জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’কে (Jowar Bhanta) ঘিরে এবার শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে এই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই ধারাবাহিকের গল্প বা কোনও পর্দার ঘটনা। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী ‘চাঁদনী সাহা’র (Chandni Saha) একটি দীর্ঘ পোস্ট ঘিরেই তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। পোস্টে তিনি কারও নাম উল্লেখ না করলেও, শুটিং ফ্লোরে ফোন হাতে নিয়ে কনটেন্ট তৈরির একটি প্রবণতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। অনেকের মতে, ধারাবাহিকের সেটে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করেন এমন কাউকেই হয়তো উদ্দেশ্য করে এই বক্তব্য রাখা হয়েছে।
নিজের পোস্টে চাঁদনী লেখেন, বর্তমান প্রজন্মের সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর আচরণ অনেক সময় তাঁর কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হয়। তিনি জানান, শুটিং ফ্লোরে অনেকেই ফোন হাতে নিয়ে হঠাৎ করে ভিডিও বা স্টোরি করতে শুরু করেন, অথচ সেই সময় ফ্রেমে উপস্থিত অন্য শিল্পীদের সম্মান বা ব্যক্তিগত পরিসরের কথা ভাবেন না। তাঁর কথায়, “কেউ ফোন হাতে নিয়ে ফ্লোরে ঢুকে সবার ওপর ক্যামেরা ধরে র্যা’ন্ডম স্টোরি করছে, এবং কোনো সম্মান নেই যে ফ্রেমে সিনিয়রেরাও আছেন। তারা স্রেফ কেয়ারই করে না।” এই প্রবণতা কাজের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি বিহাইন্ড দ্য সিন কনটেন্ট তৈরির সময় সকল শিল্পীর যথাযথ পরিচয় বা কৃতিত্ব না দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি তোলেন অভিনেত্রী।
পোস্টের আরও একটি অংশে চাঁদনী স্পষ্টভাবে লেখেন, “বেবি গার্লস অ্যান্ড বয়েজ, তোমরা তখন মার্কেটে ছিলে না, বস, যখন আমরা কাজ করেছি।” তাঁর বক্তব্য, যাঁদের নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, তাঁদের নাম উল্লেখ করার ন্যূনতম সৌজন্যতাও অনেক সময় দেখা যায় না। শুধু তাই নয়, শুটিং ফ্লোরে শিল্পীদের অপ্রস্তুত মুহূর্ত, অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গেল বা ব্যক্তিগত অবস্থাও ভিডিওর অংশ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের আচরণকে তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না বলেও স্পষ্ট জানান। এমনকি প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ক্যামেরার সামনে এ ধরনের কনটেন্টের অংশ হতে অস্বীকার করবেন বলেও সতর্ক করে দেন অভিনেত্রী।
চাঁদনী আরও লেখেন, “তোমরা আসার আগেই মানুষ আমাদের চিনে গেছে।” তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অন্য শিল্পীদের ব্যবহার করার প্রবণতা ঠিক নয়। তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকলে সরাসরি কথা বলা যেতে পারে, কিন্তু শুটিং ফ্লোরকে কনটেন্ট তৈরির জায়গা বানানো উচিত নয়। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে সম্মান, পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রসঙ্গ। তাই এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টেলিভিশন মহল এবং দর্শকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দাদাগিরি, দিদি নাম্বার ওয়ান থেকে রান্নাঘর…বদলেছে মুখ, এমনকি ফরম্যাটও! বছরের পর বছর এক মুখের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি কি মুছে যাবে এত সহজে? আপনাদের কী মনে হয়, নতুন মুখের হাত ধরে কি বাড়বে জনপ্রিয়তা, নাকি হারাবে সেই চেনা ম্যাজিক?
তবে বিতর্ক আরও বেড়ে যায় যখন ওই পোস্টে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। তিনি লেখেন, “সম্মান? সেটা আবার কি? এখন কেউ কাউকে সম্মান করেনা। না-তো ছোটরা বড়দের, না-তো বড়রা ছোটদের।” শ্রুতির এই মন্তব্যও দ্রুত নজর কাড়ে নেটিজেনদের। এরপর থেকেই অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, চাঁদনীর পোস্ট এবং শ্রুতির মন্তব্য কি শুধুই একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনও অন্দরমহলের গল্প? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিকের কোনও শিল্পীর তরফে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করা হয়নি। ফলে জল্পনা আপাতত চলছেই।
