“একেই বলে প্রকৃত মা-বাবা!” মেয়ের ভুল স্বীকার করতে পিছপা নন রণিতার মা-বাবা! ‘খেলায় গিয়ে অন্যের সংসার নিয়ে কথা বলা উচিত হয়নি’, বিগ বসে নন্দিনীর অভিভাবকদের সঙ্গে তুলনা টেনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শকরা!

‘বিগ বস বাংলা’র (Bigg Boss Bangla) ঘরে প্রতিযোগীদের খেলা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নানা বিতর্ক। সম্প্রতি ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে ঘরে প্রবেশ করেছেন অভিনেত্রী রণিতা দাশ। আর প্রবেশের পর থেকেই নিজের কিছু মন্তব্যের কারণে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। বিশেষ করে সহপ্রতিযোগী দুর্নিবার সাহাকে তাঁর স্ত্রী মোহরকে নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। রণিতা দুর্নিবারকে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী মোহরের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। সেই কথোপকথন থেকেই তিনি বুঝেছেন, স্বামীকে নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন মোহর। কারণ, বিগ বসের ঘরে শ্রীজলার সঙ্গে দুর্নিবারের সম্পর্ক নিয়ে যে ধরনের আলোচনা চলছে, তা নিয়ে অস্বস্তিতে থাকতে পারেন তিনি। শোয়ের বিভিন্ন পর্বে দুর্নিবার ও শ্রীজলার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এমনকি শ্রীজলা সোনামণিকে জানিয়েছিলেন, দুর্নিবার নাকি তাঁকে পছন্দ করার কথা বলেছেন। এই সমস্ত বিষয়ই দুর্নিবারকে জানিয়ে দেন রণিতা। এরপর থেকেই শ্রীজলার সঙ্গে দুর্নিবারের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। যে দু’জনকে আগে বেশ ভালো বন্ধু হিসেবে দেখা যেত, তাঁদের মধ্যেই পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রণিতার এই মন্তব্য নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন তাঁর মা-বাবা। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিগ বসের ঘরে মেয়ের এই ধরনের ব্যক্তিগত কথা তুলে ধরা কতটা ঠিক হয়েছে? উত্তরে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রণিতার এই কাজটি করা উচিত হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, সব জায়গায় সব কথা বলা যায় না। বিশেষ করে অন্য কারও সংসার বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করার ক্ষেত্রে একটা সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, রণিতা যখন একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছে, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল নিজের খেলার দিকে নজর দেওয়া। অন্য প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত জীবনের কথা সেখানে তুলে ধরার প্রয়োজন ছিল না। দুর্নিবারের স্ত্রী যদি সত্যিই তাঁকে কোনও কথা জানিয়ে থাকেন, তা হলেও সেই বিষয়টি খেলার মধ্যে আলোচনা করা ঠিক হয়নি বলেই মনে করছেন তাঁরা। অর্থাৎ মেয়ের প্রতিটি কাজকে সমর্থন না করে, কোথায় ভুল হয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রণিতার অভিভাবকরা। তাঁদের এই বক্তব্যের মধ্যেই উঠে এসেছে মেয়ের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মানসিকতা।

রণিতার মা-বাবা আরও জানিয়েছেন, মেয়ের যদি দুর্নিবারকে বিষয়টি জানাতেই হত, তাহলে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পরেও তা বলা যেত। তাঁদের কথায়, রণিতা বাইরে এলে দুর্নিবারকে জানাতে পারত যে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এমন কথোপকথন হয়েছে এবং মোহর বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন। প্রয়োজনে দুর্নিবারকে এটাও জানানো যেত যে তাঁর স্ত্রী তাঁকে এই কথা পৌঁছে দিতে বলেছেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকে অন্যের সংসারের ব্যক্তিগত বিষয় তুলে ধরা উচিত হয়নি। তাঁদের মতে, একটি রিয়্যালিটি শোয়ে অংশ নেওয়ার অর্থ নিজের খেলা, নিজের অবস্থান এবং নিজের সিদ্ধান্তের উপর গুরুত্ব দেওয়া। সেখানে অন্যের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করলে তা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। মেয়ের এই আচরণকে সমর্থন না করে প্রকাশ্যেই ভুল স্বীকার করে নেওয়ায় তাঁদের বক্তব্য এখন চর্চায়। বিশেষ করে বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে পরিবারের সদস্যরা সাধারণত নিজেদের কাছের মানুষকে সমর্থন করেন, সেখানে রণিতার মা-বাবার এই অবস্থান দর্শকদের নজর কেড়েছে। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, মেয়েকে ভালোবাসেন বলেই তাঁর প্রতিটি কাজকে সঠিক বলে মেনে নিতে রাজি নন তাঁরা।

সাক্ষাৎকারের এই অংশ প্রকাশ্যে আসতেই রণিতার মা-বাবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন দর্শকদের একাংশ। সোশাল মিডিয়ায় তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে অনেকে বলছেন, একেই বলে প্রকৃত অভিভাবকত্ব। তাঁদের মতে, যে মা-বাবা প্রয়োজন হলে সন্তানের প্রশংসা করতে পারেন, আবার ভুল করলে সেই ভুলটাও বুঝিয়ে দিতে পারেন, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেন। শুধু মেয়ের পক্ষ নেওয়ার জন্য মেয়ের প্রতিটি কাজকে সমর্থন করে যাওয়া যে অভিভাবকের দায়িত্ব নয়, রণিতার মা-বাবা সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন দর্শকরা। তাঁদের বক্তব্য, সন্তানের ভালো-মন্দ দুটোই বিচার করার ক্ষমতা মা-বাবার থাকা উচিত। অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গেই দর্শকদের একাংশ নন্দিনীর মা-বাবার সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নন্দিনী দত্তের ক্ষেত্রে তাঁর অভিভাবকরা মেয়ের ভুল বা ঠিক বিচার না করেই সবসময় তাঁকে সমর্থন করে যাচ্ছেন। এমনকি মেয়ের কোনও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাঁরা সেই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না বলে দাবি দর্শকদের একাংশের। ফলে রণিতার মা-বাবার বক্তব্যের প্রশংসা করতে গিয়ে নন্দিনীর অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

দর্শকদের একাংশের মতে, বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের আচরণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়াও অনেক সময় তাঁদের মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। রণিতার মা-বাবা মেয়ের পাশে থেকেও তাঁর ভুলের জায়গাটি স্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে কোথাও মেয়েকে ছোট করার চেষ্টা নেই, বরং কোন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত ছিল, সেটাই বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। অন্যদিকে নন্দিনীর মা-বাবার ক্ষেত্রে দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, তাঁরা মেয়ের প্রতি সমর্থন দেখাতে গিয়ে ভুল-ঠিকের পার্থক্যটুকুও করছেন না। একজন অভিভাবক সন্তানের পাশে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সমর্থনের অর্থ যে সন্তানের সমস্ত কাজকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়, সেই কথাই বারবার উঠে আসছে দর্শকদের মন্তব্যে। তাই রণিতার মা-বাবার বক্তব্যকে অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে নন্দিনীর অভিভাবকদেরও মেয়ের আচরণ নিরপেক্ষভাবে বিচার করার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে বিগ বসের ঘরে রণিতা, দুর্নিবার ও শ্রীজলার বিতর্কের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে দুই প্রতিযোগীর মা-বাবার মানসিকতার তুলনাও।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page