জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমি বিশ্বাসঘাতক নই নিশা…” নিশা নিজের হাতে সিঁদুর পরতেই বদলে গেল জিতের চোখের ভাষা! একদিকে নিশার পরিস্থিতি, অন্যদিকে ভালোবাসা ভুলে কঠোর অফিসার জিতের অসহায়তা দেখে আবেগপ্রবণ ‘জোয়ার ভাঁটা’র দর্শক!

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’র (Jowar Bhanta) সাম্প্রতিক পর্ব সম্প্রচারের পর সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জিৎ বসু চরিত্রকে ঘিরে। বিশেষ করে রেজিস্ট্রির পরপরই গল্পে যে নাটকীয় মোড় এসেছে, তা দর্শকদের যথেষ্ট চমকে দিয়েছে। অনেকের মতে, এই পর্বে অভিনেতা ফাহিম মির্জা যতটা সময় পর্দায় পেয়েছেন, তার প্রতিটি মুহূর্ত তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতায় স্মরণীয় করে তুলেছেন। একদিকে নিজের পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ভালোবাসা, এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা জিৎকে যেভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শকদের নজর কেড়েছে। পর্ব সম্প্রচারের পর থেকেই তাঁর অভিনয় নিয়ে প্রশংসার ঢেউ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে।

দর্শকদের একাংশের মতে, এই পর্বে একজন সৎ এবং কর্তব্যপরায়ণ অফিসারের প্রকৃত চেহারা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। জিৎ জানত তার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তিগত জীবনে বড় মূল্য দিতে হতে পারে, তবুও সে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়নি। অনেকেই লিখেছেন, ভালোবাসার মানুষকে সামনে রেখেও আইন এবং কর্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার দৃশ্যগুলো যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য লেগেছে। বিশেষ করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশাকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত দর্শকদের অবাক করেছে। তবে সেই মুহূর্তে জিতের মুখের অভিব্যক্তি এবং সংলাপহীন অভিনয়কে অনেকে পর্বের অন্যতম সেরা অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে জিৎ চরিত্রের আবেগের পরিবর্তনের বিষয়টিও। কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটিকে প্রেমে ডুবে থাকতে দেখা গিয়েছিল, মুহূর্তের মধ্যে সেই মানুষই কঠোর এবং দৃঢ়চেতা অফিসারের ভূমিকায় চলে যায়। দর্শকদের মতে, এই রূপান্তরটিই সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল। কারণ এখানে শুধু রাগ বা কঠোরতা দেখালেই হতো না, ভিতরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণা এবং দ্বন্দ্বও প্রকাশ করতে হতো। অনেকেই মনে করছেন, ফাহিম সেই জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং চরিত্রের জটিল আবেগগুলো খুব স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে নিশার প্রতিক্রিয়ার দৃশ্যেও জিৎকে ঘিরে দর্শকদের আবেগ স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। অনেকের মতে, যখন নিশা নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের হাতে সিঁদুর পরে, তখন জিতের চোখেমুখে আবার অন্য এক অনুভূতি ধরা পড়ে। সেখানে আর কঠোর অফিসার নয়, বরং ভালোবাসায় আঘাত পাওয়া একজন মানুষের ছাপ দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন, জিতের চোখ যেন বারবার বলতে চাইছিল, “আমি বিশ্বাসঘাতক নই নিশা।” সংলাপের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল সেই নীরব অভিব্যক্তি, যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে।

এই কারণেই এখন দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তাঁরা এর আগেও বহু অভিনেতাকে দেখেছেন, কিন্তু জিৎ বসু চরিত্রটি আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ফাহিম মির্জার অভিনয়ের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল এই পর্ব। ভালোবাসা, দায়িত্ব, যন্ত্রণা এবং কর্তব্যবোধের মতো একাধিক অনুভূতিকে একসঙ্গে ধারণ করা সহজ নয়, কিন্তু তিনি তা সফলভাবেই করেছেন বলে মত দর্শকদের। তাই ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ গল্প কোন দিকে এগোবে তা নিয়ে যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনই জিৎ বসু চরিত্রটিও ধীরে ধীরে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিচ্ছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page