শেষ সুযোগ পেয়েও শুধরালেন না নন্দিনী! সৃজলা, রাজবীরের সঙ্গে ফের অশান্তি, গায়ে হা’ত তুললেন প্রেমিকের!এই সপ্তাহেই কি বিগ বসের ঘর থেকে বি’দায় বিতর্কিত নায়িকার?

বিগ বস বাংলার বাড়িতে নন্দিনী দত্তকে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। সহপ্রতিযোগী রাজবীর দে-র সঙ্গে বারবার ঝামেলায় জড়ানো থেকে শুরু করে সৃজলা গুহর মা-বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, সব মিলিয়ে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছেন তিনি। এর আগেও নন্দিনীর আচরণ নিয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, খেলায় মতের অমিল বা ঝগড়া হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য অন্য প্রতিযোগীর গায়ে হাত তোলা কিংবা পরিবারের সদস্যদের অপমান করা যাবে না। রাগ বা উত্তেজনার বশে এমন আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

কিন্তু বারবার সতর্ক করার পরেও নন্দিনীর আচরণে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ। রাজবীরের সঙ্গে বিবাদের সময় তাঁকে একাধিকবার ধাক্কা দেওয়া বা গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনায় জড়াতে দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক ঝামেলায় সৃজলার মা-বাবাকে নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁদের পারিবারিক বিষয় এবং অভিভাবকদের শিক্ষা নিয়ে কথা বলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ধরনের ঘটনা নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া বা তর্কবিতর্ক স্বাভাবিক হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং শারীরিক আচরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় নন্দিনীর বিরুদ্ধে এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই বিগ বসের বাড়ি থেকে নন্দিনীর বিদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁকে সরাসরি এলিমিনেট না করে সিক্রেট রুমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে টানা ৪৮ ঘণ্টা থেকে বাড়ির বাকি সদস্যদের কথাবার্তা এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন নন্দিনী। এরপর তাঁকে আবার মূল বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। শুধু তাই নয়, ফেরার সময় তাঁকে কিছু বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। বিগ বসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নিজের খেলার ধরন এবং আচরণ শুধরে নেওয়ার জন্য এটাই তাঁর শেষ সুযোগ। এই সিদ্ধান্তের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো নন্দিনীর খেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সিক্রেট রুম থেকে ফিরে নন্দিনীও জানিয়েছিলেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন। এবার নতুনভাবে খেলায় মন দিতে চান বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে ফেরার পর ফের রাজবীরের সঙ্গে তাঁর বিবাদ শুরু হওয়ায় সেই আশা অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে। পাশাপাশি সৃজলার মা-বাবাকে নিয়ে মন্তব্যের ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। দর্শকদের একাংশের মতে, শেষ সুযোগ পেয়েও নিজের আচরণে বদল আনতে পারেননি নন্দিনী। তাই এবার তাঁকে আর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও বিগ বস কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও তাঁর সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে নন্দিনীর এলিমিনেশন নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে টিভি নাইন বাংলার সাংবাদিক ভাস্বতী ঘোষের সাম্প্রতিক সমাজমাধ্যমের পোস্ট। প্রতি সপ্তাহে বিগ বস বাংলার সম্ভাব্য এলিমিনেশন নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টের বক্তব্য দেখে দর্শকদের একাংশের ধারণা, সেখানে নন্দিনীর বিদায়ের কথাই বোঝানো হয়েছে। যদিও পোস্টে সরাসরি তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ফলে এই সপ্তাহে নন্দিনী দত্তের বিগ বসের বাড়ি থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ সুযোগ পেয়েও আচরণ না বদলানোর কারণে কি এবার সত্যিই বাড়ি ছাড়তে হবে তাঁকে? সেই উত্তর মিলবে আগামী পর্বগুলিতেই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page