সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে প্রমাণের প্রয়োজন নেই, আমি শুধু শান্তি চাই! ট্রোলিং ও ব্যক্তিগত বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন দিতিপ্রিয়া! বিগ বস প্রতিযোগীদের কি ক’টাক্ষ করলেন তিনি?

টেলিভিশন পর্দার জনপ্রিয় মুখ দিতিপ্রিয়া রায় ছোটবেলা থেকেই নিজের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে আমজনতার মনে একটি পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছেন। দীর্ঘ কেরিয়ারে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তেমনই সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে নেটপাড়ায় তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক ও লাগাতার সমালোচনা। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হাজারো প্রশ্ন উঠলেও তিনি নিজেকে নতুন ধারাবাহিক ‘মনসামঙ্গল’-এর কাজে পুরোপুরি ব্যস্ত করে তুলেছেন। এই সমস্ত নেতিবাচক পরিস্থিতি ও মানসিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মাধ্যমের কুরুচিকর মন্তব্য এবং নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অকপট ও খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে অকারণ প্রমাণ করার কোনো তাগিদ এই মুহূর্তে নিজের ভেতরে অনুভব করেন না দিতিপ্রিয়া। বর্তমান সময়ের ভার্চুয়াল জগৎ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “সবাই এখন সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে একটা মানুষকে জাজ করার চেষ্টা করে। তো আমার খুব একটা কখনওই মনে হয়নি যে আমার নিজেকে প্রমাণ করার দরকার আছে থ্রু সোশ্যাল মিডিয়া।” অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন যে অনলাইনের ট্রোলিং বা নেতিবাচক মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো মানুষের প্রকৃত পরিচয় তৈরি হতে পারে না। যাঁরা তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ এবং তাঁকে প্রতিদিন কাছ থেকে দেখেন, তাঁরা তাঁর আসল স্বভাব খুব ভালো করেই জানেন। তাই অনলাইনের কুরুচিকর ট্রোলের জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছে, আমার চুপ থাকা বেটার। কারণ সময়ে কথা বলে কে কীরকম, ইভেনচুয়ালি সেটা জানা যাবে।”

আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যে কোনো সফল নারীদের খুব দ্রুত কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বা জাজ করার একটা চরম প্রবণতা রয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। কোনো মেয়ে নিজের যোগ্যতায় দ্রুত সাফল্য অর্জন করলে তাঁর কঠোর পরিশ্রমকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে নেপথ্যে অন্য কারণ খোঁজার নোংরা চেষ্টা করা হয়। একজন প্রথম সারির অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও নিজের শরীর, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিলেই তাঁকে সমাজ ও নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সমাজের এই দ্বিচারিতা ও নোংরা মানসিকতা তুলে ধরে দিতিপ্রিয়ার আক্ষেপ, “একটা মেয়েকে জাজ করা অনেক বেশি। তুমি যেটাই করবে, মাঝে মাঝে মনে হয় ব্রিদ করাতেও সমস্যা আছে বোধহয় লোকের।” একজন মানুষের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করা কখনোই উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হওয়া অন্তহীন সমালোচনা প্রসঙ্গে দিতিপ্রিয়া অকপটে স্বীকার করেছেন যে নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে একদমই প্রভাবিত করে না, এমনটা দাবি করা ভুল হবে। তবে ভার্চুয়াল দুনিয়ার সেই সমস্ত নোংরা মন্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার একেবারে বিরোধী তিনি। কারণ ইন্টারনেটে নিজের সাফাই বা বক্তব্য প্রকাশ করলেই যে সমালোচকরা তা বিশ্বাস করবেন, এমন কোনো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকে না। তাই অহেতুক কাদা ছোঁড়াছুড়ির অংশ না হয়ে সব ধরণের নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিজের মতো করে শান্তিতে জীবন কাটানোই শ্রেয়। তবে কিছু স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে নীরবতা বজায় রাখা যেমন অত্যন্ত জরুরি, তেমনই ঠিক কখন ও কোথায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, সেটাও বুঝতে হবে।

বর্তমান গ্ল্যামার দুনিয়ায় টিকে থাকার ইঁদুরদৌড়ে সাফল্য, অর্থ কিংবা খ্যাতির চেয়েও মানসিক শান্তিকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখছেন দিতিপ্রিয়া রায়। জীবনের এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের কাছের মানুষদের সাথে ভালো থাকাটাকেই তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। সুখের আসল সংজ্ঞা বোঝাতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য, “আমি শান্তি চাই। আমি আমার কাছের মানুষগুলোকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই। শান্তি মানে সবসময় গাড়ি-বাড়ি, মেটেরিয়ালিস্টিক নয়। ব্যাপারটার মধ্যে একটা অন্য জিনিস আছে।” হাজারো মানুষের তীব্র সমালোচনার মাঝেও পরিবারের ও কাছের তিন-চারজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থনই একজন মানুষকে লড়াই করার শক্তি জোগায়। তাই প্রতিটি ফালতু কথার উত্তর না দিয়ে নিজের কাজ, ব্যবহার ও মূল্যবোধের মাধ্যমেই নিজের পরিচয় টিকিয়ে রাখতে চান তিনি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page