বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মহুয়া রায় চৌধুরী এক সময় একাধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। তার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও সংগ্রাম তুলে ধরতে নির্মিত হচ্ছে ‘গুনগুন করে মহুয়া’ বায়োপিক। এই ছবির মাধ্যমে মহুয়া রায় চৌধুরীর জীবনের গল্প বিশ্বর সামনে আসবে। তবে, মহুয়ার জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। মহুয়া যেভাবে বড় মাপের অভিনেত্রী হয়েছিলেন, তার পেছনে অনেকটা অবদান ছিল সন্ধ্যা রায়ের। বায়োপিকে, এই চরিত্রে অভিনয় করবেন ঋদ্ধিমা ঘোষ।
মহুয়া রায় চৌধুরীকে বড় পর্দায় তুলে ধরতে যখন নির্মাতা তরুণ মজুমদার তার প্রশিক্ষণদাতার খোঁজ করেছিলেন, তখন সন্ধ্যা রায়ের হাত ধরেই মহুয়া নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। একদিকে, মহুয়া ছিলেন প্রতিভাবান অভিনেত্রী, অন্যদিকে, নাচের ক্ষেত্রেও তার দক্ষতা ছিল চমকপ্রদ। নাচ শিখে না আসলেও, তিনি অতি সহজেই তা করতে পারতেন। মহুয়া চৌধুরীর জীবনে সন্ধ্যা রায়ের ভূমিকা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, তাকে মহুয়ার গুরু বলা চলে।
‘গুনগুন করে মহুয়া’ ছবিতে, ঋদ্ধিমা ঘোষ সন্ধ্যা রায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন, এবং এর জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঋদ্ধিমা জানিয়েছেন, পুরনো সময়ের নায়িকাদের কেমন ছিলেন, সে বিষয়ে কিছুটা কল্পনা করেই তিনি চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যা রায়ের সাথে মহুয়া রায় চৌধুরীর সম্পর্কের খুঁটিনাটি নিয়ে তিনি বিস্তারিত গবেষণা করেছেন, যাতে চরিত্রটি যথাযথভাবে পর্দায় আসতে পারে।
ঋদ্ধিমা ঘোষ বলছেন, যে ব্যাপারে মহুয়া রায় চৌধুরী এবং সন্ধ্যা রায়ের সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত, সেগুলি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরো জানান, এই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন প্রাক্তন নায়িকাদের জীবনের দিকগুলো জানার চেষ্টা করছেন, তেমনি বর্তমান দর্শকদের জন্য সেই যুগের অনুভূতি সঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এই প্রকল্পে তার কাজ নিয়ে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত।
আরও পড়ুনঃ “উনি আমাকে এক অদ্ভুত নে’শায় আসক্ত করেছিলেন” ‘বিপ্লবদা’-কে হারিয়ে দিশেহারা জিতু! হোটেল আড্ডা আর সত্যজিৎ-উত্তম নিয়ে আলোচনার স্মৃতি ভাগ করে, কী আবেগঘন বার্তা ‘অপরাজিত’ অভিনেতার?
ঋদ্ধিমা ঘোষের কথা অনুযায়ী, সন্ধ্যা রায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পারা তার জন্য অনেক বড় একটি সম্মান। তিনি আশা করছেন, দর্শকরা এই চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা দেখাবেন এবং তার অভিনয় ভালোভাবে গ্রহণ করবেন। এই বায়োপিকের মাধ্যমে মহুয়া রায় চৌধুরীর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দর্শকদের সামনে আসবে, এবং ঋদ্ধিমার দক্ষতা এতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, এমনটা বিশ্বাস করছেন চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই।
