জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ এই মুহূর্তে পল্লবীর জীবনে যেন একসঙ্গে অনেকগুলো পরিবর্তন এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সাগরের মৃ’ত্যুর পর তার বাড়িতে তৈরি হয়েছে সম্পত্তি নিয়ে নতুন সমীকরণ, অন্যদিকে তার নিজের পরিবারও সেই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে নানান আশা-আকাঙ্ক্ষায় ভাসছে। সম্প্রতি সাগরের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হলে প্রথমে যেতে চাইছিল না পল্লবী। কারণ আগেরবার সেখানে গিয়ে অপমানিত হতে হয়েছিল তাকে। পরিবারের সকলের উদ্বেগ এতটাই ছিল যে শেষ পর্যন্ত বড় দাদাকে সঙ্গে নিয়েই সে সেখানে পৌঁছায়। আর তারপরই সামনে আসে এমন এক তথ্য, যা শুনে উপস্থিত সবাই কার্যত হতবাক হয়ে যায়।
সাগরের উইলে স্পষ্ট জানানো হয়, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি এবং আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পল্লবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণায় যেমন পল্লবী অবাক হয়ে যায়, তেমনই নিজেদের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে দেখে সুপর্ণা ও সানির মুখের অভিব্যক্তিও বদলে যায়। আজকের পর্বে দেখা যায়, বাড়ি ফিরে এই খবর জানানোর পর পল্লবীর পরিবারে খুশির পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে তার বড় দাদা মনে করতে শুরু করেন, এতদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হতে পারে। বহুদিন ধরে যে ‘কমলা নিবাস’ গড়ার কথা তাঁরা ভেবেছিলেন, সেটি আর অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে না।
কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেই ভিন্ন সুর শোনা যায় রাজুর গলায়। সে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেয়, পল্লবী কখনও ব্যক্তিগত লাভের জন্য সাগরের সম্পত্তি গ্রহণ করবে না। এই মন্তব্যে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পল্লবীর বড় দাদা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অপমান করে রাজুকে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। রাজুর মন ভেঙে যায় এই ঘটনার পর। সে মনে করে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বড়দের কাছ থেকে নানান কটূক্তি শুনে আসছে, আর সেই পরিস্থিতি সহ্য করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে। কান্নায় ভেঙে পড়া রাজুকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন কমলা। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, সব সমস্যার সমাধান সময়ের সঙ্গে হবে।
রাজুও তখন নিজের মনের কথা খুলে বলে। সে জানায়, আর কারও ওপর নির্ভর করে থাকতে চায় না, নিজের যোগ্যতায় কাজ করে রোজগার করতে চায়। এদিকে অন্যদিক থেকেও চাপ বাড়তে থাকে পল্লবীর ওপর। সুপর্ণা বারবার ফোন করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায় পল্লবী। পরে কমলা নিজেই ফোন ধরে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফোনে কোনও আলোচনা হবে না। যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সামনাসামনি বসেই কথা বলতে হবে। এর মধ্যেই বাড়িতে আসেন পুরোহিতমশাই। তিনি কমলাকে পরামর্শ দেন শিব-পার্বতীর পুজো দেওয়ার জন্য।
আরও পড়ুনঃ মুখোশের সঙ্গে ফ্রিতে বডি ট্রান্সফরমেশন! ‘ঋষি নিজেও ভির্মি খাচ্ছে এসব দেখে’, ‘বিজ্ঞানের কি উন্নতি, এক মুখোশ পরেই হাইট-বডিও বদলে যাচ্ছে, প্রথমবার দেখলাম!’ ‘জোয়ার ভাঁটা’র নতুন লজিক দেখে চক্ষু চড়কগাছ নেটিজেনদের, হাসাহাসির ঝড় নেটপাড়ায়!
তাঁর বিশ্বাস, ভক্তিভরে পুজো করলে সংসারের অশান্তি ও বিপদ অনেকটাই দূর হবে। একই সময়ে আদিত্যও নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে মনে লুকিয়ে রাখা অনুভূতি আর গোপন না রেখে এবার পল্লবীকে নিজের মনের কথা জানাবেই বলে ঠিক করে সে। এরপর দেখা যায় মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়বে পল্লবী। কয়েকজন দু’ষ্কৃতী তাকে ঘিরে অশা’লীন আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় যখন একজন তার ওড়না টেনে ধরার চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে বাইক নিয়ে পৌঁছে যায় আদিত্য। উড়ে আসা ওড়না তার মুখে এসে পড়তেই সে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং একাই গুন্ডাদের মোকাবিলা করে পল্লবীকে রক্ষা করে।
