“চোর নয়, ডাকাত”, ডিমের হিসেব নিয়ে সৃজলাকে প্রকাশ্যে অপমান! ভুল বুঝেও ক্ষমা চাইলেন না কেউ, দাদা দরবারে সোনামণি, মনামীদের জবাবদিহি চান দর্শকরা!

বিগ বস বাংলার বাড়িতে এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে সৃজলা গুহ। সামান্য কয়েকটি ডিমের হিসেব ঘিরে তাঁকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, লাইভ টেলিভিশনে সৃজলাকে চোর, ডাকাত বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার পাশাপাশি তাঁর চরিত্র নিয়েও নানা কটূক্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সোনামণি সাহা, মনামী ঘোষ, তনুশ্রী এবং নিরঞ্জনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকরা। তাঁদের মতে, সৃজলাকে কারও পছন্দ না-ও হতে পারে, তাঁর খেলার ধরন নিয়েও সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে কোনও ভুল না করেও তাঁকে এভাবে অপমান করা যায় না। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, বিগ বসের বাড়িতে কেউই সম্পূর্ণ ভুলের ঊর্ধ্বে নন। কিন্তু কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেই বিচারবুদ্ধিটুকু থাকা প্রয়োজন। তাই এবার দাদা দরবারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনা নিয়ে প্রতিযোগীদের মুখোমুখি হন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

দর্শকদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ডিম জমিয়ে রাখা নিয়ে। সৃজলা ডিম খান না, বরং নিজের জন্য জমিয়ে রাখেন। সেই হিসেবে তাঁর কাছে মোট ৫২ থেকে ৫৩টি ডিম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। হ্যালোইন টাস্কের দিন বাড়ির সমস্ত ডিম সরিয়ে দেওয়া হলে সৃজলা বুঝতে পারেন, এত ডিম যে তাঁর একার, তা অন্য প্রতিযোগীদের বোঝানো কঠিন হবে। তাই তিনি বিগ বসকে নিজের নাম লিখে ডিম পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তাঁর নামে আলাদা একটি বাস্কেট আসে। আর তা দেখেই বাড়ির কয়েকজন প্রতিযোগী আপত্তি তুলতে শুরু করেন। মনামী প্রথমে সৃজলার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর রাজবীর ভুল করে সৃজলার বাস্কেট থেকে ১৭টি ডিম নিয়ে নেন। ডিমের হিসেব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে অন্যদের বাস্কেট থেকে ডিম ফেরত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে সৃজলাকে ঘিরে শুরু হয় একের পর এক ব্যক্তিগত আক্রমণ।

এই সময় প্রতিযোগীদের মন্তব্য নিয়েই সবচেয়ে বেশি আপত্তি দর্শকদের। সোনামণিকে বলতে শোনা যায়, ‘চোর চোর না, এরা ডাকাত, এদের বাইরে না হাত পাকা করা, এইজন্যই এখানে করতে পারছে এগুলো।’ মনামী সৃজলাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কি অসভ্যটা, এটা হলো অসভ্যতার চূড়ান্ত লেভেল, অশিক্ষা, অসভ্যতা!’ নিরঞ্জনের মন্তব্য ছিল, ‘দেখো এইবার আর কি কি চুরি হয়!’ এরপর সোনামণি আরও বলেন, ‘বাড়িতে চোর পুষেছে! বিগ বস চোর পাঠিয়েছে বাড়িতে! ভাগ্যিস এখানে টাকা পয়সা আনতে দেয়নি।’ তনুশ্রীও সোনার গয়না নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘নয়তো..!! এই জন্যই সোনার জিনিস বারণ করেছে, কারন এখানে খুলে এইসব..।’ নিরঞ্জনও বলেন, ‘ভাগ্যিস আনিনি।’ এরপর সোনামণি আবার টাকা পয়সা চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দর্শকদের অভিযোগ, শুধু এই কয়েকটি মন্তব্যই নয়, আরও নানা কটূক্তি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয় সৃজলাকে। মনামী ও নন্দিনীও সেই বিতর্কে যোগ দেন বলে দাবি দর্শকদের।

কিন্তু পরে রাজবীর নিজেই এসে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করে দেন। তিনি জানান, ভুল করে সৃজলার বাস্কেট থেকে ১৭টি ডিম নিয়ে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ ডিমের হিসেবের যে গরমিল তৈরি হয়েছিল, তার কারণ ছিল তাঁর ভুল। সৃজলার কাছে সত্যিই ৫৩টি ডিম ছিল বলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। দর্শকদের বক্তব্য, রাজবীরের এই ব্যাখ্যার পর এতক্ষণ ধরে সৃজলাকে চোর, ডাকাত বলা, টাকা পয়সা ও গয়না চুরির অভিযোগ তোলা এবং তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করার কোনও ভিত্তিই আর থাকে না। অথচ এত কিছুর পরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগীদের কাউকে সৃজলার কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। এখানেই আরও বেশি ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, সামান্য ডিমের হিসেব না মেলার কারণে একজন প্রতিযোগীকে প্রকাশ্যে এভাবে অপমান করা কতটা গ্রহণযোগ্য? তাঁদের মতে, সৃজলার সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর অন্তত ক্ষমা চাওয়ার সৌজন্যটুকু থাকা উচিত ছিল। বরং এই ঘটনায় কয়েকজন প্রতিযোগীর মানসিকতা এবং আচরণ নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে নিরঞ্জনের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক দর্শক। তাঁদের বক্তব্য, এর আগে বাড়িতে চুরি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেখানে নিরঞ্জনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অথচ তিনিই আবার সৃজলাকে চোর বলে কটাক্ষ করেছেন। সোনামণি ও নন্দিনীর ব্যক্তিগত আক্রমণ, মনামীর আচরণ এবং তনুশ্রীর মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিযোগীদের একটি দল পরিকল্পিতভাবে সৃজলাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। যদিও সৃজলার খেলার ধরন বা জীতু কমলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও দর্শকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সম্প্রতি জীতুর ভালোবাসার কথা প্রকাশ এবং সৃজলার প্রতিক্রিয়া নিয়েও নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দর্শকদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, সেসব বিতর্কের সঙ্গে ডিমকাণ্ডের কোনও সম্পর্ক নেই। এই ঘটনায় সৃজলার কোনও ভুল ছিল না, অথচ তাঁকেই সবচেয়ে বেশি অপমানিত হতে হয়েছে। তাই আগামী দাদা দরবারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যদি সোনামণি, মনামী, তনুশ্রী ও নিরঞ্জনকে এই আচরণ নিয়ে প্রশ্ন না করেন, তাহলে বিগ বসের নৈতিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন দর্শকরা। তাঁদের দাবি, ভুলকে ভুল বলার সাহস দেখাক শো, প্রতিযোগীদের জনপ্রিয়তা বা পরিচিতি দেখে যেন বিচার না বদলায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page