জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

গভীর রাতে সরকারি কলেজে অযাচিত প্রবেশ! অরিজিৎ সিংয়ের বাড়িতে গিয়েই বিতর্কে জড়ালেন আমির খান!

চলতি সপ্তাহে বলিউড ও বাংলা দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন আমির খান ও অরিজিৎ সিং। মুম্বই থেকে সোজা মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে পৌঁছে টানা তিন দিন বহরমপুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে ছিলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট। এই কয়েক দিনে কখনও অরিজিতের বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়ানো, কখনও আবার তাঁর স্টুডিওয় দীর্ঘ সময় কাটানো, এমন নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। দুই তারকার বন্ধুত্বপূর্ণ সময় কাটানোর ছবি দেখে অনুরাগীরা আপ্লুত হলেও, সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হল বিতর্ক।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ ওঠে, গভীর রাতে অরিজিৎ সিং আমির খানকে সঙ্গে নিয়ে জিয়াগঞ্জের একটি সরকারি কলেজে প্রবেশ করেন। অভিযোগ শুধু প্রবেশ নয়, অনুমতি ছাড়াই সেখানে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানো, ব্যাডমিন্টন খেলা এবং শুটিং করার মতো কার্যকলাপও করা হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়ায় এলাকার একাংশের মধ্যে। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে রাতের অন্ধকারে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ঢোকার অনুমতি পেলেন দেশের দুই প্রথম সারির তারকা।

এই ঘটনায় সরব হন রানি ধন্যা কুমারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও অনুমতি ছাড়াই রাত একটার পর প্রায় দশটি মোটর সাইকেল নিয়ে আমির খান ও অরিজিৎ সিং কলেজ চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট সেখানে কাটানোর পর রাত দুইটা পঁচিশ নাগাদ তাঁরা বেরিয়ে যান। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজেই নাকি এই সমস্ত ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ে, যা থেকেই ভিডিওগুলি প্রকাশ করা হয়েছিল।

ভিডিও পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে হঠাৎ করেই সেই পোস্ট আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অধ্যক্ষ নিজেই জানান, তিনি বাধ্য হয়েই ভিডিওগুলি ডিলিট করেছেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও তিনি ইঙ্গিত দেন যে উপরমহল থেকে চাপ ও অনুরোধ দুটোই আসছিল। এই ঘটনাই নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢালে এবং প্রশ্ন ওঠে, আদৌ কি প্রভাবশালী তারকাদের জন্য নিয়ম আলাদা।

এই ঘটনার পর থেকেই নেটপাড়ায় তর্ক তুঙ্গে। কেউ প্রশ্ন তুলছেন সরকারি কলেজে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের বৈধতা নিয়ে, আবার কেউ বলছেন শুটিং সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আমির খান বা অরিজিৎ সিংয়ের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। বন্ধুত্বের মুহূর্ত থেকে শুরু করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এই ঘটনা আপাতত রাজ্য রাজনীতির বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল আর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page