জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’তে (Tare Dhori Dhori Mone Kori) এখন গল্প এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে অতীতের ছায়া আর বর্তমানের সংঘাত একসঙ্গে মিশে এক ঘন কালো মেঘ জমাচ্ছে। গোরাচাঁদের জীবনে রূপমঞ্জুরীর স্মৃতি কখনও মুছে যায়নি, সেই জায়গাতেই দিতির আগমন। চেহারায় মিল থাকলেও দিতি আলাদা মানুষ, তবু ধীরে ধীরে সে যেন রূপের সত্ত্বাকেই অজান্তে আপন করে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনটা কেবল আবেগের নয়, বরং রহস্যময় কিছু ঘটনার ইঙ্গিতও বহন করছে।
ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক প্রোমোতে সেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। হঠাৎ করেই পুলস্ত্য তার মা-বাবাকে নিয়ে নবদ্বীপের ব্রজধামে, অর্থাৎ গোরাদের বাড়িতে হাজির হয়। বহুদিন পর নিজের ভিটেতে ফিরে আসার কথা জানিয়ে সে দাবি করে, তার বাবা পুলন্দর গোস্বামী নাকি গোরার দাদুর ভাইপো! অতীতে অন্যায়ভাবে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, এবার তারা ফিরেছে নিজেদের প্রাপ্য অধিকার বুঝে নিতে। পরিস্থিতি দেখে গোরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়ে, কারণ এতদিন এই ইতিহাস তাঁর অজানাই ছিল।
কিন্তু বিষয়টি কেবল সম্পত্তির দাবিতেই থেমে থাকে না। পুলস্ত্য সবার সামনে দিতির পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সে এই বাড়িতে থেকে প্রমাণ করতে চায়, গোরার স্ত্রী হিসেবে যে রয়েছে সে রূপ নয়, বরং তারই বাগদত্তা অদ্বিতীয়া! এই দাবির মধ্যেই তৈরি হয় তীব্র অস্বস্তি। দিতির হাত ধরে নিজের বক্তব্য জোরদার করতে গেলে সে সপাটে চড় মারে পুলস্ত্যকে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে পরস্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়ার আগে ভাবা উচিত। নিজের পরিচয় ঘোষণা করে সে বলে, সে গোরাচাঁদ গোস্বামীর স্ত্রী রূপমঞ্জুরী গোস্বামী!
এই দৃশ্যেই যেন গল্প নতুন মোড় নেয়। এর আগেই সাধুদের দেওয়া ইঙ্গিত, পুরনো পুঁথি ‘ফুল ও মুমারি কাব্য’-র কাহিনি, আগের জন্মের অসমাপ্ত প্রেম মিলিয়ে গোরা ও দিতির সম্পর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছিল। ফুল-মুরারির অতীত, মালা আর ষড়যন্ত্রকারী ভাই অক্ষয়ের প্রসঙ্গ আর বর্তমান জীবনে পুলস্ত্যের ভূমিকা, সবকিছুই যেন অদ্ভুতভাবে জুড়ে যাচ্ছে! ফলে পুলস্ত্যের এই প্রত্যাবর্তন কেবল পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং বহু জন্মের জটিল সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসেবেও ধরা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ হিরের নেশা এমনই! চোখে হিরে খচিত সানগ্লাস, হাতে ৫.২ ক্যারেট আংটি! জোজোর বিলাসী রুচির ঝলক ভাইরাল ভিডিওতে, দাম শুনে চোখ কপালে নেটিজেনদের!
এখন প্রশ্ন, পুলস্ত্যের দাবির পেছনে সত্যিই কি লুকিয়ে আছে অতীতের অন্যায়, নাকি সবটাই নতুন কোনও চক্রান্ত? দিতির দৃঢ় অবস্থান গোরাকে কতটা শক্ত করবে, আর ব্রজধামের অন্দরে কীভাবে বদলাবে সমীকরণ? সেটাই এখন দেখার। তবে কি পুলস্ত্যও জেনে গেল তাঁর পূর্বজন্মের রহস্য? এরপর কি হবে জানতে হলে ধারাবাহিকের ‘টানটান পাঁচ দিন’ অর্থাৎ ১৮ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত চোখ রাখতেই হবে ধারাবাহিকের পর্বে।
