নন্দিনীকে আঁকড়ে ধরার পিছনে কি ছিল রাজবীরের একাকী হয়ে যাওয়ার ভয়? দর্শকের চোখে, এত দিন ধরে যে চাপ এবং টার্গেটিংয়ের মধ্যে রাজবীরকে থাকতে হয়েছে, সেখানে নন্দিনীই হয়তো ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই নন্দিনী যখন বিগ বসের মূল ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, তখন শুধু প্রিয় একজন মানুষকে হারানোর কষ্ট নয়, বরং আবার একা হয়ে যাওয়ার ভয়ও যেন রাজবীরের কান্নায় প্রকাশ পেল। সেই কারণেই নন্দিনীকে ঘিরে রাজবীরের আবেগকে এবার নতুন করে দেখছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁর কান্নার থেকেও বেশি নজর কেড়েছে সেই কথা, ‘এই বাড়িতে সবাই অনেক টার্গেট করে, আমি কিভাবে থাকব।’ দর্শকের মতে, এই একটি কথাতেই যেন এত দিনের জমে থাকা ভয় এবং চাপ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নন্দিনী চলে যাওয়ার পরই রাজবীরের সামনে সেই আশঙ্কাটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ তাঁর পাশে থাকা মানুষটিও আর মূল ঘরে নেই, আর সেই সুযোগেই কি গোটা বাড়ি আরও বেশি করে তাঁকে একঘরে করে দিয়েছে?
দর্শকদের একাংশের দাবি, এত দিন রাজবীরকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে নন্দিনী তাঁর কাছে শুধু সম্পর্কের মানুষ ছিলেন না, মানসিক ভরসার জায়গাও ছিলেন। গোটা বাড়ির সঙ্গে একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজবীর। তাঁকে নিয়ে হয়েছে নানা মন্তব্য, কটাক্ষ এবং তীব্র বিরোধিতা। দর্শকের দাবি, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কটূক্তি থেকে শুরু করে খাবার নিয়ে কথা, গেম নিয়ে চাপ এবং হোস্টের বকাঝকা, সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাঁকে যেতে হয়েছে। তবু রাজবীর বারবার খেলায় থাকার চেষ্টা করেছেন। নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলেও মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও নন্দিনী পাশে থাকায় হয়তো তিনি পরিস্থিতিটা সামলাতে পেরেছিলেন। তাই নন্দিনী বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়াই হয়ে উঠেছে, ‘আমি কিভাবে থাকব।’ দর্শকদের চোখে, এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এত দিনের সেই ভয়।
নন্দিনীকে হারানোর মুহূর্তে রাজবীরের কান্না তাই দর্শকদের কাছে শুধু বিচ্ছেদের আবেগ হয়ে থাকেনি। বরং তাঁর কান্নার মধ্যে উঠে এসেছে বিগ বসের বাড়িতে নিজের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও। যে মানুষটি এত দিন নানা আক্রমণের মধ্যেও প্রকাশ্যে ভেঙে পড়েননি, সেই রাজবীরই নন্দিনী চলে যাওয়ার পর নিজের অসহায়তার কথা বলে ফেললেন। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, এত দিন নন্দিনীকে আঁকড়ে থাকার অন্যতম কারণ ছিল এই ভয়, তাঁর পাশে অন্তত একজন তো আছেন। কিন্তু নন্দিনী মূল ঘরে না থাকতেই সেই নিরাপত্তার জায়গাটাই যেন সরে গেল। এরপর রাজবীরকে আরও বেশি করে টার্গেট করা হচ্ছে বলেই দাবি তাঁর সমর্থকদের। ফলে নন্দিনীর বিদায়ের মুহূর্তের কান্নাকে তাঁরা শুধু আবেগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন। বিশেষ করে ‘সবাই টার্গেট করে’ কথাটিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
দর্শকের সেই প্রতিক্রিয়ায় আরও উঠে এসেছে রাজবীরের সহ্য করে যাওয়ার প্রসঙ্গ। তাঁদের দাবি, বাড়ির একাধিক সদস্যের বিরোধিতা, বুলিংয়ের অভিযোগ, পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি, খাবার নিয়ে খোঁটা এবং নানা ধরনের অপমানজনক মন্তব্যের মধ্যেও রাজবীর খেলায় থাকার চেষ্টা করেছেন। এমনকি হোস্টের বকাঝকা বা কঠিন মুহূর্তেও তিনি গেম থেকে সরে যাননি বলেই মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই কারণেই নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটাকেও রাজবীর গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ নন্দিনী তাঁর কাছে এমন একজন ছিলেন, যার সামনে নিজের দুর্বল দিকটা প্রকাশ করতে পারতেন। এত দিন যাঁকে শক্ত থাকার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে, নন্দিনী বেরিয়ে যাওয়ার পর সেই মানুষটিই যখন কেঁদে বলে ফেললেন, ‘এই বাড়িতে সবাই অনেক টার্গেট করে, আমি কিভাবে থাকব’, তখন দর্শকদের একাংশের মনে হয়েছে, রাজবীরের আসল ভয়টা সেখানেই লুকিয়ে ছিল।
আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে প্রমাণের প্রয়োজন নেই, আমি শুধু শান্তি চাই! ট্রোলিং ও ব্যক্তিগত বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন দিতিপ্রিয়া! বিগ বস প্রতিযোগীদের কি ক’টাক্ষ করলেন তিনি?
তাই নন্দিনীকে আঁকড়ে ধরার কারণ নিয়েও এবার নতুন করে ভাবছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, সম্পর্কের আবেগের পাশাপাশি রাজবীরের মধ্যে কাজ করছিল একা হয়ে যাওয়ার ভয়ও। নন্দিনী পাশে থাকলে অন্তত একজনকে নিজের মানুষ বলে মনে করা যেত, কিন্তু তিনি চলে যেতেই রাজবীর যেন বুঝতে পারলেন, তাঁকে আবার একাই পুরো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সেই ভয় থেকেই কি এত দিন নন্দিনীকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ছিলেন রাজবীর? দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় এখন সেই প্রশ্নই সামনে আসছে। তাঁদের মতে, নন্দিনী বেরিয়ে যাওয়ার পর রাজবীরকে আরও বেশি করে টার্গেট করা হচ্ছে বলেই তাঁর অসহায়তার কথাটা এতটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে নন্দিনী আসলে পুরোপুরি ঘর থেকে বেরিয়ে যাননি, সিক্রেট রুমে রয়েছেন। ফলে রাজবীর এখনও জানেন না যে তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গাটি আসলে কাছেই রয়েছে। নন্দিনীকে ফের সামনে পেলে রাজবীরের প্রতিক্রিয়া কী হবে, এখন সেদিকেই নজর দর্শকদের।
