টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিকের চরিত্রগুলি দর্শকের মনে বিশেষ স্থান দখল করে। সেই চরিত্রগুলির মধ্যে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজা’ চরিত্রটি এক সময় দর্শকের হৃদয়ে নিজেকে স্থাপন করেছিল। ছোট পর্দার জুটি ‘রাজা-মাম্পি’ বা ‘রাম্পি’ দর্শকদের মধ্যে ছিল ভীষণ জনপ্রিয়। রুকমা রায়ের সঙ্গে তার কেমিস্ট্রি দর্শকের কাছে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে রয়ে গেছে। পরে তারা একসঙ্গে ‘লালকুঠি’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছিলেন। এই জুটি বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় জুটির মধ্যে ধরা হতো।
রবিবার বিকেলে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলাকালীন তালসারির সমুদ্রে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাহুল। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই শিল্পী মহলে এবং দর্শকদের মধ্যে গভীর শোক নেমে আসে। রুকমা রায় এখনও এই খবর বিশ্বাস করতে পারছেন না। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, বন্ধুদের ফোনে প্রথমে খবরটি শোনার পরও তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে রাহুলের ড্রাইভার বাবলু দার কাছ থেকে সঠিক তথ্য জানতে পারেন।
রুকমা জানান, “শোনার পর আমার হাত-পা কাঁপছিল। এমনটা কল্পনাও করা যায় না। রাহুলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেবল কাজের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি কাজের বাইরে ও আমাকে খুব স্নেহ করতেন। ছোট ছোট কাজের প্রশংসা করতেন, আর আমি মজা করে বলতাম এত বড় করে বলবেন না। আমার জন্য তিনি সবসময় উন্মুক্ত ছিলেন। তার পড়াশোনা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা সব কিছুই অনন্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একসঙ্গে মেকআপ রুম শেয়ার করেছি। কাজের বাইরে ওর সঙ্গে আমি খুব আরামবোধ করতাম। মজার মজার মিম পাঠাতাম, তিনি ও আমাকে পাঠাতেন। আমার পডকাস্টেও এসে আমি তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পেরেছি। তিনি সত্যিই একজন দারুণ মানুষ ছিলেন। আমার এক সপ্তাহ আগের কথোপকথনে ও বলেছিল নতুন একটি শাড়ির আইডিয়ার কথা ভাবেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেটা আর শোনার সুযোগ হলো না।”
আরও পড়ুনঃ “ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম…অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল, তখন তো সব শেষ” শুটিংয়ের মাঝেই রাহুল অরুণোদয়ের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যু, ঘটনার সত্যতা নিয়ে মুখ খুললেন ড্রাইভার বাবলু দাস!
রুকমা বলেন, “এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। জানি না ওর প্রিয় মানুষেরা কেমন আছেন। ওর অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীর শোকে মুড়িয়ে দিয়েছে। টেলিভিশন জগতের একজন স্বতন্ত্র শিল্পীকে হারানো আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। দর্শকরা ওর অভিনয় কখনও ভুলবে না। রাহুল দার মৃত্যু বাংলার ছোট পর্দার জগতে শূন্যতা তৈরি করেছে।”
