জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গল্পকে নতুন মোড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, রাস্তায় ঝিনুককে কয়েকজন বখাটে উত্ত্যক্ত করলে এক মুহূর্তও দেরি না করে তার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় সম্রাট। ঝিনুককে বাঁচাতে গিয়ে সে নিজেই ছুরির আঘাতে আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সম্রাটকে দেখে ঝিনুক আর নিজেকে সামলাতে পারেনি। নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে তার হাতে ব্যান্ডেজ করে দেয় সে। এই ঘটনায় শুধু সম্রাটের সাহসই নয়, ঝিনুকের মনের পরিবর্তনেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি দেখে রণজয়ের মুখের অভিব্যক্তিও বুঝিয়ে দেয়, এই দৃশ্য তাকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছে।
অন্যদিকে, আহত হওয়ার পর ঝিনুক যখন নিজেকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করতে শুরু করে, তখন সম্রাট তাকে থামিয়ে দেয়। সে স্পষ্ট জানায়, অন্যায় করেছে যারা, দোষও তাদেরই। একজন মেয়ের কোনও পরিস্থিতিতেই নিজেকে দোষী ভাবার প্রয়োজন নেই। সম্রাটের এই কথাগুলো তার ব্যক্তিত্বের এক অন্য দিক তুলে ধরে। এতদিন তার নানা ভুল দর্শক দেখলেও, এই ঘটনায় ঝিনুকের পাশে যেভাবে সে দাঁড়িয়েছে, তাতে বোঝা যায় ঝিনুককে নিয়ে তার অনুভূতি অনেক গভীর। একইসঙ্গে তাকে হারানোর ভয়ও সম্রাটের আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিকে পরিবারের অন্য দিকেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রীতির উৎসাহে শান্তনু নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগও শুরু করেছে। মনে করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত শান্তনুর জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তবে একই সময়ে সমরও বীণার নামে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তার এই পদক্ষেপের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। ফলে আগামী দিনে এই বিষয়টি পরিবারে নতুন সমস্যা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
ওদিকে, সম্রাটকে ঘিরে ঘটনার পর ঝিনুকের মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন দু’জনের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, এই ঘটনার পর তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। সম্রাটের প্রতি ঝিনুকের উদ্বেগ এবং তার প্রতি যত্ন নেওয়ার দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে রণজয়ও এই পরিবর্তন বুঝতে পেরে ভিতরে ভিতরে অস্বস্তিতে পড়েছে। ফলে এই ত্রিকোণ সম্পর্ক আগামী পর্বে আরও জটিল হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘদিন পর ফের ছোট পর্দায় ফিরছেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়! জমাটি ভিলেন না হাসিয়ে দর্শকদের মন মাতাবেন? কোন চ্যানেলের কোন ধারাবাহিকে এন্ট্রি নিচ্ছেন অভিনেতা?
অন্যদিকে, পল্লবী আদিত্যকে মারধরের জন্য সুপারি দেওয়ার পর আদিত্য নিজের শরীরেই আঘাত নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়েই পাত্রীপক্ষ আদিত্যদের বাড়িতে আসার কথা থাকে। তাই বাড়ির সবাই মিলে অসুস্থ আদিত্যকে জোর করে স্নান করিয়ে প্রস্তুত করার চেষ্টা করে। একদিকে সম্রাট-ঝিনুকের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ, অন্যদিকে শান্তনু ও সমরের পরিকল্পনা, আর তার সঙ্গে আদিত্যকে ঘিরে নতুন নাটকীয় পরিস্থিতি, সব মিলিয়ে আগামী পর্বে দর্শকদের জন্য একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার অপেক্ষা করছে।
