জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“কাউকে ফোর্স করার জায়গা নেই…” কেন মিঠাইয়ের রিইউনিয়ানে দেখা যায় না সৌমিতৃষাকে? দূরত্ব কি এতটাই বেড়েছে, নাকি নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন? অবশেষে অভিনেত্রীকে নিয়ে মুখ খুললেন আদৃত রায়!

বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠাই’ একসময় দর্শকদের ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছিল। ‘সুখে-দুখে মিষ্টি মুখে মিঠাই’—এই ট্যাগলাইন শুধু একটি সংলাপ ছিল না, বরং দর্শকদের আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। উচ্ছেবাবু আর মিঠাইরানির খুনসুটি, ভালোবাসা আর পারিবারিক গল্প মন ছুঁয়েছিল সবার। আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই জুটির জনপ্রিয়তা অটুট, এবং অনেকেই চান আবার তাঁদের একসঙ্গে দেখতে।

তবে ক্যামেরার সামনে যতটা মিষ্টি ছিল এই সম্পর্ক, ক্যামেরার বাইরে ততটা সহজ ছিল না বলেই শোনা যায়। শুটিং চলাকালীন সময় থেকেই সৌমিতৃষা কুণ্ডু ও আদৃত রায়ের মধ্যে দূরত্ব নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়। বন্ধুত্বের থেকেও বেশি কিছু রয়েছে বলেও গুঞ্জন উঠেছিল একসময়। যদিও এই বিষয়ে কেউই সরাসরি কিছু স্বীকার করেননি। ধারাবাহিকের শেষের দিকে নাকি সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়ে। পাশাপাশি, কৌশাম্বী চক্রবর্তীর সঙ্গে আদৃতের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও স্টুডিওপাড়ায় নানা আলোচনা হয়।

সম্প্রতি নতুন ছবির শুভ মহুরতে এই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন আদৃত রায়। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “সৌমিতৃষার সঙ্গে আমার সেরকম কোনও ঝামেলা হয়নি। যদি সত্যিই বড় ধরনের সমস্যা থাকত, তাহলে আমরা কি ২.৫ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করতে পারতাম?” তাঁর কথায়, দু’জনেই পেশাদার হিসেবে নিজেদের কাজ করেছেন, আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি আরও বলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে আসা মানেই যে সবাইকে বন্ধু বানাতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। আদৃতের কথায়, “আমরা এখানে কাজ করতে আসি, বন্ধু বানাতে নয়। আমার নিজের অনেক পুরনো বন্ধু আছে, যাদের সঙ্গে আমি সময় কাটাই। ইন্ডাস্ট্রির সবার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়তেই হবে, এমনটা আমি মনে করি না।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ব্যক্তিগত দূরত্ব থাকলেও পেশাগত ক্ষেত্রে তাঁরা কখনও আপস করেননি।

এছাড়াও ‘মিঠাই’ টিমের রিইউনিয়নে সৌমিতৃষার অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল বারবার। সেই প্রসঙ্গে আদৃত জানান, তাঁদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে যেখানে সকলেই যুক্ত আছেন। মাঝেমধ্যে রিইউনিয়ন হলেও সেখানে আসা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, “যারা আসতে চায়, তারা আসে। কাউকে জোর করে আনা যায় না। যারা নিজে থেকে দূরে থাকতে চায়, তাদের বাড়ি থেকে তুলে আনা সম্ভব নয়।”

সব মিলিয়ে, পর্দার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব সম্পর্ক নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। তবে আদৃতের এই বক্তব্যে অন্তত এটুকু স্পষ্ট—ঝামেলার গুঞ্জন থাকলেও, তা তাঁদের কাজের পথে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page