জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) গল্প এখন একসঙ্গে একাধিক দিকে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক পর্বে যেমন আদিকে নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে, তেমনই সম্রাট ও ঝিনুকের দাম্পত্য সম্পর্ক আরও অস্বস্তিকর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, ভাঙা হাত নিয়ে আচমকাই পল্লবীর বাড়িতে হাজির হয় আদি। কিন্তু কীভাবে তার এই অবস্থা হল, সেই সত্যিটা কাউকেই জানায় না। বরং বাড়ির সবার সামনে সে দাবি করে, কোনও এক গোপন শত্রুর জন্যই তার এমন দশা হয়েছে। আদির মুখে এই কথা শুনে বাড়ির সকলে অবাক হয়ে যান। সবচেয়ে বেশি রেগে যান ঠাম্মি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেই ব্যক্তির খোঁজ পেলেই নিজে গিয়ে তার উচিত শিক্ষা দেবেন।
আদির এই বানানো গল্পে বাড়ির লোকজন বিশ্বাস করলেও দর্শকদের কাছে পরিষ্কার, সে এখনও আসল ঘটনাটা গোপন রেখেছে। অন্যদিকে, সম্রাটের আচরণ দিন দিন আরও অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। ঝিনুককে নিয়ে তার অকারণ সন্দেহ এবং অধিকারবোধ এখন প্রায় সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। ঝিনুক যদি নিজের বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটায় বা তাঁদের কাছে স্বাভাবিকভাবে হাসিখুশি থাকে, সেটাও সম্রাটের সহ্য হয় না। তার মনে হয়, ঝিনুক তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তার সঙ্গে সুখে নেই। এমনকি বাড়ির অন্য সদস্যদের সামনেও ঝিনুককে সম্মান না দিয়ে অপমানজনক আচরণ করতে দেখা যায় তাকে।
এই পরিবর্তন দর্শকদেরও চোখ এড়ায়নি। অনেকেই মনে করছেন, সম্রাটের চরিত্রে যে উগ্র মানসিকতা দেখানো হচ্ছে, তা গল্পকে অন্য মাত্রা দিলেও চরিত্রটিকে ক্রমশ নেতিবাচক করে তুলছে। এদিকে ধারাবাহিকের অন্য ট্র্যাকেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। চম্পা হঠাৎ জানতে পারে, রাজু কথা বলতে বা শুনতে পারে না। এতদিন তাকে ভুল বুঝে এসেছিল সে। সত্যিটা জানার পর চম্পার মধ্যে অনুশোচনা তৈরি হয়। এরপর রাজুর ব্যবহার, সরলতা আর ভালো মনের পরিচয় একে একে সামনে আসতে শুরু করে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মানুষ হিসেবে রাজু কতটা সংবেদনশীল এবং সৎ, সেটা উপলব্ধি করতে শুরু করে চম্পা।
ফলে এই দুই চরিত্রের সম্পর্কও এখন নতুন দিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে শ্রীনিবাস ও কমলা সম্রাট-ঝিনুককে অষ্টমঙ্গলার নিমন্ত্রণ জানালে সম্রাটের ভয় আরও বেড়ে যায়। তার আশঙ্কা, বাপের বাড়িতে গিয়ে ঝিনুক যদি এতদিনের সমস্ত অপমান, অত্যাচার আর তার অস্বাভাবিক আচরণের কথা পরিবারের সবাইকে জানিয়ে দেয়, তাহলে তার মুখোশ খুলে যাবে। এই আতঙ্কই তাকে ভিতরে ভিতরে অস্থির করে তুলেছে। বাইরে যতই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুক, নিজের কাজের পরিণতি নিয়ে সে স্পষ্টই ভয় পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “২০১২ সাল থেকেই তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছি’ন্ন করেছি, স্বরূপ বিশ্বাস আমার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছিলেন, তারপরই…..” স্বরূপের জন্যই কি ক্রমশ অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিলেন লোকেশ ঘোষ? কেন এমন বিস্ফো’রক দাবি করলেন অভিনেতা?
এরপর দেখা যায়, অষ্টমঙ্গলার জন্য সম্রাট ও ঝিনুক অবশেষে ঝিনুকের বাপের বাড়িতে পৌঁছেছে। রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সময় শ্রীনিবাস ও কমলা জানতে চান, শ্বশুরবাড়িতে সে ভালো আছে কি না এবং সম্রাট তাকে ঠিকমতো যত্ন করছে কি না। কিন্তু সেই কথোপকথনের সময় জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে সবকিছু আড়ি পেতে শুনতে থাকে সম্রাট। তার মুখে তখন স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ, হাতও কাঁপতে দেখা যায়। এখন দেখার বিষয়, ঝিনুক কি এবার নিজের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের কথা বাবা-মায়ের সামনে খুলে বলবে, নাকি আগের মতোই সব কষ্ট লুকিয়ে সম্রাটের পক্ষেই কথা বলবে।
