আগামী শুক্রবার, অর্থাৎ ৯ মার্চ সামাজিকভাবে এক হতে চলেছে ছোটপর্দার পরিচিত মুখ ‘অনন্যা গুহ’ (Ananya Guha) এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘সুকান্ত কুণ্ডু’ (Sukanta Kundu)। যদিও আইনি দিক থেকে তাঁরা এক বছর আগেই স্বামী-স্ত্রী, তবু সামাজিকভাবে সব রীতি মেনে বিয়ের আসরে বসার আনন্দটা আলাদা। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি নীরবে রেজিস্ট্রি সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা। পরে সেই ছবি আসতেই, বিয়ে নিয়ে উৎসাহ বেড়েছিল অনুরাগীদের মধ্যে।
এই বছর একই তারিখে দুজনের উদযাপনের ছবিকে সবাই অনেকেই ভেবেছিলেন বাগদানের বর্ষপূর্তি, কিন্তু সুকান্ত নিজেই জানান ওটাই ছিল তাঁদের বিবাহবার্ষিকী! এই মুহূর্তে বিয়ের আগে প্রস্তুতির ব্যস্ততা তুঙ্গে। অনন্যা জানাচ্ছেন, কেনাকাটার বড় অংশ ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছেন। বরং এখন বেশি মনোযোগ সঙ্গীতের নাচের মহড়ায়। হলদি, সংগীত, বিয়ে আর বিদায়, প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা সাজ ঠিক করা হয়ে গেছে।
কেমন লাগবে বিশেষ দিনগুলোতে, বরবেশে সুকান্তকে কেমন দেখাবে? এসব ভাবনাতেই তিনি বেশি উত্তেজিত। মন খারাপের বদলে তাঁর কথায় বরং নতুন জীবনের শুরু নিয়ে আনন্দটাই বেশি। তবে এই আনন্দের মাঝেও একটু আবেগ লেগেই আছে পরিবারে। বিশেষ করে অনন্যার বাবার মনে নাকি আলাদা টানাপোড়েন কাজ করছে। মেয়েকে ছাড়া কীভাবে থাকবেন? সেটাই ভাবিয়ে তুলছে তাঁকে। মেয়ের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হলেও বাবা-মায়ের কাছে তো সে চিরকালই ছোট্ট।
তাই খুশির সঙ্গেই মিশে থাকছে হালকা কষ্টও। খাবারের মেনুতেও থাকছে বাঙালিয়ানার ছাপ। পোলাও-মাংস থেকে শুরু করে ভাত-মাছ মিলিয়ে একেবারে ঘরোয়া আয়োজন। জমকালো আয়োজনের বদলে নিজেদের মতো করে, আপনজনদের নিয়ে অনুষ্ঠান সারতে চান তাঁরা। যেহেতু রোজনামচার অনেকটাই ভ্লগে ভাগ করে নেন, তাই বিয়ের প্রস্তুতির খুঁটিনাটিও অজানা থাকেনি অনুরাগীদের কাছে। কার্ড থেকে শুরু করে পরিকল্পনা, সবই ধীরে ধীরে প্রকাশ পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “একসময় ছোটপর্দায় এত জনপ্রিয় ছিলাম, এখন কাজ পাচ্ছি না!” ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন এনা সাহা! তিন বছরে আসেনি একটাও ডাক, কোনও গোষ্ঠীর অংশ নন বলেই কি একঘরে?
প্রসঙ্গত, বিয়ে নিয়ে নানান মন্তব্যও শুনতে হয়েছে তাঁদের। কেউ কেউ সম্পর্ক টিকবে না বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই সুকান্ত স্পষ্টভাবে জানান, তাঁদের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই এক বছর পার করেছে। আইনি বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবার জানত তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা। তাই একসঙ্গে সময় কাটানো বা ঘুরতে যাওয়া নিয়ে কোনও ভুল বোঝাবুঝি ছিল না। নিজেদের পরিবার ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রেখেই তাঁরা পথ চলেছেন, এই কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দু’জনেই।
