেকো, প্রেমে থেকো। অন্যদিকে নন্দিনী এখন সিক্রেট রুমে বসে বাড়ির সদস্যদের গতিবিধি দেখছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের খবর রাজবীর কবে জানতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। আপাতত শ্রীলেখার এই প্রকাশ্য সমর্থন নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ককে।
