মাত্র পনেরো বছর বয়সেই টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক “কুসুম”-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তনিষ্কা তিওয়ারি। একদিকে ধারাবাহিকের শ্যুটিং, অন্যদিকে সিবিএসসি বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষা, এই দুটি কাজের ভার সামলাতে গিয়ে ১৪-১৫ ঘণ্টা শ্যুটিং সেটে কাটিয়েছেন। এতটুকু সময়ও মিস করেননি পড়াশোনা। আর তার ফলাফলও ছিল অসাধারণ। ৭৯ শতাংশ নম্বর নিয়ে সফলভাবে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্য পেয়ে তনিষ্কা সবার আগে জানতে পারেননি নিজের ফলাফল।
বাবা-মা তাঁকে ফল জানাতে ফোন করলে, তিনি সেটি ধরতে পারেননি। পরে ধারাবাহিকের সহ-অভিনেতা সপ্তর্ষি তাঁর ফল জানাতে এসে তাঁকে অবাক করে দেন। পরীক্ষার ফলাফল শোনার পর প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন তনিষ্কা। তবে পরে তাঁর ভাইবোনরা ফোন করে জানায় যে, সে ৭৯ শতাংশ পেয়ে পাশ করেছে। তনিষ্কা জানান, শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে ফলাফল সম্পর্কে আগে কিছু জানতেন না। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে সময় পেলেই বই নিয়ে বসে পড়াশোনা করতেন। এমনকি পরীক্ষার পরেও দ্রুত শ্যুটিংয়ে চলে যেতেন।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার, তাই কষ্ট হলেও সবকিছু হাসিমুখে সামলেছেন। এবার প্রশ্ন, সাফল্যের পর তনিষ্কা কী পেলেন উপহার? তাঁর বাবা জানিয়েছেন, তনিষ্কা খেতে খুব পছন্দ করে। তাই শ্যুটিংয়ের ফাঁকে তাকে ভালো কোন রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়ে খাওয়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যে কিছু সময় বের করে পরিবারকে নিয়ে ঘুরতেও যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তনিষ্কার মা জানিয়েছেন, উচ্চমাধ্যমিকে কুসুম কলাবিভাগে পড়াশোনা করবে।
এরপর ফিল্ম স্টাডিজ নিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করবেন। তনিষ্কার মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের প্রচুর পরিশ্রমের কথা। তিনি লিখেছেন, “তোমার কঠোর পরিশ্রম, ১৪ ঘণ্টা শ্যুটিং, রাত জেগে পড়াশোনা, দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা বিশ্রাম—সবসময় তোমার এই চেষ্টা দেখেছি। যাদের ধারণা ছিল যে, ধারাবাহিকে কাজ করতে গিয়ে তুমি পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না, তাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছো। তুমি আসলেই এক জন যোদ্ধা, তনিষ্কা।”
আরও পড়ুনঃ ‘কমলা নিবাস’-এ এন্ট্রি নিচ্ছে নতুন নায়ক! ঝিনুকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে আসছে কোন সেই রূপকথার রাজপুত্র?
মায়ের এই কথাগুলো তনিষ্কাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। অবশেষে, তনিষ্কার বাবা-মা একসাথে জানান যে, তারা তাঁর সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত। কুসুমের চরিত্রে তনিষ্কা যে পরিশ্রম করেছেন এবং কঠিন সময়ে সফল হয়েছেন, তা তার পরিবার অত্যন্ত প্রশংসা করেন। তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে তনিষ্কা আরো বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে।
