১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই, বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী মারা যান। সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি তাঁর একমাত্র শিশুপুত্র তমালের দুধ গরম করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত পুড়ে মারা যান। তবে মহুয়ার মৃত্যু নিয়ে অনেক দিন ধরেই নানা গুঞ্জন এবং রহস্য ছিল। নানা প্রশ্নের উত্তর মেলেনি, এবং আজও সেই রহস্য অনেকের মনেই রয়ে গেছে। তবে এবার, ৪১ বছর পর মহুয়ার মৃত্যুর কারণ এবং তাঁর জীবন নিয়ে একটি নতুন চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে, যা হয়তো শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজক রানা সরকার এবং পরিচালক রাজদীপ ঘোষ মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনের আলো এবং অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরবেন। ছবির কেন্দ্রে থাকবে মহুয়ার মৃত্যু রহস্য এবং তার পেছনের গল্প। চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন গৌরব চক্রবর্তী, যিনি পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করবেন। গৌরব বেশ কিছু জনপ্রিয় সিরিজ এবং সিনেমায় তদন্তকারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এবং এ ছবিতেও তাঁর উপস্থিতি গল্পের কাহিনিকে এগিয়ে নেবে। তিনি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দর্শকদের মহুয়ার মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করবেন।
এ ছবিতে মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা যাবে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে, যিনি চরিত্রে অভিনয় করবেন ঋদ্ধিমা ঘোষ। এই ছবির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের উপস্থিতি আরও বেশি করে দেখানো হচ্ছে, কারণ পরিচালক রাজদীপ ঘোষ মনে করেন, বড় পর্দায় নতুনদের ব্যবহার করা উচিত। যদিও কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে, তবে এই প্রকল্পে প্রযোজক রানা সরকার এবং পরিচালক রাজদীপ নতুনদের সুযোগ দেয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শুটিংয়ের প্রথম দিকের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, এবং বাকি কাজ আগামী ২০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ছবির ৫০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। ছবির গানের রেকর্ডিংও শুরু হবে শীঘ্রই, যেখানে পুরনো মহুয়ার জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি নতুন গানও থাকবে। তবে মহুয়ার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ছবিতে কোন স্পষ্ট উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হবে কিনা, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা আছে। প্রযোজক এবং পরিচালক জানান, তাঁরা মূলত মহুয়ার জীবনের ওপর ভিত্তি করে ছবি বানাচ্ছেন এবং তাঁর মৃত্যু ঘিরে যে রহস্য জন্ম নিয়েছে, সেই বিষয়ে যতটা সম্ভব বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।
এ ছবির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মহুয়া রায়চৌধুরীকে জানতে পারবে, যিনি বাংলার সিনেমায় এক বিশেষ জায়গা অর্জন করেছিলেন। প্রযোজক রানা সরকার এবং পরিচালক রাজদীপ ঘোষ দুজনেই বলেছেন যে, ছবির মূল লক্ষ্য হল মহুয়ার জীবন এবং তাঁর সঙ্গে জড়িত প্রশ্নগুলো উত্তর দেওয়া, যেন বর্তমান প্রজন্ম তার সম্পর্কে জানতে পারে। সুতরাং, ছবিটি শুধু মহুয়ার জীবনকেই নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কেও পর্দায় জীবন্ত করে তুলবে।
